শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

সংসদে কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণার আইন পাশ করতে হবে : পীর সাহেব মধুপুর


নিজস্ব প্রতিনিধি:তামাদ্দুন। খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মর্যাদা ও খতমে নবুওয়াত' শীর্ষক সেমিনার গতকাল ঌ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুর দুইটায় রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা রশিদ আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারীরা 'আহমদীয়া মুসলিম জামাত' নাম নিয়ে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে চলছে। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানারকম কুৎসা রটনা থেকে শুরু করে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আঘাত হেনেছে । যা কোনো মুসলমান মেনে নিতে পারে না। সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা.কে অস্বীকার করে তারা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে তার স্থানে বসিয়ে সরলমনা মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা কোন কুলাঙ্গারকে খতমে নবুওয়াতের সুমহান সিংহাসনে দেখতে চাই না।

তিনি আরো বলেন, মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার মুসাইলামাতুল কাযযাব এর বিরুদ্ধে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধে 12 জন সাহাবী শহীদ হয়েছিলেন,তাদের রক্তের বিনিময়ে আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত হেফাজত হয়েছিলো। বাংলাদেশেও কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায় করতে হলে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হবে । কাদিয়ানীরা শুধু ইসলামের শত্রু নয় তারা দেশ ও বিশ্ব মানবতার শত্রু বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের এ ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত। যারা তাদের কাফের মনে করে না তারাও কাফের । তাদের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নাই। পৃথিবীর সব মুসলিম দেশেই তারা কাফের। একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রদান করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। এতে চিরদিন সকল মুসলমানদের হৃদয়ে স্থান করে নিবেন ।

বক্তারা বলেন,তারা দেশকে কাদিয়ানী রাষ্ট্র কায়েম করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে । সারাদেশে তাদের 100 এর অধিক কেন্দ্র রয়েছে।
তিনি বলেন ,কাদিয়ানীরা কাফের ।এ ব্যাপারে সকল মুসলমান একমত। যারা তাদের কাফের মনে করে না তারাও কাফের । তাদের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নাই। পৃথিবীর সব মুসলিম দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে তারা কাফের। একমাত্র বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম। তিনি আরো বলেন, সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার আইন পাস করতে হবে।প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি কওমি সনদের স্বীকৃতি প্রদান করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন । এখন কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। মসজিদ পৃথিবীর সর্বোচ্চ জায়গা, মুসলিম উম্মাহর পবিত্র স্থান। কাদিয়ানীরা কাফের। কাফেরদের কোনো মসজিদ হতে পারে না। নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত ইত্যাদি মুসলমানদের ধর্মীয় পরিভাষা, কাদিয়ানীরা কাফের তাই মুসলমানদের কোন পরিভাষা ব্যবহার করে তারা তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচার করতে পারে না । এটা ইসলাম ধর্মের অবমাননার শামিল ।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ, এদেশের মুসলমানগণ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি মুহাব্বত করেন । বিশ্বনবী সা. এর রিসালাতকে অস্বীকারকারী কাদিয়ানীদের আস্ফালন এদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না ।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে এদেশের হিন্দুরা হিন্দু নামে, বৌদ্ধরা বৌদ্ধ নামে এবং খ্রিস্টানরা খ্রিস্টান নামে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করেছে। কিন্তু কাদিয়ানীরা মুসলমান নাম ধারণ করে সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমান বিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা ইসলাম ধর্মের অবমাননার শামিল। তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না । মাওলানা শফিক সাদী , হাফেজ মাওলানা আহমদুল্লাহ ও হাফেজ মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন মোল্লার পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন আওলাদে রাসূল সা. মুফতি আফফান মানসুরপুরী (ভারত) দারুল উলুম দেওবন্দের মুহাদ্দিস মুফতি হাবীবুর রহমান আজমী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদ , হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর আমীর আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, বাহাদুরপুর পীর আল্লামা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতি মুহাম্মদ ইমাদুদ্দিন, মুফতি আব্দুল্লাহ বিক্রমপুরী, মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ, মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী,হাফেজ মাওলানা ক্বারী আবুল হোসাইন,মুফতি মুজিবুর রহমান, মুফতি বশিরুল্লাহ, মুফতি নেছার আহমদ, মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মুফতি জসিম উদ্দিন,মাওলানা আবদুল লতিফ ফারুকী, মুফতি আবুল কালাম আজাদ আনওয়ারী ও হাজী নাসির মাহমুদ প্রমুখ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য