শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

নবাবজাদা সমাচার এবং হিডেন হিডেন খেলা

রশীদ জামীল : করোনাকে পেন্ডামিক ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গোঠা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে করোনায়। তথ্য-প্রযুক্তির শীর্ষে থাকা দেশগুলোও রক্ষা পায়নি। সুতরাং বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ মানে কোনোভাবেই সরকারের ব্যর্থতা নয়। তাহলে হিডেন হিডেন খেলার দরকার আছে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
প্রকৃত অবস্থা জাতির কাছে তুলে ধরুন। সরকারের তরফ থেকে যা যা করা সম্ভব- করুন। আক্রান্ত এবং হতাহতের সঠিক তথ্য প্রকাশ করলে সরকারের কোনো ক্ষতি হবে না। মানুষ সতর্ক হবে। আমার দেশের অনেক মানুষ এখনো ফেইসবুকে এসে করোনা নিয়ে মজা করছে। এর কারণ, আপনার সরকার দেশবাসীকে এখনো প্রকৃত চিত্র জানতে দিচ্ছে না। যে কারণে রোগটির ভয়াবহতা পুরোপুরি আঁচ করতে পারছে না তাঁরা।

দেশের বাইরে থেকে আমরা দেশের করোনা সংক্রান্ত যেসব অডিও/ভিডিও এবং তথ্য পাচ্ছি, মন থেকে চাই এগুলো যেন মিথ্যে হয়। বেশ কিছু মানুষ ইতোমধ্যেই মারা গেছে- এমন কথা আমরা বিশ্বাস করে আমরা আতকে উঠতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই আমার দেশ ভালো আছে। আমার দেশের মানুষ ভালো আছে। কিন্তু আমরা চাইলেই তো হবে না। আল্লাহর মদদ থাকতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা লাগবে। ব্যাপারটিকে হালকা করে দেখলে সেটা চরম আত্মঘাতী বিষয় হতে পারে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে...

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
প্রবাসীরা; মাটির টানে হোক অথবা প্রাণের মায়ায়- দেশে গেছে। মানুষ চরমভাবে আশাহত হলে মায়ের কাছে ফিরে যায়। তাদের কারো কারো মুখের ভাষা আপত্তিকর ছিল। ইতালি ফেরত একজনকে আমরা 'এফ' ওয়ার্ড পর্যন্ত উচ্চারণ করতে দেখেছি। অবশ্যই সেটা চরম গর্হিত কাজ হয়েছে। যদিও দশ/বারো ঘণ্টা জার্নি করে দেশে যাওয়ার পর বিমানবন্দর থেকে তাদেরকে সোজা হাজিক্যাম্পে স্থাপিত কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের অভিযোগ ছিল, ওখানকার নোংরা পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদেরকে ফেলে রাখা হয়েছিল। একজন ডাক্তার এসে তাদের পরীক্ষা পর্যন্ত করেননি। দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরও তাদেরকে কোনো খাবার দেওয়া হচ্ছিলো না। তাদের সাথে থাকা ছোট বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছিলো, যে কারণে অধৈর্য হয়ে গিয়ে এক পর্যায়ে যা মুখে এসেছে- বকেছে তারা, তবুও দেশের অথবা দেশের বাইরের একজন মানুষও দেশকে জড়িয়ে তাদের নোংরা গালিগালাজকে সাপোর্ট করতে দেখা যায়নি। তবে এটাও তো ঠিক যে, তারা বাংলাদেশেরই সন্তান।

মামনীয় প্রধানমন্ত্রী!
প্রবাসী যারা দেশে গেছেন, অবশ্যই তাদেরকে ১৪দিন নিরাপদ আবাস বা কোয়ারেন্টাইনে থাকা দরকার। তারা থাকতে না চাইলে সরকারের উচিত জোর করে তাদেরকে সেখানে রাখা। দেশের মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো অধিকারই তাদের নেই। এই পয়েন্টে কারো কোনো প্রশ্ন নেই মাননীয় নেত্রী। সেফটি ফাস্ট- এটা আমরা জানি, কিন্তু এই এক দুইজন প্রবাসীর উল্টা-পাল্টা কথার উপর ভিত্তি করে আপনার দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রী যদি সকল প্রবাসীকে নবাবজাদা বলে বিদ্রুপ করেন, সেটা কি শোভন দেখায়?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
দয়াকরে আপনার ছাগলমার্কা মন্ত্রীগুলোকে সামলান। মাস্ক পাওয়া না গেলে ওদের মুখে লাগাম লাগিয়ে দিন। আপনি চাইলে পারবেন। ওরা আপনাকে ছোট করছে। 'শেখ হাসিনার মতো নেত্রী পেয়েছিলাম বলে করোনার বিরুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি, অথবা আমাদের নেত্রী করোনা সমস্যা ভালোভাবেই মোকাবেলা করেছেন'- এমন কথাবার্তা বলে ওরা আপনার অবস্থানকে জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। করোনা বাংলাদেশের সমস্যা নয়। এটি বিশ্ব মহামারি। এই ভাইরাস বাংলাদেশ তৈরি করেনি। সঙ্গত কারণেই আপনার সরকারের কোনো দায় নেই। তবে যথা-সময়ে যথাযত পদক্ষেপ না নিলে দায়-দায়িত্ব কিন্তু আপনার সরকারের ঘাড়েই এসে পড়বে।

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী!
সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিন।
মহান আল্লাহপাকের কাছে সাহায্য চান।
আর, সরকারিভাবে জাতিগত তওবার ব্যবস্থা করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য