শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

শুধু শাস্তি নয়;ইসলাম ধাপে ধাপে সমাজ বিনির্মান করে থাকে: মানজুরুল কারীম

 

আকরাম এইচ বি:তামাদ্দুন২৪ডটকম:  মানব জীবনাচারের সর্বাধিক সুন্দর ব্যবস্থাপনা ইসলাম দিয়েছে। কাজেই যখনই সমাজে কোনো সমস্যা ঘটে তখনই আমরা ইসলামে এর সমাধান খুঁজি। এটা অবশ্যই সুন্দর ও সঠিক পন্থা। কিন্তু সমস্যা হল আমরা ইসলামে এর সমাধানের যাবতীয় আলোচনা পড়ার কষ্টটা করি না, সামান্য একটু দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়ি যে ইসলামী সমাধান নিলে কী কী বেনেফিট হত!
.
প্রথমত, ইসলামী সমাধান নিলে কী বেনেফিট হত এটা মুসলিমদের জানিয়ে তাদের মন জয় করার কিছু নাই। যে এই সমাধানে ইচ্ছুক না সে এমনিতেই ইসলামের বাইরে। আর যে মুসলিম, তাঁর পছন্দ হোক বা না হোক ইসলামের সমাধান সে অবশ্যই মানবে। এজন্য বিশেষভাবে তাঁরা যা চায় তা-ই ইসলামের নামে চালানোর দরকার নাই।
.
দ্বিতীয়ত, যারা কাফির-মুশরিক-স্যাকুলার ইত্যাদি এদের বুঝিয়ে লাভ নাই এরা অযথা সময় নষ্ট করবে কিন্তু মানবে না। এদের সাথে আলোচনা হবে আল্লাহর একত্ব এবং ইসলাম কেন আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবনবিধান তা নিয়ে। বেসিক আক্বীদাহ নিয়ে। এগুলো মেনে নিলে এরপর ইসলামী আইন নিয়ে কথা বলা যায় তার আগে নয়।
.
যাই হোক, এই লম্বা ভূমিকার কারণ হল অনেকে ধর্ষকের ইসলাম নির্ধারিত একমাত্র শাস্তি হিসেবে রজম বা পাথর নিক্ষেপে হত্যার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এটা ভুল। ইসলাম ব্যক্তির অপরাধ ও তার মাত্রা অনুযায়ী বিচার করে থাকে।
.
এখানে অনেকগুলো ইস্যু জড়িত থাকে। যেমন অবিবাহিত কেউ ধর্ষণ করলে তাকে একশত বেত্রাঘাত করা হবে, এক বছরের নির্বাসন দণ্ড দেয়া হবে। বিবাহিত কেউ করলে তাকে রজম করে হত্যা করা হবে। মালিকী মাযহাব মতে এর পাশাপাশি ঐ নারীকে মাহরের অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়া হবে।
.
আবার যদি অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে তাহলে সে মুহারিব সেক্ষেত্রে তাকে সূরা মায়েদার ৩৩ নং আয়াতের আওতায় ৪ সাজার কোনো একটা দেয়া হবে। 
.
যদি ধর্ষিতাকে হত্যা করে ফেলে তাহলে হত্যাকাণ্ডের সাজা দেয়া হবে।
.
আবার দেখা গেল ধর্ষণের ৪ জন সাক্ষী পাওয়া গেল না। কিন্তু বিচারক বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণে বুঝলেন যে এ ব্যাটা ধর্ষক, যেমন ইমাম বাজি(রাহ.) লিখেছেন যে নারীর বাঁচানোর জন্য করা চিৎকার কেউ শুনেছে এটা একটা দলিল। এখন ব্যাভিচারের হদ তো আরোপের সুযোগ নেই, তখন বিচারক তাযির প্রয়োগ করবেন। অর্থাৎ উনার বিবেচনা অনুযায়ী একে যে শাস্তি দেয়া যায় তা দেবেন। 
.
কাজেই এখানে অপশন অনেক। আরও আনুষঙ্গিক আলোচনা রয়েছে। সেগুলো এড়িয়ে গেলাম।
.
মনে রাখতে হবে ইসলামী হুকুমাত কেবল মাইর দেখিয়ে অপরাধ থামায় না, এখানে-
১) প্রথমে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়,
২) এরপর সবার মাঝে আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়,
৩) পুরুষ ও নারীর মাঝে সংযোগের পথ বন্ধ করা হয়,
৪) এরপরো যদি ব্যাভিচার বা ধর্ষণ ঘটে যায় তাহলে এর উপযুক্ত শাস্তি বিধান করা হয়। 
.
এভাবে স্টেপ বাই স্টেপ সমাজের পরিশুদ্ধি করা হয়। কেবল শাস্তি দিয়েই সমাজ শোধরানো যায় না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য