শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে আরো কৌশলী হতে হবে

সুহাইল ইসলাম : হাইয়ার সিদ্ধান্তকে আমি যথাযথ মনে করি। পরীক্ষা যথাসময়ে হয়ে যাওয়াই ভাল। ছাত্ররা মাদরাসায় থাকবে নাকি বাসায় গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবে সেটা প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাপার৷ মাদরাসার কর্তৃপক্ষ যেটা ভাল মনে করেন সেটাই হবে।

১ তারিখ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষা স্থগিতের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা এখনো সরকার দেয়নি। সুতরাং হাইয়ার পরীক্ষা যথাসময়ে হওয়ার নির্দেশনা সরকারের কোন নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক না।

মাদরাসা ছাত্রদের বড় একটা অংশের বাড়ি অনেক দূরে। চাইলেই আসা যাওয়া সম্ভব না। আর উপরের ক্লাসগুলোর পাঠ্যবই এবং সহায়কগ্রন্থ যে বিশাল সাইজের তা বাসায় টেনে নিয়ে যাওয়া অনেকটা অসম্ভব। তাই বোর্ড থেকে মাদরাসায় অবস্থান করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলার বিষয়টা যৌক্তিক।

হিফজ, মক্তব, তাখাসসুস সহ যেসব ক্লাসে বোর্ড পরীক্ষা নাই সেসব ক্লাসের পরীক্ষা তাড়াতাড়ি নিয়ে ছুটি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। আর বোর্ডভুক্ত ক্লাসগুলোতে যারা পড়েন তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শক্রমে যেখানে থাকলে ভাল হয় সেখানে থাকবেন।

পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য কতটা বিড়ম্বনার তা গত বছর আমরা টের পেয়েছি। এ বছরের পরীক্ষার্থীদের কেউ কেউ পরীক্ষা দেরীতে হওয়াকে কেন ভাল মনে করছেন জানি না। আমার মনে হয়, পড়ুয়া ছাত্ররা যথাসময়ে পরীক্ষা হোক এটাই চাচ্ছে। যারা ফেসবুকে বেশি সময় দেন তারাই হাইয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করতে চেষ্টা করছেন।

মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা এখন স্থগিত করার মানে পুরা সিস্টেমটাতে ধ্বস নামা। কারণ, এটা ভার্সিটির মত না যে, সেমিস্টার একটা শেষ হলেই পরেরটা শুরু হবে। এখানে কেউ এ বছর পরীক্ষা দিতে না পারলেও পরবর্তী বছর পরের ক্লাসে ভর্তি হতে ঠিকই চেষ্টা করবেন। পূর্বের পরীক্ষার রেজাল্ট ছাড়া ভর্তি করতে গেলে তখন একটা বিতিকিচ্ছিরি পরিস্থিতি তৈরী হবে।

করোনার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হল, সতর্কতা অবলম্বন করা। ছাত্ররা ছুটি পেলে করোনার ভয়ে বাসা থেকে বের হবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় তাদের খেয়াল থাকার কথা না যে, আমিই হাইয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছিলাম। অথচ মাদরাসায় নিজ জায়গায় থেকে সতর্কতার সাথে থাকাটা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর চেয়ে করোনা থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে অধিক নিরাপদ।

কিছু মাদরাসা প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে মুহতামিমণ বন্ধ করে দিচ্ছেন বলে শুনতে পারছি। এর কারণে হাইয়াকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনের সাথে আরো কৌশলী হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বোর্ডভুক্ত নয় এমন ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে বাকিদের কেন রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে বুঝিয়ে বলতে হবে। আর প্রশাসনের যারা মাদরাসা বন্ধ করতে বলছেন, তাদের মাদরাসার বিষয়ে একটু চুলকানি আছে বলে মনে হয়৷ নচেৎ সরকার থেকে কওমী মাদরাসার ব্যাপারে কোন নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি। অন্যান্য জায়গার জনসমাগম বন্ধের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু মাদরাসার দিকে চোখ যাওয়াটা চুলকানি থাকার প্রমাণ বহন করে।

আর অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে কওমী মাদরাসার তুলনাও সঠিক না৷ মাদরাসার গেইট বন্ধ রাখলে বাইরে থেকে কেউ ভিতরে আসা কিংবা ভিতর থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। তাই এখানে একসাথে বেশি মানুষ থাকলেও সতর্ক হয়ে চলাফেরা করলে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক কম। হাজী ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে থাকা আর মাদরাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকার মধ্যে কোন তফাৎ আছে বলে মনে করি না।

বর্তমানে করোনার যে অবস্থা, তাতে মনে হচ্ছে, এর প্রভাব এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই এখন পরীক্ষা না হলে কবে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে তা কেউ জানে না। এসব বিবেচনায় হাইয়ার সিদ্ধান্তকে আমি সঠিক মনে করে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। বড়দের ব্যাপারে কথা বলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব রক্ষার তাওফিক নসীব করুন। করোনার আযাবকে নিজ কুদরতে উঠিয়ে নিন। আমাদের সবাইকে সমস্ত বিপদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ