শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

প্রাণঘাতী করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯০

আমিন মুনশি : সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুত মহামারি আকার ধারণ করেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে বুধবার (১১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত নতুন করে ২২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ২৭ জনে পৌঁছেছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৬ হাজার ৩৩৫ জন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীন ছাড়াও বিশ্বের মোট ১১৫টি দেশে মরণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া ঝুঁকিতে আছে আরও অনেক দেশ। এতে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। যাদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানের নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো উহান পরিদর্শন করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের শরীরে করোনা ভাইরাসের আলামত আছে কি না তা টেস্ট করাচ্ছেন না বলে দাবি সাংবাদিকদের।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না, এমন প্রশ্ন ছিল ওয়াশিংটনের সংবাদ কর্মীদের। যদিও সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ট্রাম্প। তবে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অথবা তার কর্মকর্তারা এখনো করোনা ভাইরাসের জন্য নির্ধারিত পরীক্ষা করেননি।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৫৪ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৩৬ জনের। চীনের পর সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে একদিনেই ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩১ জনে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ১৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার।

এর পরের অবস্থান ইরানের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাছাড়া মারা গেছেন ২৯১ জন।

এ দিকে জাপানে নোঙর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রাণ গেছে ৮ জনের। তাছাড়া জার্মানিতে এই ভাইরাসে ১ হাজার ১৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬০৬ জন এবং মারা গেছেন ৩০ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪০ জন, আর প্রাণ গেছে ৩০ জনের। স্পেনে আক্রান্ত ৯৯৯ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩৩২ এবং মারা গেছেন ২ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২৭৮ ও মৃতের সংখ্যা ৩। ইরাকে আক্রান্ত ৬০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের প্রাণ গেছে। তাছাড়া ভারতে ৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও দেশটিতে এখন পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর প্রাণহানি ঘটেনি।

তাছাড়া সুইডেনে আক্রান্ত ২৪৮, সিঙ্গাপুরে ১৬৬, নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৩৮২ এবং প্রাণ গেছে ৩ জনের, নরওয়েতে আক্রান্ত ১৭৬, বেলজিয়ামে ২৩৯, হংকংয়ে আক্রান্ত ১১৫, অস্ট্রিয়ায় ১৩১, মালয়েশিয়ায় ১২৯, অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত ১০০, বাহরাইনে ৮৮, কুয়েতে ৬৯, কানাডায় ৭৭, থাইল্যান্ডে ৫৩ এবং মৃত্যু ১, তাইওয়ানে আক্রান্ত ৪৫, গ্রিসে ৭৩, আমিরাতে ৪৫, আইসল্যান্ডে ৫৮, সান মারিনোতে ৩৬ জন আক্রান্ত, ডেনমার্কে আক্রান্ত ৩৫, লেবাননে ৩২, ইসরায়েলে ৩৯, চেক রিপাবলিকে ৩২, আয়ারল্যান্ডে ২১, আলজেরিয়াতে ২০ এবং ভিয়েতনামে ৩০ জন এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

অপরদিকে ফিলিস্তিনে ১৯, পাকিস্তানে ৭, মিশরে ১৫, কাতারে ১৫, ওমানে ১৬, পর্তুগালে ৩০, ব্রাজিলে ২৫, ফিনল্যান্ডে ২৫, ইকুয়েডরে ১৪, রাশিয়াতে ১৭, ক্রোয়েশিয়ায় ১২, ম্যাকাউতে ১০, এস্তোনিয়ায় ১০, জর্জিয়ায় ১৩, রোমানিয়ায় ১৫, স্লোভেনিয়ায় ১৬, আর্জেন্টিনায় ১২, আজারবাইজানে ৯, মেক্সিকোতে ৭, বেলারুশে ৬, ফিলিপাইনে আক্রান্ত ১০ এবং মৃত্যু ১, সৌদি আরবে ১৫, চিলিতে ১০, পোল্যান্ডে ১১, স্লোভাকিয়ায় ৫, পেরু ৭, ইন্দোনেশিয়ায় ৬, নিউজিল্যান্ডে ৫, সেনেগালে ৪ এবং হাঙ্গেরিতে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তাছাড়া লুক্সেমবার্গে ৫, উত্তর মেসিডোনিয়ায় ৩, বসনিয়ায় ৩, ডোমিনিক প্রজাতন্ত্রে ৫, মরক্কোতে ২, আফগানিস্তান ৪, কম্বোডিয়ায় ২, বুলগেরিয়া ৪, ক্যামেরুনে ২, মালদ্বীপে ৪, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩, লাটভিয়ায় ৩ এবং বাংলাদেশে ৩ জন এই মহামারি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে জর্ডান, শ্রীলঙ্কা, আর্মেনিয়া, আন্দোরা, লিথুনিয়া, মোনাকো, নেপাল, নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, ভুটান, কোস্টারিকা, ভ্যাটিকান সিটি, গিব্রালটার, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং টোগোতে একজন করে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য