শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

বাহুবলে হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ


এম.কাউছার মাহদী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল  উপজেলায় হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে একটি সড়ক নির্মাণ কাজে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগও দায়ের করেছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামে ‘জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’ (জাইকা) এর অর্থায়নে হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।

২২ শত ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার এ কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ‘হাসান এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। চলতি অর্থবছরে কাজটি সম্পন্ন হবার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ২০/২৫ শতাংশ কাজ। তবে এরইমধ্যে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে , ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারী সিডিউল এর কোন তোয়াক্কাই করছে না।

সরেজমিনে দেখা করা যায়, ঢালাইয়ে সিলিকা বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি। শ্রমিকরা নৌকা দিয়ে এ মাটি সংগ্রহ করছে পার্শ্ববর্তি হাওর থেকে। সিসি ঢালাইয়ের মিক্সিংয়েও চলছে তুঘলকি কাণ্ড। কংকিট-৬, বালু-৩ ও সিমেন্ট-১ অনুপাতে ঢালাইয়ের মিশ্রণ করার নিয়ম থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। মিশ্রনকৃত ঢালাইয়ের কোন কোন স্থানে কংক্রিটের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। ফলে কাজ শেষ হতে না হতেই ফেটে যাচ্ছে ঢালাই। এ অবস্থায় চৌকস শ্রমিকেরা ফাঁটল ধরা সিসি ঢালাই ঢেকে দিচ্ছেন আরসিসি ঢালাই দিয়ে।

সিসি-আরসিসি ঢালাইয়ের উচ্চতা নিয়েও করা হচ্ছে নয়-ছয়। ১১ ইঞ্চি উচ্চতার ঢালাই করার কথা থাকলেও দু'য়েকটি স্থান ছাড়া এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । সিডিউল অনুপাতে সিসি ও আরসিসি ঢালাই হবার কথা ছিল যথাক্রমে ৪+৭ ইঞ্চি। কিন্তু বাস্তবতা এর উল্টো।

এছাড়াও নির্মাণ শেষ হয়েছে এমন কিছু স্থান ঘুরে আরসিসি ঢালাইয়ে রডের চিহ্নও দেখা যায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইট, বালু, রড ও সিমেন্টসহ সকল সামগ্রিই নিন্মমানের। ফলে নির্মাণ শেষ হবার ৬ মাসের মধ্যেই ভেঙ্গে যেতে পারে সড়কটি।

তাদের অভিযোগ, গাইডওয়ালের উচ্চতাও সিডিউল অনুপাতে হয়নি। এখানেও উচ্চতা বাড়াতে অবলম্বন করা হয়েছে বিশেষ কৌশল।

শুধু তাই নয়, জনসাধারণের অবগতির জন্য প্রকল্প এলাকায় স্থাপন করা হয়নি ‘সিডিউল বোর্ড’। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদারের ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ধারী উজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, সাইনবোর্ড লেখার কাজ চলছে। আজ-কালই তা লাগানো হবে।

জানতে চাইলে সাতকাপন ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা প্রথমে এ অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। ঠিকাদার আমাদের কথায় পাত্তাই দেননি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি।

তিনি বলেন, ‘লুটের মহাতাণ্ডব  চলছে এখানে। চলছে কোটি টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা। আমরা কোন অবস্থাতেই চোখের সামনে সরকারের টাকা অপচয় হতে দেব না।’

ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. আব্দাল মিয়া বলেন, ‘অনিয়মের কথা শুনেছি। আমি নিজে গিয়ে দেখে যা করণীয় আছে তাই করব।’

এ বিষয়ে প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার জিল্লুর রহমানের সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন কথাই বলতে রাজি হননি। এমনকি তিনি তার প্রকল্পের নামটিও জানেন না বলে জানান।

তবে বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী আনিছুর রহমান ভূঁইয়া জানান ভিন্ন কথা। তার দাবী প্রকল্পের কাজ খুব ভালভাবেই চলছে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা তালুকদার বলেন, ‘আমি প্রকল্পটি দুইবার পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে দরখাস্ত পেয়েছি, অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কেএইচ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য