শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ঢাকায় আসছেন মোদি, রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়


তামাদ্দুন ডেস্ক:

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুজিববর্ষের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে প্রতিবেশী দেশটির প্রভাবশালী এ রাজনীতিকের আগমনে নিয়ে রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে নানা কথা বলা হচ্ছে। কেউ কেউ আসার পক্ষে কথা বলছেন আবার কেউ বিরোধিতাও করছেন। 
ভারত আমাদের বন্ধু, তাই মোদী আসবেন 
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সঙ্গে আমাদের রক্তের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। তাই আমরা মনে করি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসবেন ইনশাল্লাহ।
রবিবার (১ মার্চ) বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘শেখ হাসিনার নির্দেশ, নারী-শিশু নির্যাতনে, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রণব মুখার্জি ও সোনিয়া গান্ধীসহ অনেক নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সারা বিশ্বের নেতারা আসবেন। তখন একটি মহল নয়াদিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এখানে ঘোলা পানিতে কোনো মাছ শিকার করা যাবে না। তারা আসবেন ইনশাল্লাহ।
সবার উচিত মোদীকে স্বাগত জানানো : কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অকৃত্রিম বন্ধু এবং তারা সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী ঢাকায় আসছেন। যারা মোদীর এ সফরের বিরোধিতা করছেন, তাদের সবার উচিত মোদীকে স্বাগত জানানো।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা নরেন্দ্র মোদীর আগমনে বিরোধিতা করে স্লোগান দিচ্ছেন, সরকার তাদের নিয়ে বিব্রত নয়। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করছেন। তবে সবার উচিত মুজিববর্ষে সম্মানিত অতিথি হিসেবে মোদীকে স্বাগত জানানো।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর পরের দিন ১৮ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। সেখানে দুদেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
মোদীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন ফখরুলের
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে আসা কতটা শোভনীয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে সহিংসতা চলছে। পত্র-পত্রিকায় অভিযোগ আসছে খোদ মোদীর বিরুদ্ধে। এই সময় মোদীর বাংলাদেশ সফর করাটা কতটুকু শোভনীয় তা আমাদের ভেবে দেখা দরকার।
সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি আয়োজিত পতাকা উত্তোলন দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
মোদীর আগমনে সোনালি অধ্যায় সূচিত হবে : শ্রিংলা
মুজিববর্ষে বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদীর আগমনে দুই দেশের সোনালি অধ্যায় সূচিত হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সভাকক্ষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
শ্রিংলা বলেন, মোদীর আগমনে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। দ্বিপক্ষীয় অনেক সমস্যা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছেন। আরও যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে আলোচনা হবে এবং সমাধান হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন হলে সেটা আমরা আমাদের উন্নয়ন বলেই মনে করি। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্ববোধ করি।
বাংলাদেশ-ভারতের নতুন ভিশনের ইঙ্গিত দিলেন রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ২০১০ সালে ভারত সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সফরের সময় একটি ভিশন ঘোষণা করা হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ৭৫টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয় কমিটি আছে। যার মাধ্যমে দুই দেশের সরকার একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
সোমবার (২ মার্চ) হোটেল সোনারগাঁওয়ে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 
গওহর রিজভী বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে যে ভিশন ঘোষণা করা হয়েছিল এবং যে রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছিল, সেটি ভালোমতো কাজ করেছে। এখন আমাদের নতুন ভিশন নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে। 
তিনি বলেন, ভারত আমাদের গত তিন-চার বছর ধরে আশ্বস্ত করেছে এরআরসি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা বারবার বলেছে, এগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এটি ঠিক যে আমরা সেক্যুলার সমাজে বাস করি এবং আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সেক্যুলারিজম। আমরা কখনো এমন কোনো পরিবেশ চাই না যেখানে আমাদের সেক্যুলারিজম হুমকির সম্মুখীন হয়। এজন্য আমাদের ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।
ভারতের একাধিক লাইন অব ক্রেডিট সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আমরা মাত্র প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের কাজ শেষ করেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কয়েক সপ্তাহ পরে ঢাকায় আসবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। এটি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আমরা সুযোগ হারাব।
ভারত অংশগ্রহণ করলে মুজিববর্ষ পূর্ণতা পাবে : তথ্যমন্ত্রী
ভারত অংশগ্রহণ না করলে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পূর্ণতা পাবে না বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে ভারতের অংশগ্রহণ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে কী ঘটেছে, কী ঘটেনি সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশে এমন কোনো অবস্থা বিরাজ করছে না যে, এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 
ভারত অংশ নিলে মুজিববর্ষ পূর্ণতা পাবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যদি এককভাবে কোনো দেশের অবদান থাকে সেটা ভারতের। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষ সেখানে (ভারত) আশ্রয় নিয়েছিল। তারা আমাদের সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছে। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আসতে রাজিও হয়েছেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় পেলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পূর্ণতা পায়। এ কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে আমরা মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী অন্যান্য দেশকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মোদীকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাবে বাংলাদেশ। দেশের সাধারণ মানুষও মোদীকে সম্মান জানাবে। যারা নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করছেন, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা দুইটার দিকে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য