শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

‘আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্য বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে’

আমিন মুনশি : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাধারণ মানুষের নাভিঃশ্বাস দশার কথা বিবেচনা না করে আবার সরকার বিদ্যুৎ ও ওয়াসার পানির দাম বাড়িয়েছে। 

বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে গ্রাহকদের পকেট থেকে বছরে দুই হাজার কোটি টাকা লুটে নেবে আওয়ামী সিন্ডিকেট।

‘এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের আমলে ৯ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। যখন ইচ্ছা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারবে সরকার’ এই স্বেচ্ছাচারি আইন মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করিয়ে জনগণের ওপর ভয়াবহ জুলুম চালাচ্ছেন এই লুটেরা শাসকরা।’

শুক্রবার নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলেনে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণকে শোষণ করে আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্য সরকার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাণিজ্য মন্দা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের মধ্যেই দেশে সবপর্যায়ে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরামূল্য বাড়নোর একমাত্র কারণ হলো লুটপাট।

‘লুটপাটের বড় অনুসঙ্গ কুইকরেন্টাল করে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। গতবার কুইকরেন্টালগুলো উৎপাদন না করলেও ভাড়া দিতে হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ বছর দিতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ীরা পাচার করে দিচ্ছে বিদেশে।’

রিজভী বলেন, বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে সাধারণ মানুষের। শিল্প মালিকদেরও ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ দশা। দেশীয় শিল্পকারখানা ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধের মাধ্যমে দেশকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা হারাচ্ছে শত শত প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দেশের শিল্পের শক্তি ধ্বংস করে দেবে। ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। সেচ বিদ্যুতের দাম বাড়ায় কৃষিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যসহ জীবনযাত্রার সকল খরচ বেড়ে যাবে। মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘অন্যথায় বিদ্যুৎ, ওয়াসার পানির দামবৃদ্ধিসহ গণবিরোধী সব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের প্রতিবাদে ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঢাকায় ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রিজভী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য