শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মাননীয় মহাসচিব, সসম্মানে সরে দাঁড়ান: সৈয়দ শামছুল হুদা


তামাদ্দুন ২৪ ডটকম:কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশের সকল কওমী আলেমদের গর্বের জায়গা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আজ এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন সব আলোচনা ছড়িয়ে পড়ছে যার কারণে কওমী ঐহিত্য ধ্বংস হওয়ার উপক্রম। বর্তমান মহাসচিব মহোদয় এর সময়ে এসব বিষয় ব্যাপক আকার ধারণ করে। তিনি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যোগ্যতার সাথে পরিচালনায় অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকার নৈতিক অধিকার তিনি ইতিমধ্যেই হারিয়েছেন।

একটি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীলদের যে মানের চিন্তা-চেতনা থাকা দরকার, যে পরিমান সার্বিক দক্ষতা থাকা দরকার, তার অনেক অভাব রয়েছে। ২০১৬সালে তথাকথিত কাউন্সিলের মাধ্যমে মনগড়া কমিটি গঠন থেকেই এসব অনিয়মের চূড়ান্ত যাত্রা শুরু। এরসাথে বর্তমান মহাসচিবের ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সময়ে উপস্থিত ডেলিগেটগণ আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর উপস্থিতিতে বিক্ষুদ্ধ হলেও তারা কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেননি। অনেকেই চুপসে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান মহাসচিব নিজে এবং অধিনস্থ স্টাফদের সমন্বয়ে বোর্ডে একধরণের বলয় গড়ে তুলেন। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।

যেহেতু অনেক কিছুই এখন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে, অনেক কিছুই প্রকাশ হয়ে পড়েছে, এ অবস্থায় সম্মানিত মহাসচিব পদ আকড়ে ধরে রাখার জিদ করে বসে থাকলে কওমী মাদ্রাসার মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। তরুনদের ক্ষেপিয়ে কোনকালে কোন শক্তি টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান মহাসচিবও পারবেন না। এটা তিনি যত দ্রুত বুঝবেন, ততই তার জন্য মঙ্গল। একবার যখন তরুনরা মুখ খোলা শুরু করেছে এদেরকে সহজে থামানো যাবে বলে মনে হয় না। কেউ যদি এটা না বুঝতে চান তাহলে আপনারা ভুল করবেন।

বর্তমান মহাসচিব মহোদয় কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি পরবর্তী যে সব কর্মকান্ড প্রদর্শণ করেছেন তা কওমিয়ানদের ক্ষুদ্ধ করেছে। শুকরানা মাহফিলে প্রদত্ত বক্তব্যে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। স্বীকৃতি আদায়ে কওমী তরুনদের আশা-আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়নি। দেশে এখন লক্ষ লক্ষ তরুন আলেম, তারা এই স্বীকৃতি দিয়ে কীভাবে উপকৃত হবে তার কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। বড়রা তরুনদের আশা-আকাঙ্খা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরুন্ত নিজেরাই বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব কারণে তরুনরা আরো বেশি ক্ষুদ্ধ।

আল্লামা আহমদ শফী দা.বা. এর বয়সজনিত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই বোর্ড নিয়ে নানা ধরণের অনিয়মের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রকাশ হয়ে পড়া অডিওক্লিপে তা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। বেফাক বা হাইয়াতুল উলয়া কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়, যে কারণে এখানে কারো মৃত্যুর পর ভাগাভাগি করতে হবে। তরুনদের মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করুন। দয়া করে জিদ করবেন না। আপনারাই নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছেন। আপনারাই বেফাকের ভেতর বড়দের মধ্যে ভাগাভাগি করেছেন। আপনারাই একে অপরের মান-মর্যাদা নষ্ট করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

যারা ব্যক্তিগতভাবে সম্মানিত মহাসচিবের সাথে সম্পর্ক রাখেন, তাদের কাছে অনুরোধ করবো, যেহেতু বর্তমান মহাসচিব সাহেব নিজের গায়ে কাঁদা জড়িয়ে ফেলেছেন তাই সুন্দরভাবে কমিটির লোকদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি যেন আলোচনার আড়ালে চলে যান। কোনপদে না চাইলে সেখানে গায়ের জোড়ে থাকার জায়গা বেফাক না। এটা রাজনীতির জায়গা না। পদ-ভাগাভাগির জায়গা না।

লেখক: সম্পাদক:-নুরবিডি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য