শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

তারেক মনোয়ারেরা নিম্নবর্গের নায়ক ।। পিনাকী ভট্টাচার্য

আমি ভাবছিলাম ওয়াজ নিয়া সাম্প্রতিক হাসাহাসির ঘটনায় কিছু বলবো না। কিছু কইলেই আমার প্রিয় স্যেকুলার (!) কুল উনাদের পোগতিশিলতা মারাইতে গিয়া বয়ান দিবেন আমি মৌলবাদ তোষণ করতেছি।

যাই হোক পড়েছি যখন মোগলের হাতে তখন তো খানা খেতে আমার আপত্তি করা উচিৎ না। স্যেকুলারকুল আমারে মৌলবাদি তোষক কওয়ার প্রস্তুতি নেন স্ট্যাটাস পড়ার দরকার নাই।

এইবারে আসেন আসল আলাপে।

ওয়াজ নিয়া এই আলাপ শুরু হইলো কখন থিকা? যখন ওয়াজে আওয়ামী লীগ নেতারা তার নেত্রীর গুণকীর্তন করতে যাইয়া প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তেছিলো। আমার সংগ্রহেই কয়েকটা ওয়াজের ভিডিও আছে যেখানে মঞ্চে চান্স নিয়া বক্তব্য দিতে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতার "আমাদের নেত্রী পরপর তিনবারের প্রধানমন্ত্রী" বলার সাথে সাথে পুরা ওয়াজ মাহফিল প্রতিবাদে বিষ্ফোরিত হইছে।

তাই আমি টাইমিংটা মিলায়ে দেখতেছিলাম।

আমাদের স্যেকুলারকুল অভিযোগ করতেন এবং আমি এই অভিযোগের সাথে একমত যে কিছু ওয়াজে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো হয়। কিন্তু এখন দেখেন যেই দুইজনকে নিয়ে কথা হচ্ছে হাসাহাসি হচ্ছে সমালোচনা হচ্ছে তাদের কেউই কখনো সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াইছে এইটা কেউ দেখাইতে পারে নাই। তাইলে কেন এই দুইজনকে নিয়া পড়লো এরা?

প্রশ্নটা এইখানেই।

উনাদের নিয়া পড়লো কারণ এই দুইজন উনাদের (গ্রান্ড আওয়ামী বলয়) জন্য পলিটিক্যালি পটেনশিয়াল থ্র‍্যাট হইয়া উঠছিলেন।

ওয়াজ কি শুধুই ধর্ম? এইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। ধরেন বিষাদ সিন্ধু কী ইতিহাস? বা পুথি পাঠ পাচালি কি ধর্ম?

পুথি পাচালির যেমন ধর্মকে আশ্রয় করে বিকাশ হয়, তার কাঠামোটা থাকে ধর্মের কিন্তু বাকীটা আর্ট, ঠিক তেমনি জনপ্রিয় ওয়াজগুলোর কাঠামো ধর্মের কিন্তু বাকীটা কালচার বা আর্ট।

এই আর্টে তাহেরি, তারেক, আজাহারি নায়ক। এটা উনাদের একাংকিকা। তারাই সংলাপ বানান, তারাই প্রক্ষেপন করেন। উনাদের স্ক্রিপ্ট রাইটার লাগেনা, সেট লাগেনা কথা দিয়েই শ্রোতারে এক অলীক জগতে নিয়া যান আর সেইখানে ঘন্টার পর ঘন্টা মন্ত্রমুগ্ধের মতো আটকায়ে রাখেন।

সেই অর্থে তো একজন রাজনৈতিক নেতাও পার্ফর্মিং আর্টিস্ট। তিনি যখন গলা কাপায়ে হাজার বছরের গল্প শুনান তখন কি সেই গল্প সত্য কিনা খুঁজতে যান?

বামপন্থীরা যখন বলে, লাখো শহীদ ডাক পাঠালো সব সাথীদের খবর দে। তখন কি আপনি যাইয়া জিগান, ভাই লাখের হিসাবটা মিলায়ে দেন?

ওয়াজ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আগে গ্রামে গঞ্জে জনপ্রিয় ছিলো যাত্রা। বাংলাদশের সবচেয়ে সফল যাত্রাপালা ছিলো সিরাজুদ্দৌলা। আনোয়ার হোসেন সিরাজ হইতেন। ছোটবেলায় আমাদের পাঠ্য বইয়ে সিরাজের যেই ছবি ছিলো সেইটা আসলে আনোয়ার হোসেনই। আনোয়ার হোসেন নিজেও অভিনয় করতে করতে নিজেরে বাংলার নবাব বলে মনে করতেন। একদিন অভিনয়ের মাঝে লাঞ্চে তার খাবার প্রথমে না দেয়ায় তিনি প্লেট ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। উনি নাকি এই ঘটনার সাফাই হিসেবে বলছিলেন বাংলার নবাব হিসেবে উনার আগে আর কাউরে খাবার দেয়া তিনি মাইন্যা নিতে পারেন নাই। উনারে কি আমরা কেউ কইছি, ভাই আপনে কিন্তু বাংলার নবাব না।

তারেক মনোয়ার রকেটে চড়ছেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলছেন, অক্সফোর্ডের তিন তিনবার সেরা টিচার হইছেন এইটা তো উনার শ্রোতাদের হজম করতে সমস্যা হয় নাই। আপনার কেন হইতেছে?

আপনি কইতে পারেন, মিছা কথা কেন কইবে? কিন্তু আপনি কি বলিউড, হলিউডের মিথ্যার খাতক না? আপনারে কেউ কইছে পয়সা দিয়া আপনি এই মিছা জিনিসগুলা দেখেন কেন?

তারেক মনোয়ারেরা নিম্নবর্গের নায়ক। তিনি তাদের নায়ক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলছেন উনাদের শ্রোতাদের কাছে, বাংলাদেশের জন মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় পারফর্মিং আর্টের মাধ্যমে। উনারা তাই রকেটের গল্প করলে উনার শ্রোতারা হাসেন না। আনোয়ার হোসেনরে ঠিক যেভাবে বাংলার নবাব ভাবতে তাদের কোন সমস্যা হয়না।

আপনি হাসেন, আপনি অন্যরে হাসায়ে উনাদের ডিলিটিমাইজ করতে চান কারণ ওই মাহফিলগুলাতে আরো একটা ফ্যাক্ট নিয়া মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাইতেছে। সে কইছে, তারে ভোট দিতে দেয়া হয় নাই। তাই আপনি ফিকশনের গল্প তুইল্যা ফ্যাক্টকে ঢাকতে চাইতেছেন।

আপনারে আমরা চিনি। আপনি কাশি দিয়া পাদের শব্দ ঢাকতে চান। কিন্তু দুর্গন্ধ ঢাকবেন কী দিয়া?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ