শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী

তামাদ্দুন ডেস্ক : মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী। বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও দাঈ হিসেবে সুপরিচিত এক ইসলামী ব্যক্তিত্ব। নিজের যোগ্যতা ও মেধার কারণে তিনি আজ বিশ্বপরিমন্ডলে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার’ হিসেবে বিশেষভাবে সমাদৃত। মাওলানা শহীুল ইসলাম ফারুকী বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ায় পিএইচডি রিসার্চ ফেলো হিসেবে আছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ল্যাংগুয়েজ এন্ড প্রি-ইউনিভার্সিটি একাডেমিক ডেভেলোপমেন্ট’ থেকে তিনি ‘আরবী’ ও ‘ইংরেজি’ ভাষার উপর পৃথক দু’টি কোর্স এবং ‘ওয়ামী’র অধীনে ‘গবেষণাপদ্ধতি’র উপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তারুণ্যীপ্ত গবেষক আলেম হিসেবে মাওলানা ফারুকী ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রখ্যাত উলামায়ে কিরামসহ বিশ্বের প্রথিতযশা ইসলামিক স্কলারদের বিশেষ স্নেহধন্য সোহবত ও তাঁদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রতিভাবান প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ আলেমেদীন মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী বাংলাদেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার ছাতিয়ান গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা একজন ধর্মানুরাগী, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। পারিবারিকভাবে তাঁর লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হয়। এরপর উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সান্নিধ্যে থেকে মোহাম্মদপুরস্থ জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়ায় অত্যন্ত সুনাম ও কৃতিত্বের সাে হিফজুল কোরআন থেকে শুরু করে ‘সানুভিয়া উল্ইয়া’ (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি জমান বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ ভারতের দারুল উলূম ওেবন্দে। সেখানেই তিনি অত্যন্ত সুনাম ও কৃতিত্বের সঙ্গে ‘দাওরায়ে হাদীস’ (মাস্টার্স) সমাপ্ত করেন। এরপর ভারতের লাখনৌস্থ দারুল উলূম নওয়াতুল উলামায় আরবী ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে লেখাপড়া করেন এবং ঢাকার ারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (অনার্স) ও এম.এ (দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ) সম্পন্ন করে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আনওয়ারীর অধীনে ‘এমফিল’ করেন।

রাজধানীর মিরপুরস্থ মাদরাসা দারুর রাশাে যোগদানের মধ্য দিয়ে মাওলানা ফারুকীর কর্মজীবনের শুরু। সেখানে তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে হাদীস, তাফসীর ও আরবী সাহিত্যের শিক্ষকতা করেন। মিরপুরস্থ ারুল উলূম মারাসায়ও তিনি হাদীস ও আরবী সাহিত্যের শিক্ষকতা করেন। এরপর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়েরাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে এবং দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপনা করেন। কর্মজীবনে প্রবেশের পরই পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন রাজধানীর বড়কাটরা মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদীস আল্লামা তফাজ্জল হুসাইন রহ. এর নাতনীর সঙ্গে।

ছাত্র জীবনেই তিনি জগদ্বিখ্যাত আলেমেদীন আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর রচনাবলী ও চিন্তাধারায় আকর্ষিত হয়ে তাঁকে ‘আদর্শ’ হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর তিনি আধ্যাত্মিক ীক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে শায়খ আবুল হাসান আলী নভী রহ. এর ভাগ্নে ও স্থলাভিষিক্ত খলীফা আল্লামা সাইয়েদ মুহাম্মদ রাবে’ হাসানী নদভীর আধ্যাত্মিক শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর থেকে খেলাফত লাভ করেন। শায়খ নদভী রহ. এর আরেক খলীফা মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান সাহেব এবং মজলিসে াওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীর ও যাত্রাবাড়ী মারাসার প্রিন্সিপাল মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূুল হাসান সাহেবও তাকে খেলাফত প্রান করেছেন। বর্তমানে তিনি উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানÑ ‘শায়খ আবুল হাসান আলী নদভী ইসলামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিরুলিয়া, ঢাকা’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, সেন্টার ফর মাকাসিদুশ শরীআহ স্টাডিজের পরিচালক, শায়খ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আধ্যাত্মিক সংগঠনÑ ‘পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ’ এর আমীর এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক ও গবেষণাধর্মী সংগঠনÑ ‘লন্ডনভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফোরাম বাংলাদেশ ব্যুরো’র সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন। বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রপত্রিকা ও জার্নালে নিয়মিত লিখছেন। মালয়েশিয়ার গবেষণা আরবী জার্নাল ‘আল-হাদীসে’ তার আরবী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতি, ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জীবনবোধ নিয়ে ২০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা ও অনুবাদ করেছেন তিনি। আরবী ভাষায় ‘আল-মাদখাল ইলা মাকাসিদিশ শরীআহ’ নামে তার একটি গবেষণা গ্রন্থ রয়েছে। তার একাধিক গ্রন্থ ইতিমধ্যেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী একজন আন্তর্জাতিকমানের গবেষক ও ইসলামিক স্কলার। তরুণ বয়সেই বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী এ আলেম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করে দেশ-বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের মুখ সমুজ্জ্বল করে চলেছেন। পাশাপাশি অর্জন করেছেন ভূয়ুসী প্রশংসা ও সম্মান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ২০১২ সালে মালয়েশিয়ার কেলান্তান প্রদেশের রাজ্যসভার স্পীকার ড. আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুব নদভীর াওয়াতে কেলান্তান রাজ্যসভার পার্লামেন্টে বক্তৃতা করেন এবং কোহ প্রদেশের মা’হাদুত তারবিয়াহ’র উলামা সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৩ সালে াইল্যান্ডের ব্যাংককে ‘থাই-মুসলিম (টিএম) টিভি’র রাতের লাইভ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন। ২০১৪ সালের ১২, ১৩ ও ১৪ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার স্টেট ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ‘ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ২০১৫ সালের ১৪ ও ১৫ জানুয়ারী সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এশিয়া রিসার্চ ইনিস্টিটিউটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ায় ইসলামী সাম্প্রদায়িকতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে ‘আন্তর্জাতিক গবেষক’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।

অধ্যাপনা, গবেষণা ও লেখালেখির পাশাপাশি উদার, প্রগতিশীল ও উজ্জ্বল চিন্তার অধিকারী এ তরুণ আলেমেদীন শুধু নিজের সাফল্য ও ভবিষ্যত নিয়েই ভাবেন না, বরং আরো বেশি ভাবছেন দেশ, জাতি ও সমাজ নিয়ে। কারণ ব্যক্তিউন্নয়নের চেয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে তিনি বেশি আন্তরিক। তাই সামাজিক ময়দানেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন অবিরামভাবে।

একজন আলেমের কাছ থেকে যা অন্তত আমাদের সমাজের অনেক বড় পাওয়া। আর এসবের কারণে ইতোমধ্যেই তিনি একজন সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। মাদরাসা ও সাধারণ উভয় ধারার ডিগ্রিধারী এ তরুণ আলেমেদীন সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষার আলো পৌছে দিতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানায় নিজ এলাকায় ছেলে ও মেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন পৃথক পৃথক মাদরাসা ও এতিমখানা। এ ছাড়াও  কুষ্টিয়ার মিরপুর-ভেড়ামারার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও এতিমখানার সাে জড়িত আছেন তিনি। সমাজের গরীব, দুখী ও অসহায় মানুষের পাশে সাধ্যমতাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সমাজের প্রতিটি পর্যায়ে ইসলামের াওয়াত ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে একজন আলোকিত শিক্ষাবি, দাঈ ও সমাজসেবক হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন মাওলানা শহীুল ইসলাম ফারুকী। তামাদ্দুন পরিবার তার সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য