শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

যুগে যুগে নবী অবমাননার শাস্তি : মুফতী নাজমুল হাসান

 

রাসুল সা.এর অবমাননার বিরুদ্ধে নবীপ্রেমিকদের বিক্ষোভ মিছিলের একটি ছবি

তামাদ্দুন ডেস্ক: বর্তমানে ফ্রান্স সহ বিশ্বের অনেক দেশে জাতীয়ভাবে বা বেক্তিগতভাবে ইসলামফোবিয়া ও মুসলিম বিদ্বেষপ্রসূত বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ব্যঙ্গ চিত্র সহ নানান অবমাননাকর কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ এদের শাস্তির ব্যাপারে মুসলিম দেশগুলো আন্তর্জাতিকভাবে দাবী তুলছে৷ প্রশ্ন উঠছে এদের শাস্তির ধরন ও প্রক্রিয়া নিয়ে৷

ইতিহাস থেকে জানা যায়, নবী অবমাননার শাস্তি শুধু ইসলাম ধর্মে নয় বরং সকল ধর্মেই মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত ছিল৷ তাওরাত কিতাবে রয়েছে, ‘তোমরা তাকে হত্যা কর, তাতে বনি ইসরাঈলরা সকলে সেই কথা শুনে ভয় পাবে এবং তোমাদের মধ্যে কেউ আর এই রকম খারাপ কাজ করবে না। (বাংলা কিতাবুল মুকাদ্দাস-২৪২, তৌরাত, দ্বিতীয় বিবরণ, ১৩: ৬-১)

খৃষ্টান ধর্মেও নবী অবমাননার শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড৷ বলা হয়েছে ‘নবী অবমাননা করে মুরতাদ হওয়া ক্ষমার অযোগ্য গোনাহ। হত্যা এবং জিনাকারীর স্থলাভিষিক্ত। (এনসাইক্লোপেডিয়া, রিলিজিওন অধ্যায়, ইন্ডিয়া এডিশন, ৬ নং খন্ড)

ইংলেন্ডে এক খৃষ্টান পাদ্রি ইহুদী এক মহিলাকে বিয়ে করার জন্য স্বীয় নবীর অবমাননা করে ধর্ম ত্যাগকরার কারণে অক্সফোর্ডে তাকে ১২৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল প্রকাশ্যে জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়। (এনসাইক্লোপেডিয়া, রিলিজিওন অধ্যায়, ইন্ডিয়া এডিশন, ৬ নং খন্ড ৬৪৪পৃষ্ঠা)

ইসলামে নবী অবমাননার শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড৷ পবিত্রে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। (সূরা আল মায়েদাহ: আয়াত নং ৩৩)

হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নবীকে গালি দেয়, তাকে হত্যা কর। আর যে সাহাবীকে গালি দেয়, তাকে প্রহার কর। (জামেউল আহাদীস: হাদীস নং-২২৩৬৬)

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুশমন কা'ব বিন আশরাফের ব্যাপারে কে আছো? কেননা সে আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেয়। তখন মুহাম্মদ বিন মাসলামা দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি চান আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮১১)

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ইয়াহুদী মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালাগাল করত, মন্দ কথা বলত। তখন এক ব্যক্তি তার গলা চেপে ধরে, ফলে সে মারা যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হত্যার বদলে হত্যাকে অগ্রহণীয় সাব্যস্ত করেছেন। (সুনানু আবী দাউদ, হাদীস নং-৪৩৬৪)

লেখক: শিক্ষক-জামিয়া আরাবিয়া কাসিমুল উলুম, কুমিল্লা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্য