শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

করোনা প্রতিরোধে ইরানের পাশে দাঁড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আমিন মুনশি : ইরানের করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এমন তথ্য জানিয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের ইচ্ছা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। -খবর রয়টার্সের

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে এক শুনানিতে তিনি বলেন, ইরানকে আমরা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি। তাদের স্বাস্থ্য অবকাঠামো খুব একটা শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক না। দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। কিন্তু তারা তথ্য দিচ্ছে না।

এদিকে করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এতে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাটিকানে ইরানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও দেশটির বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা হাদি খোসরাশাহি মারা গেছেন।

প্রাণঘাতি ভাইরাসটির সংক্রমণের পর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮১ বছর বয়সী এই কূটনীতিক। বুধবার তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম তাসনিমের বরাতে বার্তা সংস্থা আনাদুলু এমন খবর দিয়েছে।

পবিত্র শহর কোয়ামের একজন বিখ্যাত আলেম হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম ছিল। ইসলামিক গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ে তিনি আয়াতুল্লাহ খামেনির একজন প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এদিকে এই ভাইরাসে ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ও একজন এমপি আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান। এখন এই ভাইরাসটি মহাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

তবে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে কোনো রাগঢাক করা হচ্ছে না বলে সোমবার দাবি করেন উপমন্ত্রী ইরাজ হারিচি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথার বলার সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থতাবোধ করেন।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেয়া গেলে বিশ্বজুড়ে এর প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস গেব্রিয়েসাস।

ভাইরাসটি নির্ণায়ক বিন্দুতে পৌঁছেছে এবং এর মহামারি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একের পর এক পদক্ষেপের মধ্যেই তেদ্রোস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারগুলোতে দ্রুত ও আরও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

নতুন এ পর্যায়ে ভাইরাসটি এখন চীনের বাইরের দেশগুলোতে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো চীনের চেয়ে দেশটির বাইরে বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

চীনের ভেতর ভাইরাসটিকে বেঁধে রাখা সম্ভব না হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন চিকিৎসা উপকরণের মজুদ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা বিশ্বজুড়ে নতুন অর্থনৈতিক মন্দারও আশঙ্কা করছেন।

গত কয়েকদিন ধরে ইরান ও ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমে এবতেকারও আছেন।

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়াসহ অন্তত নতুন ১০টি দেশে ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তেদ্রোস বলেন, (চীন ছাড়া) বাকি পৃথিবীতে যা ঘটছে, তা নিয়েই এখন আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এখন এমন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, সংক্রমণ পরিস্থিতি যে কোনো দিকে যেতে পারে, নির্ভর করছে কীভাবে তা আমরা মোকাবেলা করবো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য