শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মায়েদের ভালো থাকতে নেই : মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ


তামাদ্দুন ২৪ ডটকম: মা যেদিন পৃথিবীতে সন্তানের অস্তিত্বের খবর জানতে পারেন, সেদিন থেকেই সন্তানকে নিয়ে তাঁর স্বপ্নবুনা শুরু। দশমাস দশদিন সীমাহিন কষ্ট-ক্লেশ সহ্যের পর যেদিন সন্তানের মুখ দেখেন, সেদিনটা মায়ের কাছে অন্ধ্যের আলোকিত ভোর দেখার চেয়ে অনেকাংশে বেশী দামী। এরপর থেকে শুরু হয় স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য মায়ের বিরামহীন সংগ্রাম।

ভুমিষ্ট হওয়ার পর যেই শিশুটি খেতে পারতোনা, মায়ের সহযোগিতায় সে খেতে শিখে, হামাগুড়ি দিতে শিখে, বসতে শিখে, দাঁড়াতে শিখে, হাঁটতে শিখে, এরপর দৌড়াতে শিখে। এভাবে একদিন মায়ের সহযোগিতায় বুঝতে শিখে পৃথিবীর সকল কিছু, চলতে শিখে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। সন্তান গড়ার এই যুদ্ধে বাবাকে সাথে নিয়ে মা লড়ে যান শেষ অবধি।

জীবন যুদ্ধের এই কন্টকাকীর্ণ পথে কখনো কখনো সঙ্গীহিন/স্বামীহিন ছুটতে হয় মাকে, পাড়ি দিতে হয় নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুর সময়। তবুও মা থমকে দাঁড়াননা, দাঁড়াতে পারেননা। সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। প্রয়োজনে রক্ত বিক্রি করে হলেও এগিয়ে যান সম্মুখপানে। নিজে না খেয়ে সন্তানের ভরন-পোষন এর ব্যবস্থা করেন। কাজ করে যা উপার্জন করেন তার সবটুকুই তুলে দেন সন্তানের হাতে।

আশা থাকে, সন্তান আমার একদিন বড় হবে, অনেক বড়। পড়াশোনা করে শিক্ষীত হবে। গ্রাজুয়েশন কম্পিলট করে একদিন চাকুরী নিবে। পছন্দমতো মেয়ে দেখে ছেলেকে বিয়ে করাবো। বউটাকে বরণ করে নিবো মেয়ের মতো করে। ছেলে টাকা-পয়সা কামাই করে সংসার গোছাবে। অভাবের যাঁতাকলে পিষ্ট এই সংসারে শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

সময় চলে যায় আপন গতিতে, একদিন ছেলে গ্রাজুয়েশন কম্পিলট করে চাকুরী নেয়। সরকারী চাকুরী। ছেলের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এখন আর ছেলে কাজের চাঁপে মায়ের সাথে কথা বলার সুযোগ পায়না। মায়ের হাতে ফোন নেই । তাই পাড়ার জমিদার বাড়ীর বকুল আন্টির কাছে গিয়ে তার ফোন থেকে রোজ খবর নেয়ার চেষ্টা করেও পায়না ছেলেকে। সন্তানের সাথে একটিবার কথা বলার জন্য উদগ্রিব থাকে মা। ওদিকে ছেলে ভিষণ ব্যস্ত তাই আর সুযোগ হয়না।

ছুটিতে ছেলে বাড়ীতে এলে মা ভাবেন খোকা আমার প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে। পরির মতো একটা মেয়ে দেখে এবার বিয়ে করাবো। ভাবনা অনুযায়ী ছেলের সাথে শেয়ার করে যা জানতে পারেন তার আঘাত সইতে না পেরে বেহুশ হয়ে মাটিতে পড়ে যান মা। ডাক্তার এসে মৃত ঘোষণা করেন মা;কে। মুহুর্তেই এক আকাশ স্বপ্নের কবর রচিত হয়। তিলে তিলে গড়া স্বপ্নের রাজপ্রাসাদে নেমে আসে শোকের ছায়া। এক পৃথিবী অভিমান বুকে নিয়ে মা পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।

ছেলে এখন এই শহরের নামী দামী মানুষ। জমিদার বাড়ীর ধনির দুলালী বিয়ে করে সম্পদ পেয়েছেন ঢের। টাকার গৌরবে মাটিতে পা পড়েনা তার। নিয়মিত চলেন পাজারু গাড়ী করে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে বিলাসবহুল এ্যাপার্টমেন্টেই থাকেন। কাজের চাপে কবরে রেখে আসা মায়ের কবর জেয়ারত করার ফুরসত পাননা। বেশ ভালোই কাটছে ছেলের দিনকাল।

একজীবন পার করেও ভালো থাকা হয়নি শুধু মায়ের। কারন, মায়েদের ভালো থাকতে নেই।

মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়ের জন্য শুভকামনা।

লেখক:- মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ
আহবায়ক:- হাফেজ কল্যাণ পরিষদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য