শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

বক্তা, দায়ী, এন্টারটেইনার বনাম ইসলাম: সাইফ সিরাজ

ছবিটি এখানে বক্তা বা দায়ীর প্রতিকী হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

তামাদ্দুন২৪ডটকম: যাঁরা নবীজীর নামের সঙ্গে, সাহাবাগণের নামের সঙ্গে অথবা সিনিয়র সম্মানিত মানুষের নামের সঙ্গে- বাংলায়, গেছে, করে, সে, বলে, দেখেছে ইত্যাদি টাইপের ক্রিয়া, সর্বনাম ব্যবহার করে, তাদের ইলম, স্মার্টনেস, 'মিরমিররা ঘোড়া কালাই খাওনের যম' টাইপ বিনয়, ভক্ত, সবগুলোরে আমার সার্কাসের সঙ মনে হয়।

যারা সারাক্ষণ কেবল ষড়যন্ত্র খোঁজে। ইস্যূ খোঁজে। ইলমি বিতর্কে ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। ভাষিক এপ্রোচে ঝগড়াটে থাকে। ছোট বিষয় বড় করে উপস্থাপন করে। বড় বিষয়কে হালকা করে দেখে। ইলমি বিতর্কে অযাচিত ব্যক্তি আক্রমণ করে। গালি দেয়। শব্দে শব্দে অহম ঝাড়ে। ভেতরের কদর্যতা ইলম ও আমল দিয়ে ডেকে রাখতে পারে না। জেদ পুষে রাখা বক্তব্য ডেলিভারি দেয়। তাদেরকে আমার সবচেয়ে অসহায় মনে হয়। ভীতু ও চাটুকার মনে হয়। লোভার্ত কাক মনে হয়।

ভক্ত শ্রেণিকে সবসময়ই আমার ভয়ঙ্কর কিছু মনে হয়। এরা শ্রদ্ধাকে ভক্তির জায়গায় নিয়ে পুজো দিতে শুরু করে। বিশেষ করে ইসলামী ট্রেন্ডি দায়ী, পেশাগত বক্তা, বিতার্কিক, বাহেস, ক্যানভাসার, এন্টারটেইনার( নাশীদ শিল্পি বাদে), ঘৃণাবাদী প্রকল্প কর্মকর্তা, হিট সীকার মিডিওকার স্কলার প্রমূখের ভক্ত বা ফ্যানব্যাজ গড়ে ওঠে মূলত, সেইসব লোকদেরকে নিয়ে; যারা পবিত্র উপায়ে প্রেম করতে চায়, মিজিক বাজানো শেষে মসজিদে যেতে চায়, দোকানে ঠকানোর পরেও নাজাতের ব্যাপারে কনফিডেন্ট থাকে, ঘুষের পরেও কপালে দাগ থাকে, আলিমদের প্রতি পলিটিক্যাল বিদ্বেষ লুকিয়ে রাখে। তারা নায়ক, গায়ক নর্তুকি, খেলোয়াড়দের ফ্যানবৃত্তে এনগেজ থেকে এইসব লোকদের ফ্যানব্যাজে জয়েন করে।

এদের দাঁড়ি নিয়ে যুক্তি আছে। তিলাওয়াত নিয়ে যুক্তি আছে। নফল নামায নিয়ে যুক্তি আছে। সাহাবী নিয়ে যুক্তি আছে। ভাষিক অভদ্রতার পক্ষে যুক্তি আছে। দলীলও আছে। দিনশেষে প্রবৃত্তি বিরোধী কাউন্টার আসলেই শুরু হয় খিস্তি। নোংরামী। কে কী খায়! কে কীভাবে খায়! সব বলতে থাকে ধারণার ভিত্তিতে। যদিও আল্লাহর নিষেধ আছে ধারণায়।

বিতর্কপ্রিয়। বিতর্ক তৈরিতে পটু। অথবা কৌশলে দুর্বলতায় যারা বিতর্ক তৈরি করেন। এরা সবাই দিনশেষে অযোগ্য। দীনের মতো অলোক ও সমৃদ্ধ বিষয়ে তাদের কথা বলার অধিকার নাই। তারা এন্টারটেইনার থাকুক। সেই ভালো।

আর যারা গেলো গেলো করে। অথচ নিজেরাও খেলো। তারাও ধান্ধাবাজ।

নিরেট মুখলিস আলিম, দায়ী, বক্তা খুব কম। তাদের ভক্ত নাই। মুহিব্বিন আছে। কম। ফলে তাঁরা মানুষ ও নিজের আখিরাত নিয়ে রাতের শেষে কাঁদতে থাকেন। ইসলামকে মানুষের কাছে মানুষের ফিতরাত অনুযায়ী প্রচার করেন। ধীরে ধীরে ইনসানে কামেল বানানোর চেষ্টা করেন। ইনসানে বাচাল, ইনসানে ক্যাঁচাল, ইনসানে নেফাক, ইনসানে বেত্তমিজ থেকে তাঁরা দূরে থাকেন।

আর একটা মূলনীতি সবসময়ই বলি। আজকেও বলছি। "কোন আলেমের, স্কলারের অনুসারি, ভক্ত, মুহিব্বিন যদি সমসাময়িক সকল আলেমগণের ব্যাপারে বিদ্বেষ রাখেন। তাহলে সমস্যা সেই অনুসারি, ভক্ত, মুহিব্বিনের না। সমস্যা সেই আলেমের। সেই স্কলারের।"

সো, আমাদের পরিমিতিবোধের চর্চা করা জরুরি। ভাষিক এটিকেট জানা ফরজ। আদাবুল ইখতেলাফ না জেনে বক্তা হওয়ার রীতিমতো অপরাধ। শরয়ী অপরাধ। খিলাফাহ থাকলে সবগুলার জায়গা হতো কারাগারে।

আল্লাহ্ আমাদের সমসাময়িক সকল ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। ফাত্তান থেকে হেফাজত করেন। ফাত্তানদের ভক্তদের কালামি বিষ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

লেখক: গীতিকার, সুরকার ও মাদরাসা শিক্ষক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য