শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

দেশটা মগের মুলুক: হাফেজ মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ


তামাদ্দুন২৪ডটকম:আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা গ্রামে। সে সুবাধে প্রায়ই মুরুব্বীদের মুখে একটি প্রবাদ শুনতাম মগের মুলুক। কিন্তু এই প্রবাদের কোন সঠিক অর্থ জানতাম না। পরবর্তীতে যদিও সেই প্রবাদের অর্থ বুঝতে পেরেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে মগের মুলুক কেমন হয় সেটা কখনো কোন রাষ্ট্রের সাথে মিলাতে পারিনি। তবে বর্তমান করোনা প্রাদুর্ভাবে জর্জরিত বাংলাদেশকে দেখে মনে হচ্ছে আসলে এটাই মগের মুলুক। কেন আমি বর্তমান বাংলাদেশ কে মগের মুলুক মনে করছি সেটা পুরো লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন।

মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে করোনা প্রাদুর্ভাব জনিত কারনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর কয়েকদিন পর সাধারণ ছুটি ঘোষনার মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হয় শপিংমল, রেষ্টুরেন্ট, অফিস আদালতসহ সবকিছু। সীমিত করে দেয়া হয় মসজিদে মুসল্লীদের জামাতে অংশগ্রহণও। বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। লকডাউন করা হয় একে একে দেশের সকল জেলা। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সিভিল প্রশাসন জোরদার প্রচারনা শুরু করে আইন মানতে। কিন্তু ঐ সময়টাতে গড়ে নতুন আক্রান্ত ছিল ৫/৬ জন করে।এভাবেই কেটে গেল একমাস।

এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের চেয়েও মারাত্মক রুপ ধারন করল শেষ রাতে জোর পুর্বক ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচিত তথাকথিত জনপ্রতিনিধিদের চৌর্যবৃত্তি। সরকার প্রধান কর্তৃক বারবার কঠোর হুশিয়ারি প্রদান সত্ত্বেও এসব দলীয় চোরদের লাগাম টেনে ধরতে বেগ পেতে হয়েছে সিভিল প্রশাসনকে। এদেশের মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ঘোষণা আসল আগামিকাল থেকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খোলা হবে। শ্রমিকরা কাজে যোগ দাও। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। ফলশ্রুতিতে মানুষ পায়ে হেঠে রাজধানী মুখী হলো।

পরের দিন কাজে যোগদান করতে গিয়ে তারা জানতে পারল ফ্যাক্টরি খোলার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।  আবারো ফ্যাক্টরি খোলা হলো।  সীমিত আকারে খোলা হলো অফিস-আদালতও। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ! এ কেমন উপহাস খেটে খাওয়া মানুষের সাথে?

আজকে ঘোষনা হলো ১০ মে থেকে সীমিত আকারে খোলা থাকবে শপিংমল। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ! এইযে গণপরিবহন বন্ধ রেখে একের পর এক কর্মসংস্থানগুলো খুলে দিচ্ছেন, মানুষ কিভাবে কর্মস্থলে গিয়ে কাজে যোগদান করবে? এদেশের সব ব্যবসায়ীরাতো দরবেশ বাবাদের মত দেশের বারোটা বাজিয়ে দামী গাড়িতে চলতে পারেনা, এদেশের আপামর জনতাতো জনতার টাকায় পুলিশ প্রটোকলে গাড়ি হাকায় না। আর জনগনের সাথে এই তামাশাগুলো এমন এক সময়ে করা হচ্ছে, যখন প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পাঠক! এখন আপনিই বলুন  এটাকে কিসের মুলুক বলবেন???

লেখক: সভাপতি-ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা জেলা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য