শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

সাহিত্যের বারোটা বাজাচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ ক্রিয়েটররা

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ: কিছু সাহিত্য গ্রুপ আছে। যেগুলোতে ডজন খানেক লোক নিযুক্ত থাকে শুধু কমেন্ট করার জন্য। আপনি একটা পোস্ট করবেন, তারা উঠে পড়ে লাগবে কমেন্ট করার পিছে। নাইস, চমৎকার, মনোমুগ্ধকর, অসাধারণ, সুন্দর রচনাশৈলী, সুখপাঠ্য, পাঠে মুগ্ধ হলাম এমন কয়েক কুড়ি কমেন্ট তাদের বানানো থাকে। উড়াধুড়া কমেন্ট করতে থাকে।

নতুন কোন লেখক যখন সেখানে পোস্ট করে, এত এত পজেটিভ কমেন্ট দেখে সে ভাবে, আরেব্বা,,, আমি এত দারুণ লিখি? আগে জানতাম না তো। তো আগামী বইমেলায়ই একটা বই বের করে ফেলা যায় দেখছি। এবং সেই লেখক বই বেরও করে ফেলে। পরে দেখা যায় দুই কপি বিক্রি হয়েছে।

যে দুটা সে কিনে তার দুই বন্ধুকে গিফ্ট করেছিল। বাকি সব বিশ টাকার মার্কেটে ওঠে। বিশ টাকায়ও সে বই কেউ কিনে না।

এগুলো আমার কোন বানানো কথা না। প্রমাণিত। কারণ, আপনার একটা পোস্টে যখন ৪০০ লাইক পড়বে একশ কমেন্ট পড়বে আর সবগুলোই পজেটিভ কমেন্ট। নাইস ফাইস আর সুখপাঠ্য মার্কা। তাইলে বই বের করতে কে অনুপ্রাণিত হবে না? নিজেকে কে কবি ভাববে না?

এক কবিতার গ্রুপে আমি একটা অণুগল্প পোস্ট করেছিলাম। সে পোস্টে ধুমায়া কমেন্ট পড়তে লাগল, কবিতাটা অসাধারণ। কবিতাটি পাঠে মুগ্ধ হলাম। এমন অসংখ্য কমেন্ট। এখন বুঝেন, তারা আমার পোস্টটা কী পরিমাণ পড়েছে। গল্পকে কবিতা বানিয়ে দিয়েছে। তারপর ভাবলাম, তারা কি পড়ে কমেন্ট করে না হুদাই একটু টেস্ট করা দরকার। এবং একটা কবিতা লেখলাম, কী কবিতা বুঝেন তো? যদি একটা বাচ্চা পোলাপাইনেও পড়ে চেইত্তা ছিঁড়া ফেলব। বলবে, এইটা কিছু হইল? কিন্তু সেটায় যেই কমেন্টগুলো পড়েছে, আহা! মনে হলেই নিজেকে কবি ভাবতে ইচ্ছে করে।

সব কথার এক কথা, সাহিত্যের যারা বারোটা বাজাচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, এই গ্রুপ ক্রিয়েটররা। যারা বিশ্বাস করেন নি, তাদের জন্য কেমন্ট বক্সে একটা প্রমাণ রেখে গেলাম। যেই আমি কবিতার ক-ও বুঝি না। দেখেন, দশ মিনিট আগে মাত্র হাবিজাবি লিখে একটা পোস্ট করেছি। সাথে সাথে দু'টা কমেন্ট পড়ে গেছে। কী কমেন্ট দেখুন। আগে আমার লেখাটা পড়ুন। তার পর কমেন্ট দু'টা একটু পড়ুন। তাইলে বুঝবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য