শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আল্লামা আহমদ শফির ইন্তেকালে বরেণ্য লেখক মাও. আলি হাসান তৈয়বের শোকাবহ পোস্ট



এক.

আল্লাহ পৃথিবীকে বড় অদ্ভুত রঙ্গমঞ্চ বানিয়েছেন। দুদিন আগে যাঁর প্রতি এত ক্ষোভ ছিল, আজ তার জন্য হৃদয়টা কাঁদছে। আবেগে বুক ভারি হয়ে আসছে। আল্লাহ তাআলা প্রজন্মের উস্তায শাহ আহমাদ শফিকে রহমত ও মাগফিরাতের চাদরে আবৃত করে নিন। জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।

এক জীবনে তাঁর অর্জন কত! শিক্ষক হিসেবে রেখে গেলেন ওপারের পাথেয়— স্থায়ী নেকির অফুরান ভাণ্ডার— লাখ লাখ ছাত্র। এত আলেমের উস্তায ইতিহাসে আর কতজন হতে পেরেছেন? তেমনি সময়ের নায়ক হিসেবে বদলে দিয়েছেন ইতিহাসের বাঁক। এদেশে নাস্তিক হওয়া এতদিন হালফ্যাশনে পরিণত হত এই মহানায়কের উত্থান না হলে। আমাদের দেখা ইতিহাসে এভাবে এক শ্লোগানের নিচে সব মত-পথের রাসূলপ্রেমীর একীভূত হওয়াও বিরাট ইতিহাস।
দুই.
শেষ ভালো যার সব ভালো তার। আল আ'মাল বিল খাওয়াতিম। তীরে এসে যখন তাঁর তরী ডোবার মত অবস্থা, তখন যেন হাদিসের খাদেমদের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়া লেগে গেল। নাদ্দারাল্লাহু ইমরাআন সামিয়া মাকালাতি... । 'যে ব্যক্তি আমার বক্তব্য শুনেছে, অতঃপর তার প্রচার করেছে, আল্লাহ তাকে হাস্যোজ্জ্বল ও সতেজ করুন।' (তিরমিজি : ২৬৫৬; আবু দাঊদ : ৩৬৬০; আহমাদ : ২১০৮০। তাহক্বিক্ব আলবানি : সহিহ)
একদম শেষ মুহূর্তে সঠিকতম কাজটি করে গেলেন। বিতর্কিত পুত্রের বহিষ্কার মেনে নিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে নিজেও সরে গেলেন দায়িত্ব থেকে। জীবনের সব পাওয়াকে পূর্ণতা দিলেন তিনি। যেনবা সব অপূর্ণতা ও সীমাবদ্ধতাকে উৎরে গেলেন। ভাবতে পারেন তিনি দুদিন আগে চলে গেলে কেমন হত? বলবেন, পরিস্থিতি। আমি বলব, আল্লাহর তাওফিক।
নিচের হাদিসটি পড়ে আবেগ ধরে রাখা কঠিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : 'আল্লাহ তাআলা যদি কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন সে বান্দাকে ‘আসাল’ করেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন : আসাল কী? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বিশেষ একটি ভালো কাজ করার তাওফিক দেন এবং এই আমলের ওপর তার মৃত্যু ঘটান।' (আহমাদ : ১৭৩৩০)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য