শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

"মুরগীওয়ালার বাঁশি" আয়েশা জান্নাত



তামাদ্দুন সাহিত্য: কেমন যেনো আগের মত আর ঘুম আসেনা, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকি বাঁশির সূর শুনবো কখন এই অপেক্ষায়। সেদিন ভরা জোঁসনায় ভাসিয়ে নিয়েছিলো আমার গ্রাম। মাঝরাতে বাঁশির শব্দ কানে আসতেই উঠে বসলাম দ্রুত, এই অপেক্ষাতেই চুপটি মেরে ছিলাম এতক্ষণ। কাঁপা কাঁপা হাতে দুরুদুরু বুকে খুলে দিলাম জানালার কপাট। ছিটকে এসে বিছানা ভাসিয়ে নিলো আচমকা জোসনার ঢেঁউ। দম আমার আটকে আসতে চাইলো উত্তাল জোসনার মাতাল স্রোতে। পাশে বড় বোন শুয়ে আছে, জানিনা ঘুমিয়ে আছে নাকি ঘুমের ভান করে আমাকেই দেখছে।

গতকাল রাতে বাঁশির শব্দে ঘুম ভাঙতেই আমিও দেখেছিলাম বোন জানালার কাছে বসে বাঁশি শুনছে, কে জানে জানালা খুলে হয়ত বাঁশিওয়ালাকেও দেখছিলো লুকিয়ে লুকিয়ে। আজ যে আমার মতই ঘুমের ভান করে আমাকে দেখছেনা তার নিশ্চয়তা কী! বাইরে বাতাস বইছে ভীষণ। মনেহয় যেনো ঝড় উঠবে এখনই। বাতাসের দমকা তালে বাঁশির সূর যেনো কখনো দূরে আবার কখনো খুব কাছে মনেহয়। চাঁদের আলোয় মেহগনি পাতাগুলো কেমন ঝলমল করছে। আর মেহগনি গাছটার নীচে বসে কেউ যেনো আমার হৃদয়টাকেই ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে ওই বাঁশের বাঁশিটা দিয়ে। আমরা দুইবোনই মনেহয় বাঁশের বাঁশিটার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম, বাঁশিওয়ালার প্রেমে পড়েছিলাম কিনা সেটা নিশ্চিত না। শুধু আমরা দুই বোনই না, গ্রামের অনেক মেয়ে রোজ ঝগড়া করতো এই একজন বাঁশিওয়ালাকে নিয়ে।
একদিন তো জেসমিন গাঙ পাড়ি দিয়ে খুঁজে খুঁজে বাঁশিওয়ালার বাড়িতেই চলে গিয়েছিলো। তারপর ফিরে এসে সবাইকে বলেছিলো, বাঁশিওয়ালার নাকি তিনটে ছেলেমেয়ে ও আছে! উফ! কত মেয়ে যে সেদিন আড়ালে চোখ মুছেছিলো কে জানে!! তারপর গ্রামের কোনো মেয়ে আর বাঁশিওয়ালাকে নিয়ে ঝগড়া করেছিলো কিনা জানিনা, তবে আমরা দুবোন যে রোজ রাতে না ঘুমিয়ে বাঁশি শুনি সেটা হয়ত বড় ভাইয়া বুঝে ফেলেছিলো। একদিন বারান্দায় খেতে বসে ভাইয়া গম্ভীর ভাবে বললো, "মা! মুরগিওয়ালা ছেলেটাকে অার রাখা যাবেনা, এতে একদিন নিজেদের ঘরেরই বদনাম হবে।"

তারপর মুরগিওয়ালাকে ডেকে বলে দিলেন, 'দোকান ছেড়ে দিতে হবে, অামরা অাপনার কাছে ঘর ভাড়া দিবোনা'
"অপরাধ! অাপনার বাঁশের বাঁশি...
__________
আয়েশা জান্নাত-
দশ/দশ/বিশ...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য