শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ফেসবুকে বিচারক হতে কোন যোগ্যতা লাগে না

সুহাইল ইসলাম : ফেসবুকে প্রতিটি আইডির মালিক একেকজন বিচারকের ভূমিকা পালন করেন। বাদী-বিবাদীর পোস্ট পড়ে তিনি হুকুম লাগিয়ে দেন। এক বিষয়ে একাধিক পোস্ট এখানে সাক্ষ্যের ভূমিকা পালন করে। যে পক্ষে পোস্ট যত বেশি সে পক্ষের বিচারকগণ তত কঠিন ফায়সালা করেন।

কখনো আবার আইডির মালিক ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তখন তিনি নিজেই বাদী। নিজেই বিচারক। বিবাদীর এখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ নাই। বরং তার হুকুম মেনে নিতে বিবাদী বাধ্য।

ফেসবুকের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যা ততটা গভীর ছিল না। কিন্তু কেউ যখন ফেসবুকের পক্ষ বিপক্ষের যুক্তি সামনে রেখে কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কোন ফায়সালা করেন, তারপর বাস্তবে সেই ফায়সালা মানার জন্য অন্যকে বাধ্য করতে চান তখনই বাঁধে বিপত্তি।

এই ফেসবুক নামক আদালতে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের কোন মানদণ্ড নাই। কোন অপরাধের জন্য কী হুকুম প্রয়োগ করা হবে সে ব্যাপারে কোন নীতিমালা নাই। ফলে যার আকল যে ফায়সালা দেয় তিনি ফেসবুকে সেই ফায়সালা শুনিয়ে দেন। এখানে সেলিব্রেটি এবং শায়খরা সিনিয়র বিচারপতি বা প্রধান বিচারপতির ভূমিকা পালন করেন। তাদের অধীনে থাকা বিচারকরা তার ফায়সালা সবাইকে শোনান।

এই আদালতের ফায়সালা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব অর্পিত হয় বিচারপতির সমর্থকদের ওপর। বিচার কখনো ফেসবুকেই হয়। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হল, আইডি চান্দের দেশে পাঠানো। এছাড়া গালাগালি, এংরি রিয়্যাক্ট দেওয়া, কিংবা কোন রিয়্যাক্ট না দেওয়া, ব্লক মারা, আনফ্রেন্ড করা ইত্যদি বিভিন্ন ধরণের শাস্তির ব্যবস্থা আছে এখানে। আর কখনো বিচার হয় অফলাইনে। সেক্ষেত্রে শাস্তির কোন সীমারেখা নাই।

চাপপ্রয়োগে বিচারক তার আদেশ মানতে বাধ্য করতে চেষ্টা করেন।

এই আদালতে উকিল বা সাধারণ বিচারক হতে কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। তবে সিনিয়র বা প্রধান বিচারপতি হতে হলে দীর্ঘদিন ফেবুতে এক্টিভ থেকে সাধারণ বিচারকদের ভোটের মাধ্যমে সেলিব্রেটি বা শায়খ উপাধি লাভ করতে হয়।

একই উপাধির দুজন যখন বিপরীতমুখী ফয়সালা করেন তখন সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌছতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কখনো কয়েকবছর পার হয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত হয় না৷ উভয় পক্ষের উকীলগণ ওকালতি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে একপর্যায়ে রণে ভঙ্গ দেন। এই আদালত নিয়ে কেউ এখন পর্যন্ত থিসিস করেছে বলে আমার জানা নাই। আপনারা করতে পারেন।

আপনাদের মহামূল্যবান সময়কে নষ্ট করার ক্ষেত্রে এর চেয়ে উত্তম পদ্ধতি খুঁজে পাওয়া দুরুহ ব্যাপার।
সুহাইল ইসলামসম্পাদক, ঘাসফড়িঙ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ