শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

পদত্যাগের মূহুর্তে মাওলানা মাহফুজুল হকের আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য: তামাদ্দুন

 



ইবনে সাবিল: তামাদ্দুন ২৪ ডটকম:

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
মুহতারাম,
অন্যায়ের প্রতিবাদ, বাতিলের মোকাবিলা ও আল্লাহর দ্বীনের মর্যাদা সমুন্নত করার লক্ষ্যে তৎপরতা পরিচালনা ও প্রয়োজনে সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা একজন মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব। সংগ্রামমুখর এই ময়দানে সফলতা পেতে হলে সংঘবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই। আর সফল সংঘবদ্ধতা নেতৃত্ব ও আনুগত্যের শৃঙ্খলা ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।
ইসলামের এ ঐতিহাসিক প্রয়োজন পূরণে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহিমাহুল্লাহ সমকালীন বরেণ্য আরো কিছু ইসলামী ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৮৯ সালের ৮ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। প্রায় সূচনাকাল থেকেই আল্লাহর দ্বীনকে ভালোবেসে ইসলামের গৌরব সমুন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে আমিও শামিল হয়েছিলাম ঈমানদীপ্ত এই কাফেলায়।
অন্যান্য দ্বীনী কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি বালাদেশ খেলাফত মজলিসের কাজে প্রায় তিন দশক যাবত সংশ্লিষ্ট আছি। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে থেকেই আল্লাহর তৌফিক অনুযায়ী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। এক পর্যায়ে সংগঠনের প্রায় সকল দায়িত্বশীল আমাকে সংগঠনের মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করেন। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা জোর-পূর্বক এই বিশাল দায়িত্বের বোঝা চেপে বসে আমার কাঁধে।
হাজারো সীমাবদ্ধতা আর অযোগ্যতা সত্বেও দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি আমি এই মহান আমানতের যিম্মাদারী পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি সংগঠন ও আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখার। দেশ ও প্রবাসের সকল শাখা ও জনশক্তিকে সাথে নিয়ে সংগঠনকে গতিশীল, সম্প্রসারিত ও মজবুত করার প্রয়াস পেয়েছি। সেইসঙ্গে দেশ-জাতি ও ইসলামের পক্ষে যেকোনো প্রয়োজনে সংগঠনকে নিয়ে ময়দানে ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থেকেছি। ক্ষেত্রবিশেষে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ার লক্ষ্যে সমমনা অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের সাথে এক সাথে পথ চলেছি।
মোটকথা আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবোজ্জল এক অধ্যায় রচনায় সংগঠনের মহাসচিব হিসাবে একজন সহযোদ্ধার ভূমিকা পালন করেছি। আর এই গুরু দায়িত্ব পালনে সাবেক আমিরে মজলিস মরহুম প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ ও বর্তমান আমীরে মজলিস শাইখুল হাদীস মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অভূতপূর্ব সহযোগিতা পেয়েছি। এভাবেই প্রায় ৭ বছর যাবত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মতো একটি জাতীয় সংগঠনের মহাসচিবের গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পথ চলেছি।
এই সুদীর্ঘ সময়ে আমাদের সাফল্যের যেমন সুখকর অভিজ্ঞতা রয়েছে, ভুল-ভ্রান্তি ও ব্যর্থতার অনাকাক্সিক্ষত কোনো পর্ব নেই তা নয়। যতটুকু সাফল্য এসেছে তা আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে এসেছে। আর ব্যর্থতা ও অপ্রাপ্তির দায় আমি আমার কাঁধেই তুলে নিচ্ছি।
সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণের বেশ আগে থেকেই আমি বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহের সর্ববৃহৎ প্ল্যাটফর্ম বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালন করে আসছিলাম। অতিস¤প্রতি বেফাকের মহাসচিবের পদ শূন্য হওয়ার প্রেক্ষিতে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে আমার কাঁধে বেফাকুল মাদারিসের মহাসচিবের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বেফাকের শীর্ষ মুরুব্বিগণ মনে করছেন দ্বীন ও মিল্লাতের বৃহত্তর স্বার্থে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব আমার পালন করা উচিৎ।
এদিকে বেফাকের গঠনতন্ত্র মোতাবেক মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের দায়িত্বমুক্ত হওয়া জরুরী। বেফাকের মুরব্বী ওলামায়ে কেরাম সুধারণার প্রেক্ষিতে আমার ওপর যে আস্থা জ্ঞাপন করেছেন, আমি মনে করি সে আস্থার মূল্যায়ন করা আমার কর্তব্য। সে মতে আমীরে মজলিসসহ কেন্দ্রীয় অনেক দায়িত্বশীলের সাথে প্রাথমিক পরামর্শক্রমে আমি বেফাকের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণে সম্মতি জানিয়েছি।
এহেন প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কোনো দায়িত্বে থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। একান্ত বাধ্য হয়ে তাই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সকল দায়িত্ব থেকে আমি অব্যাহতি চাচ্ছি। বেফাকের গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে দলীয় দায়িত্বে থাকা অসম্ভব হলেও ইসলামের গৌরব রক্ষা এবং ইসলাম ও দেশবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে যেকোনো তৎপরতা ও সংগ্রামে আমি ভবিষ্যতেও যথাসাধ্য ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকব ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে আমাকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের অনুরোধ করছি। আশা করি, আমার অবর্তমানে আপনারা একজন যোগ্য দায়িত্বশীলকে বেছে নিবেন। আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাণপ্রিয় এই কাফেলার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার ভুলত্রæটি ক্ষমা করে দিন ও আপনাদেরকে সম্মুখ পানে এগিয়ে যাওয়ার হিম্মত ও তাওফিক দান করুন।
শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, হজরত মাওলানা আব্দুল গাফফার, সাবেক এমপি মাওলানা ওবায়দুল হক, প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবীবুর রহমান, শায়খুল হাদীস মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ও মাওলানা নেযামুদ্দিন রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখ মরহুম বুযুর্গদের এই আমানতকে আল্লাহ মঞ্জিল পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক দান করুন। আমীন।

ওয়াসসালাম
মাওলানা মাহফুজুল হক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য