শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

তারাবীহ সঙ্কট, উত্তরণ কোন পথে? মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ


তামাদ্দুন২৪ডটকম: যেহেতু মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন; “নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবর্তীর্ণ করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী” সেহেতু তিনি এমন কিছু পদ্ধতি পৃথিবীতে চালু করে দিয়েছেন যে সব পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে কোরআনের হেফাজত হয়ে থাকে। সেই পদ্ধতিগুলোর অন্যতম একটি হলো তারাবীহ।

বছরান্তে রমজান এলে কোরআনের হাফেজগণ বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মসজিদ সমুহে তারাবী পড়ান। রমজান উপলক্ষে প্রতিটি মসজিদে মুসল্লীর সমাগম হয় যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিপুল পরিমাণ মুসল্লীর সামনে দাঁড়িয়ে তারাবীর ইমামতির জন্য যতো প্রস্তুতিই নেয়া হোক না কেনো তা কমই মনে হয়। সে কারনেই হাফেজগণ সাধ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে যান। মসজিদে বসেও নামাজের পূর্ব পর্যন্ত মনে মনে পড়েন। তবুও যেনো সংশয় কাটেনা। সবশেষে আল্লাহ ভরসা করেই দাঁড়িয়ে যান নামাজে।

তারাবীহকে উপলক্ষ করে কোরআনের উপর হাফেজদের এই সীমাহিন মেহনতের কারনে সারাবছর তাঁদের সিনায় আল্লাহর মেহেরবানীতে কোরআন সংরক্ষিত থাকে। নানাবিধ ব্যস্ততার কারনে বছরের মাঝখানে পড়ার সুযোগ না পেলেও নূণ্যতম পরবর্তী রমজানে তারাবী পড়ানোর মতো ইয়াদ বাকী থাকে,যা পরবর্তী বছর তারাবীহ পড়ানোর জন্য সহায়ক হয়। এভাবেই মহান আল্লাহ কোরআনের হেফাজতের বিষয়ে যে ওয়াদা করেছেন তার বাস্তবায়ন ঘটান। কিন্তু দু:খজনকে হলেও সত্য যে, আমাদের পাপের কামাই করোনার কারনে এবছর রমজানের অনেক আগেই বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে বন্ধ হয়ে গেছে আল্লাহর ঘর মসজিদ। যেগুলো খোলা আছে সেগুলোতেও গুটিকয়েক মুসল্লী নিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে আদায় করা হচ্ছে ফরজ নামাজ। এমনকি একই নিয়মে জুমার নামাজও আদায় করা হচ্ছে বয়ানবিহীন খুতবা পড়ে। তারাবীহ’র জন্য উলামায়ে কেরাম অনেক চেষ্টা করে অনুমতি আদায় করলেও সেটা প্রশাসন দিয়েছে তারাবীর আগের রাতে, তাও আবার মাত্র ১২জন মুসল্লি নিয়ে, যে কারনে হাতেগোনা কিছু মসজিদ ছাড়া অধিকাংশ জায়গায় সুরা তারাবীর সিদ্ধান্ত দিয়েছে মসজিদ কতৃপক্ষ। প্রশাসনিক চাঁপের কারনে মসজিদের ইমাম, মুআজ্জিন ও খাদেমরাও কিংকর্তব্যবিমুঢ়। তারা না পারেন বলতে না পারেন সইতে। সবমিলিয়ে মসজিদগুলোতে চলছে এক শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি।


এমতাবস্থায় তারাবী পড়ানোর সুযোগ না পাওয়ায় হাফেজদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তা বুঝতে হলে অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত। যে সকল হাফেজ এবছর তারাবীহ পড়ানোর কথা ছিলো তাদের অনেকেই ইয়াদ কমে যাওয়ায় ছিটকে পড়বেন আগামী রমজানে। ভয় ও শঙ্কা নিয়ে তারাবী পড়ানোর সাহস করবেননা। এরপর তারাবী না পড়াতে না পড়াতে সমস্ত কোরআন ভুলে যাবেন। এটাই কঠিন বাস্তবতা। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ’র এটি অত্যন্ত দু:খজনক সংবাদ। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ ছাড়া এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠা প্রায় অসম্ভব।

তারাবীহ পড়াতে না পেরে প্রতিটি হাফেজ নিজ বাসা/বাড়িতে অত্যন্ত ভাঙ্গা মন নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। বিভিন্নভাবে হাফেজদের সাথে যোগাযোগ করে বুঝেছি কি পরিমাণ কষ্ট মনে নিয়ে তারা সময় পাড় করছে। অনেকে আবার এই কষ্ট কারো কাছে প্রকাশ করতে না পেরে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে মাওলার কাছে ফরিয়াদ করছে।

যাদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সহযোগিতায় কোরআনের এই অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো,তারা কি জবাব দেবেন মাওলার দরবারে? দেশ ও দশের অভিভাবক হিসেবে, সর্বোপরী আমাদের অভিভাবক হিসেবে আপনারা এর দায় এড়িয়ে যেতে পারবেননা। শেষ বিচারের দিন এই অগণিত কোরআনের ধারক বাহক আপনাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়া করাবে। সেদিনের জবাব দেবার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন নতুবা....।

লেখক: আহবায়ক-হাফেজ কল্যাণ পরিষদ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য