শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আমার প্রতি চরম অবিচার হয়েছে

উবায়দুর রহমান খান নদভী: তিন মাদ্রাসায় নিয়মিত পড়াই আজ ৩২ বছর। সারাদেশে অতিথি অধ্যাপক আছি অন্তথ ৭ প্রতিষ্ঠানে। বিদেশে ৫ প্রতিষ্ঠানে। ত্রিশ বছর ধরে বেফাকের মুরব্বিদের হুকুমে বহু কাজ করে দিয়েছি। আজও করি। গত ত্রিশ বছরে একাধিক সভাপতি, সহসভাপতি ও মহাসচিব ওয়াদা করেছেন আমাকে বেফাকে নিবেন। (ইতিহাস লেখার সময় নাম ও বিবরণ উল্লেখ করবো)

দেশে প্রায় তেরো হাজার লোক বেফাকে সদস্য। একমাত্র আমাকেই অযোগ্য মনে হয়েছে। বয়স, অভিজ্ঞতা, অবদান বিবেচনায় আমার শুরা ও আমেলার সদস্য হওয়ার কথা ছিল অতি সহজেই। আমি কয়েকটি মাদরাসার সভাপতি, প্রধান মুহতামিম, মুহতামিম ও প্রতিনিধি হওয়া সত্বেও এবং বারবার ওয়াদা করেও কেউ কথা রাখেন নি। শীর্ষ মুরব্বিদের অনেকে চেষ্টা চালিয়েও অজ্ঞাত কারণে সফল হননি। এই অজ্ঞাত কারণ কবে দূর হবে? বেফাকের সরিষার পাত্রের ভূত মুরব্বিরা কবে তাড়াবেন।

বেফাকের যে কোনো খেদমতের কাজ দিলে সুন্দর করে আন্জাম দিতে কষ্ট হতোনা। এখানে পদ পাওয়ার কথা বলছি না। পদ, সম্মান, জনপ্রিয়তা ও আল্লাহওয়ালাদের মহব্বত এই গুনাহগারকে আল্লাহ কম দেননি। এখানে বলছি, বেফাকের কোনো কাজে নিজেকে ব্যবহার করার সুযোগ পেলে কওমী অঙ্গনের জন্য নিজের যোগ্যতার সর্বোচ্চ কোরবানি পেশ করার বিধিগত অবস্থান তৈরির কথা। আমার আব্বাজান ৩ মেয়াদ বেফাকের মহাসচিব ছিলেন, আজীবন বেফাকের খিদমত করে গেছেন। এসব আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি।

পরের ২০/২৫ বছর আল্লামা আশরাফ আলী রহ ও আল্লামা আবদুল জব্বার রহ এর পাশে থেকে জটিল সব নীতি নির্ধারনী মুহূর্তে আলহামদুলিল্লাহ বেফাকের কাজ নিঃস্বার্থভাবে করেছি।

আমি দুনিয়ায় বহু কাজ দক্ষতার সাথে করছি। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে বেফাকের নগন্য একজন সাধারণ সদস্যও হতে পারলাম না। দেশে বেফাকের কয়েক হাজার সদস্য। অনেকে আমাকে সদা দূরে সরিয়ে রেখে আমার সাথে কৃত নিজেদের ওয়াদা নষ্ট করেছেন এবং পরস্পরকে দোষারোপ করে আমার কর্মদক্ষতাকে নিঃসন্দেহে বিনষ্ট করেছেন।

বেফাকে উপযুক্ত জায়গা করে না দিয়ে তারা আমার প্রতি চরম অবিচার করেছেন।

জানিনা বড়োরা কতটুকু কী করবেন। তবে আমি বঞ্চিত ও অবমূল্যায়নের মত এমন অসদাচরণের দেখা পেয়েছি যা দেখবো বলে আশা করিনি। আর এসব এমন লোকেরা করে যারা বেফাককে নানাভাবে ধ্বংস ও বদনাম করে চলেছে।

এর কোনো বিশ্লেষণ এই মূহূর্তে আমি দেব না৷ ধারণা করি, নানাজনের সামনে বড়দের অপারকতাটার হেতুগুলো এখন থেকে তাদেরই বলতে শুরু করা উচিৎ। সব সংকট নিয়েই এখন কথা বলতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ