শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

প্রবাস জীবনের ঈদ

 নূরুল ইসলাম নাহিদ

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ। ঈদ শব্দটা শুনলেই হৃদয়ে আনন্দের
ঢেউ খেলা শুরু করে। বইতে থাকে সুখের হাওয়া। সকাল বেলা মায়ের হাতের
সেমাই-পায়েশ আহ! মনে পড়লেই মনটা নাড়া দিয়ে যায়। নতুন জামা পড়ে দলবেঁধে
গ্রামের রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেয়ে ঈদের নামায আদায় করা। প্রিয়জনদের সাথে
কুশল বিনিময় করা। ঈদের দিন বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা। আশে পাশের গ্রামে
আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। আত্বীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো মনকে
আনন্দে মাতিয়ে রাখা সময়, সবকিছু ভুলে প্রবাস জীবনের ঈদ একা কাটাতে হয়।

সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফজরের নামায অন্যান্য কাজ শেষ করে খুব ভোরে ঈদের
নামাযে যেতে হয়।  নামায শেষে তাড়াতাড়ি রুমে এসে খাবার খেয়ে প্রতিদিনের
মতই কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি। ঈদের নতুন পোশাক খুলে কাজের পোশাক পরেই মন
খারাপ হয়ে যায়। কেমন জীবন! ঈদের দিনও ছুটি নেই। আমাদের হৃদয়ে কি আনন্দ
বলে কিছু নেই? দুচোখে নিরবে অশ্রæ ঝরে তখন। কাজের ফাঁকে আবার সময় বের
করতে হয় পরিবারের জন্য। ফোন করে খবর নিতে হয় মা-বাবাসহ প্রিয়জনদের। হাসি
মুখে সবার সাথে কথা বলে নিজের কষ্টগুলো লুকিয়ে রাখতে হয়। মিথ্যে শান্তনা
দিয়ে ঢেকে রাখা হয় হৃদয়ের সব হাহাকার। পরিবার আত্বীয়-স্বজন ছেড়ে ঈদ
কাটানো কতটা বেদনাময় তা প্রবাসীরা প্রকাশ করতে পারে না। শুধুমাত্র
পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রবাসীরা সকল কষ্ট নিরবে সহ্য
করেন। দিন, মাস, বছরের পর বছর এভাবেই নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়ে দেন।
 সাপ্তাহিক
ছুটির দিন ঈদ হলে কিছুটা আনন্দ উপভোগ করা যায়। অনেক সময় কোম্পানী ব্যস্ত
থাকার কারণে তাও সম্ভব হয় না। ছুটির দিনেও অনেকের কাজে যেতে হয়। সবাই যার
যার মত ব্যস্ত। সময় পেলে কেউ ঘুমায়। বিনোদনের জন্য কেউ আবার অল্প সময়ের
জন্য বেড়াতে যায়, কারণ পরের দিন আবার কাজে যেতে হবে। সব মিলে নিজের মত
করে কিছু করা যায় না। মনের মত আনন্দে সময় কাটানো সম্ভব হয়ে উঠে না।
পরাধীনতার মধ্যে সময় অতিবাহিত করতে হয়। নিজের ভালো লাগাকে বিসর্জন দিতে
হয়। তাই মনে পড়ে ছেলে বেলার স্মৃতিগুলো। তবে বেশি মনে পড়ে দেশের কথা,
দেশের মানুষের কথা। হৃদয়টা পড়ে থাকে মা-মাটির দেশে। তাই প্রবাসীরা নিজের
পরিবারের সুখ-শান্তি মাতৃভূমির রেমিট্যান্স বৃদ্ধির জন্য দিন-রাত
পরিশ্রম করেন। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে প্রবাস
জীবনের ঈদে ভিন্ন স্বাদ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রের মুসলমানদের সাথে
এক জামায়াতে নামায আদায় করা সত্যি খুবই আনন্দের। বেড়ে যায় ঈমানের দৃঢ়তা,
নেয়া যায় নতুন অভিজ্ঞতা।

লেখক: শিক্ষার্থী, খিয়ংহি সাইবার বিশ্ববিদ্যালয়
সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া

এ.এ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য