শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিন-সিনহা: ক্ষমতার দাপট কোথায়?

বশির ইবনে জাফর: পবিত্র কুরআনে বর্ণিত অভিশপ্ত বাদশা ফেরাউন, ক্ষমতাধর নমরূদ, কৃত্রিম বেহেশত বা বালাখানা নির্মাতা কথিত সাজ্জাদ- এদের ক্ষমতা বা দাপট যেরূপে চিরকাল থাকেনি তেমনই বাংলাদেশের বুকে দাপিয়ে বেড়ানো কিছু শাসক কিংবা হর্তা-কর্তাদের ইতিহাসও ফেরাউনের ইতিহাসেরই মতো।

ক্ষমতার দাপট চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে রাতের আঁধারে দেশত্যাগী হয়ে বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে চোরের মতো জীবনযাপন করছে এক সময়কার বহুদূরব্যাপী বিস্তৃত ক্ষমতার হাতওয়ালারা।

২০০৭ সালের সেই তত্বাবধায়ক আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কিছু মানু্ষের কাছে বীর পুরুষ খেতাবপ্রাপ্ত সেনা সমর্থিত সেই প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ এবং তার সাথে সঙ্গ দেয়া সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ এর দাপটের কথা কে বা না জানে। অথচ তাদের বর্তমান খবর ক'জন জানেন? জানেন কি আজ তাদের ক্ষমতার হাত কতোটা সংকীর্ণ কিংবা তাদের জীবন কতোটা ফেরারি জীবনযাপন?

২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে ফখরুদ্দিন বেশ কিছুদিন ভালো সময়ই কাটান বাংলাদেশে। তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় তার সেই আয়েশি জীবন খুব দীর্ঘ হলো না। ১/১১ কর্মকাণ্ডের কিছু বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত সংসদীয় কমিটি ফখরুদ্দীনকে জেরার জন্য তলব করছে মর্মে খবর প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যে সপরিবারে তিনি দেশত্যাগী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’।

গতবছর গণমাধ্যমে একটি খবর প্রকাশের পর জানা যায় তিনি সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে পড়ে হেনস্থার শিকার হয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এমনকি অপর একটি সংবাদ এই তথ্যও নিশ্চিত করেছে তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারাক্রান্ত হয়ে ঘরমুখো জীবনে নিজেকে বন্দি করেছেন। মোটকথা যেই দেশে তিনি জন্মেছেন সেই দেশের মাটি তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অপরদিকে সেই জেনারেল মঈন যিনি ফখরুদ্দীন এর সকল দাপটের প্রত্যক্ষ সহকর্মী ছিলেন এবং আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময়কার সেনাপ্রধান থাকা এই প্রভাবশালী মানুষটিও ফখরুদ্দীন এর মতো মরণব্যাধি থ্রোট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দুই রুমের একটি বাসায় বন্দি জীবন যাপন করছেন। তার দেশত্যাগের কাহিনিটাও সেই একই। ১/১১ পরবর্তি কিছু কর্মকাণ্ডের নিশ্চিত সাজা জেনেই তিনি পালিয়েছেন।

দেশের মাটির সাথে যেই অন্যায় তিনি করে গেছেন সেটাই তাকে আর থাকতে দিবে না এ কথা ভালোভাবেই তিনি বুঝেছেন।

দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার তালিকায় আরো আছেন এক সময়কার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। যদিও তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে তিনি তার বইয়ে লিখেছেন। কিন্তু পরিণতি তো একই। কোথায় সেই ক্ষমতা? সুদীর্ঘ লম্বা সেই ক্ষমতার হাত আজ কোথায়?

অপরপক্ষে, খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া (বিদেশের মাটিতে) , লুৎফুজ্জামান বাবর সহ আরো কতো ক্ষমতার হাতই না আজ বন্দিদশায় চৌদ্দশিকের অন্ধকার হাতড়ে বেড়াচ্ছে। যদিও তারা মনে করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

পৃথিবীর অতীত ইতিহাস বলেন আর বর্তমান বাংলাদেশের ইতিহাসই বলেন। ক্ষমতার ন্যূনতম অপব্যবহারও যদি আপনি করে থাকেন কিংবা দাপটের অহংকার নিয়ে সারা জীবন বেঁচে থাকার স্বপ্নও দেখেন তবে সেটার পরিণতি একই সূত্রে গাঁথা হবে। হবে এবং হবেই। দু'দিন আগে আর পরে।
বশির ইবনে জাফর
ভিপি, মাশা ইউনিভার্সিটি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য