শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

স্মৃতিতে আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ রহ. : যুবায়ের আহমাদ


তামাদ্দুন২৪ডটকম:রমজান এলে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে হুজুরকে। আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.)। তাঁর নামের সঙ্গে ‘রহ.’ লেখা এখানো আমকে বেদনা দেয়। তিনি ছিলেন আমার অভিভাবক। আমার শাইখ। প্রতি রমজানের আগে তার কাছে ফোনে দোয়া চাইতাম। এবার আর তা করতে পারিনি। কারণ তিনি নেই।
তবে প্রতিদিনই তার কথা স্মরণ হয়। দোয়ায় মনে হলেই অশ্রুসিক্ত হই। তারাবিহ’র মধ্যেই মনে পড়ে হুজুরের কথা। হুজুর প্রতি রমজানে ছাত্রদের দুএকজনের কোরআন শরীফ (হিফজ) শুনতেন। ২০০৫ সালে নাহবেমীরে পড়ি। আমি হুজুরের কাছে কোরআন শরীফ শোনানোর আরজ নিয়ে গেলাম। বললেন, এবার তো আরেকজন বলে রেখেছে। সামনের বছর। পরের বছর রমজানের ২ মাস আগেই গেলাম। বললেন, এবারও তো আরেকজন বুকিং দিয়ে রেখেছে। পরের বছর রমজানের ৩ মাস আগেই গেলাম। হেসে বললেন, ‘তুই তো আমারে ছাড়লিই না, যাহ, এবার তুই শুনাবি।’ আল্লাহর দয়ায় ২০০৭ সালের রমজানে শহীদী মসজিদে হুজুরের অফিসে প্রতিদিন বাদ আসর ১ পারা করে কোরআন শরীফ শোনাতাম হুজুরকে। হুজুরকে শোনানোর উপকারিতা এখনো ভোগ করি আল্লাহর রহমতে। শোনানোর সময় কিছু কিছু আয়াতে হুজুর দিকনির্দেশনা দিতেন। এ আয়াতগুলো যখন তারাবিহতে পড়ি, তখন তো মনের অজান্তেই হুজুরের স্মৃতিটা সামনে চলে আসে।

২০ অক্টোবর, ২০১৮ মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে তিনি আমাকে ওয়াজের ময়দানের কাজ করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন। বলেছিলেন, লেখালেখির পাশাপাশি তুমি ওয়াজের খেদমতেও সময় দাও! তবে মুরব্বিদের সঙ্গে যেভাবে সম্পর্ক রাখছ, এটা কিন্তু ঠিক রেখো! এরপর থেকে কোথাও কোনো বক্তব্যে সামান্য ভুল হয়েছে অথবা একটা শব্দ এখানে প্রয়োগ না করা ভালো হবে, এমন জানলে পরেরবার দেখা হলেই সরাসরি বলে দিতেন। আমার ভুল ধরার জন্য আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ’র মতো লোক আছেন এটা ছিল আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের।

হুজুর নেই। পরম মমতায় মাটির নিচে রেখে আসলাম। বিশ্বাস করি, মাটির কররের সঙ্গে আল্লাহ জান্নাতের সম্পর্ক করে দিয়েছেন।
রমজান এলে এরপরই বেশি মনে পড়ে আমার হিফজের পরম শ্রদ্ধেয় উস্তায হাফেজ নজরুল ইসলাম সাহেবকে (কিশোরগঞ্জের চরমারিয়া নিবাসী)। হিফজ শিক্ষকদের মধ্যে এত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ আমি দেখিনি। একজন শিক্ষকের যতগুলো গুণ থাকা প্রয়োজন সবগুলোই তার মধ্যে ছিল। ১টি পারা শুনতে সময় নিতেন অন্তত ১ ঘণ্টা। কিছুতেই তাড়াহুড়ো করা যাবে না। খুব ধীরগতিতে শুনাতে হবে। হুজুর প্রচন্ড রকমের কড়া লোক। পড়াটা ভালো করে ইয়াদ হলে তবেই সামনে যেতাম। আল্লাহর রহমতে প্রায় সব দিনই বিনা লুকমায় শুনাতাম। কী একটা ভয় কাজ করত মনে। আল্লাহর রহমতে কোরআন শরীফ সামান্য যতটুকু ইয়াদ করতে পেরেছিলাম এর পেছনে হুজুরের কড়া অবস্থানের অনেকটা অবদান আছে। আল্লাহ হুজুরকে নেক হায়াত দান করুন!

আমার হিফজের আরেক উস্তায হাফেজ ইমদাদুল হক সাহেব (বর্তমানে নান্দাইলের বনগ্রাম চৌরাস্তা বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম। ওই সময় তিনি আমাদের বৌলাইয়ের হাজী ওমর আলী রহ. প্রতিষ্ঠিত ভরাটি চরপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন)। অসাধারণ ইয়াদ হুজুরের। অনেক আদর করতেন আমকে। মুখস্থই পড়া ধরতেন। তবুও ভুল হতে পারত না। খুটিনাটি বিষয়ও বাদ যেত না। আল্লাহ হুজুরকে সুস্থ রাখুন।

আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ ছিলেন হাফেজ, লাখো হাফেজের উস্তায। শাইখুল হাদিস, হাজারো শাইখুল হাদিসের উস্তায। আল্লাহ কোরআনের উসিলায় হুজুরকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন! আমার হিফজের দুই উস্তাযকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুন!

লেখক: খতিব-বাইতুশ শফিক জামে মসজিদ, টঙ্গী, গাজীপুর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য