শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

১৫ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বদলানো হতে পারে: নেপালের প্রধানমন্ত্রী


তামাদ্দুন ২৪ ডটকম: ভারত সীমান্তের তিনটি এলাকাকে নিজ দেশের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে রীতিমত হইচই ফেলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাগড়া প্রসাদ শর্মা ওলি। এখন তার পদত্যাগের দাবি নিজ দলের ভেতরেই জোরালো হচ্ছে। সাবেক মাওবাদী নেতা ও বর্তমানে নেপালের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির দলীয় প্রধান পুষ্প কুমার দহাল প্রচন্ডই কেপি ওলি’র বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টিতে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে প্রতিবেশি ভারত। যদিও এক্ষেত্রে ভারতের সম্মতি আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে অলি বলছেন, ‘দিল্লি ও কাঠমান্ডুতে তার সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র চলছে। নেপালের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র গ্রহণের কারণে তাকে হটানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। দিল্লির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, দূতাবাসের কার্যক্রম এবং কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হোটেলে বৈঠকের ঘটনায় বুঝতে অসুবিধা হয়না যে আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনেকেই সক্রিয় রয়েছে। তবে তারা সফল হবে না।’ রবিবার বালুওয়াটারে প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা মদন ভান্ডারির ৬৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের সরকারি বাসভবনে এক ভাষণে তিনি একথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার সরকারের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং উৎখাতের পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।


সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে কে.পি. শর্মা বলেন, এই বিষয়ে দিল্লি থেকে খবর আসছে। সংবিধান সংশোধন করে দেশের নতুন মানচিত্র গ্রহণ করায় ভারতে এই বৈঠকগুলো আয়োজিত হচ্ছে।

নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেশটির সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী ১৩ জুন সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এতে নতুন মানচিত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে বিতর্কিত লিমপিয়াধুরা-কালাপানি-লিপুলেখ অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারত এই এলাকাগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। ১৮ জুন বিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট বিধবা ডেবি ভান্ডারি।

ওলি বলেন, নেপালের ভূখণ্ড চিহ্নিত করায় খুশি হয়নি ভারত। আমাদের জাতীয়তাবাদ এত দুর্বল নয়। আমরা আমাদের মানচিত্র পরিবর্তন করেছি এবং এখন যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে গদিচ্যুত করা হয় তাহলে নেপালের কাছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

ভারতে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ মনে করছে নেপালের নতুন মানচিত্র গ্রহণ করা অপরাধ। আপনারা হয়ত শুনেছেন ১৫ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বদলানো হতে পারে। এবার যদি আমাদের পদচ্যুত করা হয় তাহলে নেপালের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার সাহস কেউ পারে। কারণ তাকেও দ্রুতই সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি নিজের জন্য বলছি না। আমি দেশের জন্য বলছি। আমাদের দল, আমাদের সংসদীয় দল এমন ফাঁদে পা দেবে না। যারা চেষ্টা করছে, করুক।

উল্লেখ্য, নেপালে বর্তমান শাসক দল কমিউনিস্ট পার্টি গঠনকালে দুটি অংশ ছিল সিপিএন-ইউএমএল আর মাওয়িস্ট সেন্টার। প্রথমটির নেতৃত্বে ছিলেন কেপি ওলি আর দ্বিতীয়টির প্রচন্ড। ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে এই দলে মোট ১৭৪ জন এমপি আছেন, যার মধ্যে সিপিএন-ইউএমএলের ১২১ জন আর মাওয়িস্ট সেন্টারের ৫৩ জন, আর এই দুই দলের সংযুক্তির মাধ্যমেই সভায় কমিউনিস্টদের গরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়েছিল। দুই পার্টির সংযুক্তির সময় ঠিক করা হয়েছিল, কে পি ওলি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারি ও প্রশাসনিক কাজকর্ম দেখবেন, দলের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করবে না। আর প্রচন্ড দলীয় প্রধান হিসেবে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবেন।

সুত্র:আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য