শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আলেমদের ডাকে লাশ হতে চান না ধর্মপ্রাণ মানুষ

এহসান বিন মুজাহির : ইসলামী নেতৃবৃন্দ এবং আলেম বক্তাদের দাড়ি-কমাহীন আবেগী বক্তব্যে আমি কোনো চেতনা এবং প্রেরণা পাই না! ইস্যুকেন্দ্রিক বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন এবং ওয়াজ মাহফিলের বিপ্লবী বক্তব্য এবং স্লোগানই একমাত্র ইসলামী বিপ্লবের পথ নয়!

অদূরদর্শী নেতৃত্ব এবং পদলোভী, দালাল-চাটুকার আলেমদের ডাকে ধর্মপ্রাণ মানুষ বারবার জমায়েত হয়ে লাশ হতে চান না! শাপলা চত্বরের সমাবেশে বিপ্লবী ভাষনদানকারী বিপ্লবী আলেম নেতাদের এদেশের মানুষ চেনে-জানে!

নবীযুগে জিহাদে সোনাপতিরা নেতৃত্ব দিয়ে সর্বাগ্রে শহীদ হতেন, কর্মীদেরকে রাজপথে রেখে নিজেদের জান-মাল রক্ষায় পেছনে চলে যেতেন না! আর এ যুগে রাজপথের আন্দোলনে নেতারা ফটোসেশন করে কর্মীদেরকে রেখে নিজেরা আত্মরক্ষা করেন! কোনো একটা ইস্যু সামনে আসলেই নেতারা লাগামহীন বক্তব্য দিয়ে আন্দোলন/ইস্যুকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন! এই করবো, সেই করবো, যা করার সামর্থ নেই এসব বলে কঠোর হুশিয়ারি-হুমকি দেন, যা আদৌও সমর্থনযোগ্য না!

বর্তমান ইস্যুতে কোনো বক্তা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশে আসলে বিমানবন্দর ঘেরাও করা হবে, দূতাবাস ঘেরাও করা হবে, দেশ অচল করে দেয়া হবে, মিনি কেয়ামত হবে, আবার মুক্তিযুদ্ধ হবে, আবার শাপলা চত্বর কায়েম হবে আরও কত কিছু যে এসব নেতারা আলেমরা করবেন তা নাই বললাম!

আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল, মানববন্ধন সবই করা দরকার ইসলাম-মুসলমান ঈমান রক্ষার জন্য। কিন্তু আলেমরা কেনো পৃথক পৃথক ব্যানারে আলাদা নেতৃত্ব দিবেন? ধর্মীয় ইস্যুতে কি সব পীর-মাশায়েখ, কওমি-আলিয়ার আলেম, সব মাসলাকের ইসলামী সংগঠনের নেতারা এক টেবিলে বসে সম্মিলিতভাবে কঠোর কর্মসূচি দিতে পারেন না? আর কতো বিচ্ছিন্ন!

ব্যক্তিগত, দ্বন্ধ, স্বার্থ, আমিত্ব এসব বাদ দিয়ে দ্বীনের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে বসুন, সবার সাথে যোগাযোগ করুন, সবাইকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করুন। 'বিচার মানি তাল গাছ আমার' এমন মানসিকতা পরিহার করে ঐক্য গড়ে তুলুন, বাদ দিন অনৈক্য'।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য