শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

একজন আল্লামা মাহমুদুল হাসান: ক্রান্তিকালের রাহবার

 



তামাদ্দুন ২৪ ডটকম: প্রত্যেক জাতির নিজস্ব কিছু রীতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। এসব ঐতিহ্যের কিছু ভালো, কিছু মন্দ। তবে বাংলাদেশে গুণ ও গুণীর কদর খুব কম হয়- এটা অনেকটা স্বীকৃত এক মন্দ ঐতিহ্য। আবার ক্ষেত্রবিশেষ দেখা যায়, অনেককে সম্মান জানানো হয়, জ্ঞান-গুণের বদলে টাকার জোরে। অথচ আমরা ভুলে যাই, গুণীজনদের সম্মান দেওয়া, তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া কোনো অন্যায় কাজ নয়। তাতে তাদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়বোধ আরও বাড়ে। গুণীদের প্রতি যথার্থ সম্মান জানানো মানে নিজেদেরকেই সম্মানিত করা। অন্যকে সম্মান দিয়ে কেউ ছোট হয় না, বরং সম্মান বৃদ্ধি পায়।
আমাদের দেশের এমনই একজন গুণী মানুষ হলেন- মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান। মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমির। জামিয়া ইসলামিযা দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস। আমাদের ময়মনসিংহের সন্তান, আমাদের মাটির গর্ব।
তিনি শুধু জ্ঞানচর্চাতেই শুধু মনোনিবেশ করেননি, বরং হাদিসের দরসে (শিক্ষকতা) নিবেদিত থেকে আদর্শ মানুষ গড়ার মিশনে রত। মসজিদের মিম্বর কিংবা ওয়াজের মঞ্চে বসে গালগপ্প না বলে, ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়ে, সুন্নতের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে- সাধারণ মানুষকে দ্বীনের পথে আনার কাজে মশগুল।
তার সাদাসিধে জীবন অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। নিরন্তর জ্ঞানচর্চা, মানুষকে দ্বীনমুখী করা ও অধ্যাপনায় নিবিড়ভাবে নিবেদিত থাকা ছাড়া জীবনে অন্য কিছু নিয়ে তিনি কখনও ভাবেননি। কাজের ক্ষেত্রে তার নিভৃতচারিতা প্রবাদতুল্য। এ জন্য যদিও কারণে-অকারণে তাকে নানা বদনাম ও কটূকথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু তিনি নিজ সাধনা ও কাজের প্রতি শতভাগ নিবেদিত ছিলেন বলেই সফলতা তার পদচুম্বন করেছে। তিনি কখনও প্রচার চাননি, নীরবে কাজ করাটাই তার পছন্দ। কিন্তু তার কাজের সুফল দেশ ও জাতি ভোগ করছে, ভবিষ্যতেও করবে।
১৯৯৩ সালের কোনো এক বৃহস্পতিবার। তখন আমি ময়মনসিংহের জামিয়া ইসলামিয়ায় পড়ি। রুটিন করে প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ি যাই। কিন্তু এক বৃহস্পতিবার যাইনি। কারণ, আগেই ঘোষণা করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জামিয়া ইসলামিয়া আসবেন- মুহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
মুহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক (রহ.) সম্পর্কে আমাদের উস্তাদরা বললেন। ব্যস, উনাকে এক নজর দেখার জন্য, একটু মোসাফাহা করার জন্য রয়ে গেলাম মাদরাসায়। আসরের নামাজের কিছু আগে মুহিউস সুন্নাহর গাড়িবহর এলো। যথারীতি নামাজ শেষে বয়ান হলো। বয়ানের পর আজান ও ইকামতের মশক এবং ‘এক মিনিটের মাদরাসা’ নামে একটি বই তালিম হলো। ওই দিন প্রথম দেখি আল্লামা মাহমুদুল হাসানকে। এর পর অনেকবার যাত্রাবাড়িতে দাওয়াতুল হকের বাৎসরিক ‘ইজতিমা’য় শরিক হয়েছি। কিন্তু তখনও একান্ত সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।
২০১০-১১ সালে অগ্রজ শরীফ মুহাম্মদ, বন্ধুবর জহির উদ্দিন বাবর, হুমায়ুন আইয়ুব ও গাজী সানাউল্লাহসহ আমরা কয়েকজন মিলে বিশ্ব ইজতেমা বিষয়ক প্রথম দৈনিক প্রকাশনা ‘ইজতেমা প্রতিদিন’ বের করি পর পর দু’বছর। এ কাজের তিনি ব্যাপক প্রশংসা করেন এবং ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে তিনি ‘ইজতেমা প্রতিদিন’র পুরো টিমকে দাওয়াত করেন। নানা ব্যস্ততায় সবার যাওয়ার সুযোগ হয়নি। আমাদের প্রায় দশ জন তার ‘বিশেষ দাওয়াতে’ যাত্রাবাড়িতে যাই। সেখানে অন্তরঙ্গ পরিবেশে দীর্ঘ আট-দশ ঘণ্টা আলাপ হয় তার সঙ্গে। এই বৈঠকের পুরো কৃতিত্ব হজরতের দ্বিতীয় ছেলে মাওলানা মাসরুর হাসানের।
এর পর আরও অনেকবার তার সঙ্গে একান্তভাবে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। প্রতিবার সাক্ষাত শেষে মনে একটা অতৃপ্তি নিয়ে এসেছি। মানুষের সঙ্গে কথা বলার, মানুষকে আপন করে নেওয়ার এক জাদুকরি শক্তি রয়েছে তার। ভদ্রতা ও সৌজন্যতাবোধ তার ভূষণ। সুশ্রী চেহারা আর উত্তম ব্যবহারে অতি সহজে যে কারও মন জয় করে নেন তিনি। সাক্ষাতে নানা আলাপ, অভিযোগ, দাবি ও নালিশ উত্থাপন করেছি। কিছুটা আবদার কিংবা অনুযোগের সুরে। তিনি কখনও বিরক্ত হননি। উল্টো স্নেহ ও ভালোবাসা মিশ্রিত কণ্ঠে জবাব দিয়েছেন, কথা বলেছেন। কথার ফাঁকে হুজুরের ‘পানের খিলি’তে আমার দখলদারিত্ব চলে অবলীলায়, এটা এখনও চলমান।
মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান। পিতা গালীব উদ্দীন আহমাদ, মাতা ফাতিমা রমজানী। ময়মনসিংহ সদরের চরখরিচা গ্রামে ১৯৫০ সালের ৫ জুলাই তার জন্ম। ময়মনসিংহের বালিয়া মাদরাসা, জামিয়া ইসলামিয়া মোমেনশাহী, জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ ও লালবাগ মাদরাসায় পড়াশোনা শেষে বিন্নুরি টাউন পাকিস্তান থেকে দাওরায়ে হাদিস শেষ করে সেখানে তাখাসসুসাত পড়াশোনা করেন। পাকিস্তানের জামিয়া ফারুকিয়া করাচিতে সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
তিনি মাত্র ২৮ দিনে কোরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। শায়খুল হাদিস ইউসুফ বিন্নুরী (রহ.), আল্লামা ইদরিস মিরাঠী (রহ.), আল্লামা শায়খ ওয়ালী হাসান (রহ.) ও আল্লামা হেদায়াতুল্লাহ (রহ.) সহ যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসদের কাছ থেকে তিনি হাদিসের সনদ লাভ করেছেন।
গুলশান আজাদ মসজিদের খতিব তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদের নিয়মিত তাফসির করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ইসলামি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। মাসিক আল জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়ার সদস্য। কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের সহ-সভাপতি।
দ্বীনি বিষয়ে সতর্কতা তার একটি প্রশংসনীয় গুণ। এ কারণে মাদরাসার জন্য অনুদান গ্রহণে তিনি অত্যন্ত সতর্ক। যদি বুঝতে পারেন, কেউ প্রভাব বিস্তার বা অন্যকোনো দুরভিসন্ধি থেকে মাদরাসায় দান করতে চাচ্ছে কিংবা তার দান গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা হতে পারে, তাহলে ওই দান তিনি গ্রহণ করেন না।
শরয়ী মাসয়ালার ব্যাপারে তিনি আপোসহীন। বিশেষ করে ছবির বিষয়ে। ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা নিয়ে নানা মত এবং আলেমদের একাংশের এটা নিয়ে শিথিলতা থাকলেও তিনি ছবির বিষয়ে কঠোর। এ কারণে প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তার মসজিদে জুমা পড়তে আসলে হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদকে ফিরিয়ে দেন। দাওয়াতুল হকের কাজে বা বিভিন্ন দ্বীনি প্রোগ্রামে সারাদেশে তিনি সফর করেন। কিন্তু কোথাও বয়ান করে টাকা নেন না। এমনকি আয়োজকদের খাবারের দাওয়াতও কবুল করেন না।
আল্লামা মাহমুদুল হাসান আত্মমর্যাদাবোধ প্রবাদতুল্য। সবকাজে তিনি আলেম হিসেবে গাম্ভীর্য ও আত্মমর্যাদাবোধ বজায় রাখেন। তার মধ্যে কখনও কোনো বিষয়ে হীনম্মন্যতা দেখা যায় না।
ইলমি নিমগ্নতায় ক্ষতি হবে বিবেচনায় তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেননি। রুটিনমতো কাজ করার অভ্যাস তার মজ্জাগত বিষয়। সময় নষ্ট করা তার স্বভাবে নেই। তার উপস্থাপনা শক্তি বিস্ময়কর। বয়ানও সম্মোহনপূর্ণ। ছাত্রদের প্রতি রয়েছে তার রয়েছে অগাধ মহব্বত। মাদরাসার উস্তাদদের অত্যন্ত কদর করেন। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ছাড়াও প্রয়োজনে সর্বাত্মক সহায়তা করেন। যাত্রাবাড়ী মাদরাসার শিক্ষকদের জন্য আবাসিক ভবন রয়েছে, তাতে নামমাত্র ভাড়া দিয়ে উস্তাদরা থাকেন। এমনকি কাজলায় উস্তাদদের জন্য ৭ তলা ভবন নির্মাণ করে এবং নামমূল্যে শিক্ষকদের ফ্ল্যাট দিয়েছেন।
প্রচার বিমুখ এই মনীষী প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করে নিজ জন্মস্থানে বিশাল আয়তনের দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন। মসজিদে নববীর আদলে ‘মদিনা মসজিদ’ নামে নির্মিত মসজিদটির বিশেষত্ব হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গম্বুজ সংযোজন। সুইচ অন করলেই সরে যায় এর গম্বুজ এবং মসজিদের ভেতর থেকে দেখা যায় আকাশ। বাংলাদেশে এর আগে দেশের কোনো মসজিদে বৈদ্যুতিক গম্বুজ সংযোজন করা হয়নি। মসজিদের কারুকাজে ব্যবহৃত হয়েছে মার্বেল পাথর আর দামি কাঠ। মসজিদের পাশে একটি বড় কওমি মাদরাসাও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। ইতোমধ্যেই মাদরাসাটি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
উল্লেখ্য, নিজের জন্মভূমিতে তিনি কোনো বাড়ি বানানি। সেখানে প্রতিষ্ঠা করেছেন মসজিদ ও মাদারাসা। অথচ ইচ্ছা করলে তিনি সেখানে আলিশান বাড়ি বানাতে পারতেন।
অসাধারণ প্রজ্ঞা, কৌশল ও অতুলনীয় পাণ্ডিত্যের অধিকারী এই আলেমে দ্বীনের সংস্পর্শে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সুন্নতের অনুসারী হয়েছেন। আলেমসমাজ তো বটেই, সাধারণ শিক্ষিত উঁচুতলার ব্যক্তিরাও তার জ্ঞানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি একজন খ্যাতিমান লেখক ও ইসলামি গবেষক। কোরআনে কারিমের পূর্ণাঙ্গ তাফসির রচনা ছাড়াও তিনি দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তন্মধ্যে ৮৪টি বই প্রকাশ পেয়েছে, অন্যগুলো প্রকাশের পথে।
চার খণ্ডে তার রচিত ‘তাফসীরে বুরহানুল কুরআন’ বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া দাওয়াতুল হক আওর দাওয়াত ও তাবলিগ, ইসলাম ও আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা, নবী পরিবারের প্রতি ভালবাসা, হয়াতে আবরার, হায়াতে উসমানি, আল বুরহানুল মুআইয়াদ, তোহফায়ে আবরার, তোহফায়ে সুন্নাহ, আদর্শ মতবাদ, মাওয়েজে হাসানাহ, সিরাতে মুস্তাকিমের সন্ধানে তার উল্লেখযোগ্য রচনা।
বাংলার পাশাপাশি আরবি ও উর্দুতে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিতাব রচনা করেছেন। তার রচিত ‘আর রদ্দুল জামিল’ আরব বিশ্বে সাড়া জাগানো একটি কিতাব। আরব বিশ্বে আল্লামা মাহমুদুল হাসানের প্রদত্ত বয়ান সংকলন ‘আল ইরশাদ ইলা সাবিলির রাশাদ’ এক অসাধারণ বই। আরবি ও উর্দূতে তিনি অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। সেগুলো একত্রে সংকলনের কাজ চলছে।
আল্লামা মাহমুদুল হাসান মুহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক (রহ.), শায়খ সাইয়্যেদ ইউসুফ হাশেম রেফায়ী, শায়খ সাইয়্যেদ মাহমূদ হাশেম রেফায়ী, শায়খ ইসহাক সিদ্দিকী, শায়খ দৌলত আলী (রহ.), শায়খুল হাদিস মাওলানা আবদু মান্নান কাশিয়ানী হুজুর (রহ.) এবং শায়খুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেছেন। দেশে ও দেশের বাইরে দেড় শতাধিক আলেম-উলামা তার মাজায ও খলিফা রয়েছে।
ইসলামের প্রচার-প্রসার, বিভিন্ন সম্মেলন ও সভা-সেমিনারে অংশ নিতে তিনি ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও তিনি সুন্নতের পয়গাম নিয়ে হাজির হয়েছেন।
বি.বাড়িয়া, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেড় শতাধিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলোর মধ্যে প্রায় ২৫টি দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত। মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পড়ালেখা ও পরিবেশ সবই প্রশংসনীয়।
সমালোচকরা প্রায়ই বলেন, তাবলীগ ইস্যু ছাড়া জাতীয় পর্যায়ের কোনো সংকট, আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে কখনও দেখা যায়নি। হ্যাঁ, তাকে কখনও রাজনীতি কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি। সবাইকে রাজনীতি কিংবা আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে হবে এটা জরুরি নয়। আচ্ছা, তিনি কি কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের বিরোধীতা করেছেন? আন্দোলন-সংগ্রামের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করেছেন? উত্তর, অবশ্যই না।
এখন যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সম-সাময়িক কেউ কি আছেন, যিনি একসঙ্গে মাদরাসা পরিচালনা, লেখালেখি, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, সংগঠন পরিচালনাসহ সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে তার সমান পরিমাণ ভূমিকা রেখেছেন? আসলে বিষয়গুলো পাল্টা-পাল্টি বলার বিষয় নয়। বিষয় মনোভাবের, কাজের স্বীকৃতির, গুণের সম্মানের। যেটা লেখার শুরুতে উল্লেখ করেছি।
দুই ছেলে ও চার মেয়ের জনক আল্লামা মাহমুদুল হাসান। ছেলেরা হলেন- মাওলানা মায়মুন হাসান ও মাওলানা মাসরুর হাসান।
দাওয়াতুল হকের কাজ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, হাদিসের দরস, ইসলাহি বয়ান ও লেখালেখিসহ দ্বীনের বিভিন্ন অঙ্গনে তার অবদান অপরিসীম। দেশের আনাচে-কানাচে তার হাজার হাজার ছাত্র রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রচার-প্রসারে তার ভূমিকা দেশবাসীর নিকট সমাদৃত। বিশেষ করে বিভিন্ন অঙ্গনের নানাপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, উলামা-মাশায়েখ, পীর-বুজুর্গসহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বিশেষ সম্মানের অধিকারী। বাংলাদেশের বাইরেও তার রয়েছে প্রশংসনীয় অবস্থান।
তার এই সাফল্য একদিনে অর্জিত হয়নি। মেধা, সততা ও কর্মদক্ষতার গুণে তিনি এসব কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন। এগুলো তার সংগ্রাম-সাধনার ফল। এ জন্য তার কোনো বাহবা পাওয়ার নেশা নেই, নেই নিজেকে মেলে ধরার, প্রকাশ করার কোনো প্রচেষ্টা। দোয়া করি, তার কাজ ও সাধনা আরও সফল হোক। দেশ ও জাতি তার কাজ থেকে উপকৃত হোক। আমিন।

লেখক:- মুফতি এনায়েতুল্লাহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য