শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ধর্ষিতা নারী:বিবস্ত্র বাংলাদেশ কোথায় নারীবাদীরা:সৈয়দ শামছুল হুদা


 আকরাম এইচ বি:তামাদ্দদুন২৪ডটকম: নারীবাদ একটি ঘৃণিত শব্দের নাম। বাংলাদেশের নারীবাদিরা সবসময় অপরাধের সহযোগি হিসেবে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। এক ধরণের বিকৃত মস্তিস্কের অধিকারী এই নারীবাদিরা সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। এরা কখনোই  সত্যিকার অর্থে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেনি। এরা এক ধরণের ভাড়াটে। এই ভাড়াটের নানা অর্থ আছে। এরা বিদেশি প্রভুদের কাছে অর্থের বিনিময়ে নিজেদের স্বকীয়তা, সতীত্ব সব ভাড়ায় খাটায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলিম সংস্কৃতি, সভ্যতা কীভাবে ধ্বংস করা যায় তার জন্য ওরা ভাড়াটে হিসেবে খাটে। এদেশের বড় বড় পয়সাওয়ালা, শিল্পপতিদের ভাড়াটে হিসেবে এরা খাটে। এই ভাড়াটে মহিলারা এক ধরণের সন্ত্রাসী, এক ধরণে নারীবাদি জঙ্গি। এরা এদেশের মেয়েদের বিবাহ প্রথার ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত। কোথাও ১৫/১৬বছরের মেয়ের বিয়ে হলেও কুকুরের মতো ওরা চিল্লাইয়া উঠে। বলে, হায় হায়! সবগেলো!! বাল্য বিবাহ নাম দিয়ে ওই কুকুরের বাচ্চারা প্রশাসনের একদল অতি উৎসাহি জানোয়ারদের দিয়ে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার পর ক্যামেরার সামনে এসে বুক টান টান করে ছবি তুলে। 


আজ ধর্ষণময় বাংলাদেশ তৈরীতে এদের অবদান শতভাগ। ঐ যে অন্ধকার জগতের অন্যতম মুখপাত্র প্রথম অন্ধকার এইসব নারীবাদিদের অর্থদিয়ে পালে। এরা ব্যারিস্টার মুঈনুল হোসেনদের মতো সাহসী মানুষদের জেল খাটায়। এরা নুরুল হক নূরদের মতো সাহসী তরুন নেতাদের ফাঁসাতে মামলা সাজায়। কিন্তু এরা সত্যিকার অর্থে যারা সমাজে অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে কখনোই দাঁড়ায়নি। এরা নুসরাতের পক্ষে দাঁড়ায়নি। এরা এমসি কলেজের স্বামীর সাথে ঘুরতে যাওয়া ধর্ষিতা সেই বোনের পাশে দাঁড়ায়নি। এরা নোয়াখালীতে ধর্ষিতা বাংলাদেশ এর পাশেও দাঁড়াবে না। এরা রাজনৈতিক বেশ্যা। এরা সবসময় তেতুল তত্ত্ব খোঁজে। শত বছরের একজন আলেমকে নিয়ে ওরা কটাক্ষ করে তেতুল নিয়ে ওরা মুখ দিয়ে লালা ঝরায়। কখনোই এদেশের নারীবাদিদের সুন্দর সমাজ গঠনে ভালো কোন ভূমিকায় দেখা যায়নি। বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ দেখা ছাড়া আর কোন কাজ ওদের নেই। ওরা সবসময় ওৎ পেতে থাকে কোথায় কোন হুজুর কোন অপরাধ করলো কী না! তা দেখার জন্য। আর তখনই কেবল ওরা মাঠে নামবে। দল বেধে রাস্তায় এসে দাঁড়াবে। 


নারীবাদ তৈরীই হয়েছে একমাত্র ইসলামকে কিভাবে সমাজের সামনে, রাষ্ট্রের সামনে বিকৃত উপায়ে উপস্থাপন করা যায় তা বাস্তবায়নের জন্য। ওরা বিয়ে প্রথার ঘোর বিরোধী। ওরা লিভ টুগেদারে বিশ্বাস করে। ওরা রাস্তাঘাটে, রাতে-বিরাতে নারী-পুরুষের উদোম নিত্যের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। ইসলামের দেওয়া ভারসাম্যপূর্ণ, ইনসাফপূর্ণ নারী অধিকারকে কিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় তার জন্য কাজ করে। ওরা পাশ্চাত্যের গোলামী করতে করতে নিজেদের সকল  চিরাচরিত ঐতিহ্যের কথাও ভুলে গেছে। এরা না বিশ্বাস করে বাংলাদেশের মানুষের সমাজ-সংস্কৃতিকে, না বিশ্বাস করে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের বিশ্বাস ও বোধকে। এদের কাছে সবচেয়ে অসহ্যের বিষয় হলো ইসলাম। ইসলামে দেওয়া নারী অধিকার। নারীর মর্যাদা। ওরা বিশ্বাস করে সী-বীচে উলঙ্গ হয়ে শুয়ে পরতে পারাটাই হলো নারী স্বাধীনতা। হোটেলে পুরুষের সাথে রাতে একসাথে থাকতে পারাটাই হলো নারী স্বাধীনতা। বিদেশ-বিভুঁইয়ে যে কোন সময় যে কোন পুরুষের সাথে অবাধ চলাফেরা করতে পারায় নারী স্বাধীনতা। 


ওরা এক ধরণের চরম পুরুষ বিদ্বেষী। কথায় কথায় পুরুষ শাসিত সমাজ, পুরুষ শাসিত পরিবারকে ঘৃণার সাথে উপস্থাপন করে। পুরুষের সার্বিক নিরাপত্তায় দেয়া মিটিংয়ে ওরা পুরুষ শাসিত সমাজের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দেয়। ওরাই তৈরী করেছে মা-বাবার খুনি ঐশিদের। ওরাই তৈরী করেছে মাফিয়াডন পাপিয়াদের। ওরাই তৈরী করেছেন বরগুনার খুনি মিন্নিদের। ওদের কারণেই আজ সমাজে অপরাধের ব্যপকতা।  ওরা ভালো মানুষগুলোর চরমশত্রু। সামাজিকভাবে যারা বাধার সৃষ্টি করতো তাদেরকে ওরা নানা শব্দবানে জর্জরিত করেছে। 


সমাজের আলেম-উলামা, ইমাম-খতিবরা এদের চরম শত্রু। কারণ উনারা নারীদের পশ্চিমায়নের পথে বড় বাধা। তাসলিমা নাসরীন মার্কা সংস্কৃতির পথে এদেশের আলেম সমাজ বড় বাধা।  মসজিদের ইমাম ও খতিবরা বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে যখন সমাজকে সচেতন করতে চায় তখন ওদের খুব জ্বলে। আজ ওরা বিদেশি শক্তিকে ব্যবহার করে সরকারকে এমনভাবে কাবু করেছে, যে কারণে সমাজে এখন আলেম-উলামারা সমাজে প্রকাশ্যে অন্যায় ঘটতে দেখলেও কিছু বলতে পারে না। কিছু বললেই আলেম-উলামাদের জঙ্গি বানিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার নানা ফন্দিতে সরকার ও প্রশাসনকে ওরা ব্যবহার করে। ১৬/১৭ বছরের কোন মেয়েকে বিয়ে দিলেও ওরা প্রশাসন নিয়ে এসে হাজির হয়। বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে দেওয়ার কৃতিত্বে ওদের বুক ভরে যায়। 


সমাজে এখন ভালো মানুষগুলো খুব অসহায়। যে কারণে চতুর্দিকে আজ এমন সব ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে চলেছে যার কোন প্রতিকার নেই। চতুর্দিকে বখাটেপনা চরম আকার ধারণ করেছে। সরকার ও বিদেশি শক্তি মিলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নৈতিকতার জায়গা থেকে চরমভাবে ধ্বংস করেছে। এখন ওরা রাস্তাঘাটে চরম বেপরোয়া। সমাজে কোন বিচার-আচার নেই। কেউ করার সাহসও পায় না। কারণ প্রশাসন অপরাধীদের সহযোগী। আইন তাদের সহযোগিতা করে। ভালো মানুষদেরকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রের জোরে ওদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 


বাংলাদেশে ধর্ষণশিল্পের বিকাশে ঐ সকল নারীবাদিদের ভূমিকা সবার ‍উপরে। আসুন, বাঁচার জন্য, সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য ঐ সমস্ত তথাকথিত নারীবাদিদের বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াই। পারিবারিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত কোন বিয়েই সরকার ও প্রশাসন ভাঙ্গতে পারবে না সেই আওয়াজ তুলি। যে কোন বিয়েতে প্রশাসন কোন বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। বিয়ে প্রথাকে সহজ না করলে ধর্ষণ সংস্কৃতি কোনদিন বন্ধ হবে না।


সমাজে ভালো মানুষদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিই। তাদেরকে আবার সমাজে যে কোন অন্যায় হতে দেখলে তারা যেন বাধা দিতে পারে, বিচার করতে পারে সেই সংস্কৃতিটা আবার ফিরিয়ে আনি। সবকিছুর জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। নিজেদের রক্ষার জন্যই সামাজিক প্রতিরোধ শক্তিকে শক্তিশালী করা সময়ের অপরিহার্য দাবী। আসুন, তথাকথিত এই সব নারীবাদকে রুখে দাঁড়াই। 

 

05.10.2020

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য