শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

নতুনরূপে হেফাজত : পূরনো ধারায় কর্মসূচী:- অধ্যাপক ডা. মাওলানা সৈয়দ শামছুল হুদা

 


তামাদ্দুন ডেস্ক: নতুনরূপে হেফাজতের উত্থান দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু খুশিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। জুনায়েদ আল হাবীবের কণ্ঠে শুনলাম ২৪ঘন্টার হুঙ্কার। মহাআয়োজন শেষে দেখি, সেটাই হেফাজতের কর্মসূচী। বার্তা ২৪ডটকম এ নিউজ হেফাজতের ২৪ঘন্টার সেই পূরণো আলটিমেটাম। উনারা এটা খুব ভালো করেই জানেন যে, এই ২৪ঘন্টায় অনেক কর্মী ঘরেও ফিরে যেতে পারবে না। সরকারের পক্ষে এমন উদ্ভট দাবী আদৌ মানা সম্ভব না।
ফ্রান্স জাতিসংঘের স্থায়ী ৫টি দেশের একটি। ফ্রান্স একটি পরাশক্তিও। কী সামরিক, কী অর্থনৈতিক সব দিক দিয়েই ফ্রান্স একটি পরাশক্তি। একজন উগ্রবাদি শাসকের হাতে ফ্রান্সের নেতৃত্ব থাকায় আজকে ফ্রান্সকে সারাবিশ্বের নিন্দা কুড়াতে হচ্ছে। ফ্রান্স একটি বিশ্ব মোড়লও। একটি লুটেরা শক্তিও। বিশ্বব্যাপী তার রয়েছে সামরিক বাজার। গোটা ইউরোপে যে কয়েকটি দেশ প্রভাবশালী, তার মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। সেই দেশের দুতাবাস ২৪ঘন্টার নোটিশে বন্ধ করার আলটিমেটাম দেওয়াটা ছিল হাস্যকর সিদ্ধান্ত।
২৪ঘন্টা পর ফ্রান্স দুতাবাসের কিছুই হবে না জানি। কিন্তু হেফাজত কী নতুন কর্মসূচী দিবে? দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচীর পর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আর কী কর্মসূচী দেওয়ার শক্তি আমাদের আছে? হেফাজত কেন ২৪ঘন্টার মধ্যেই নিজেকে নতুন কর্মসূচী ঘোষণার দায় নিতে গেলো? কাদের পরামর্শে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় তা বোধগম্য নয়। এছাড়া এতবড় একটি কর্মসূচী আজ পালন করা হলো, এর কোন অফিসিয়াল বিবৃতি এখনো চোখে পড়েনি।
যে ৩টি কর্মসুচী দেওয়া সম্ভব ছিল, বাস্তবায়ন কষ্ট হলেও যৌক্তিক হতো, সেগুলো হলো, অবিলম্বে জাতীয় সংসদে ফ্রান্সের এহেন ঘৃণ্য কর্মকান্ডের নিন্দা প্রস্তাব পাশ। দ্বিতীয়ত: ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশের তাওহীদি জনতার মনোভাব জানিয়ে দেওয়া। তৃতীয় যেটি করা সম্ভব ছিল, সেটা হলো দেশের ব্যবসায়ি সমাজকে ফ্রান্স থেকে নতুন করে কোন প্রকার পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত করা। এর কোন দাবী এখনো চোখে পড়েনি। এসব বিষয়ে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া যৌক্তিক হতো।
আমাদের রিজার্ভ ফোর্স থেকে বিশাল জমায়েত যে কোন সময় সম্ভব। ব্যানারটা যখন হেফাজত, আজকের মতো লোক জমায়েত যে কোন সময়ই হেফাজতের পক্ষে সম্ভব। কিন্তু এত কষ্ট করে কর্মসূচী আদায়ের পর ঘোষিত কর্মসূচী কতটুকু বাস্তবায়িত হলো, না হলো সে সব বিষয়ে আমাদের খুব একটা গুরুত্ব থাকে না। বিশাল বড় কর্মসূচী পালনের পর সেই সমাবেশের আসল দাবীটা কি সেটা প্রেস রিলিজ আকারে দেওয়ার কোন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। এটা আমাদের পূরণো রোগ।
আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর ইন্তেকালের পর কিছু কিছু ভাই স্টেটাস দিযেছিলেন, হেফাজত একটি মৃত সংগঠন। একে আর নতুন করে জীবন দেওয়ার কিছু নেই। তাদের কথাও আজ ভুল প্রমাণিত হলো। হেফাজত কখনোই মৃত ছিল না। আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর সেই উক্তিটি স্মরণ করুন যেখানে তিনি বলেছিলেন, ইসলাম বিরোধী কিছু করে দেখেন, হেফাজত আছে কী নাই! আজ এটাও প্রমাণিত হলো, হেফাজতের দাবী শেষ হয়ে যায়নি। হেফাজতের প্রয়োজনীয়তা আগেও ছিল। এখনো আছে। আগামীতেও থাকবে। আজ আল্লামা বাবুনগরী আছেন, কাল অন্যকেউ থাকবেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, আমরা কোন ব্যানারকে স্থায়ী করতে দিই না। আমরা খুব অল্পতেই গলে যাই, আবার খুব অল্পতেই ভেঙ্গে পড়ি। সাময়িক কাজের ভাটা পড়াকে আমরা হারিয়ে যাওয়া মনে করি।
আজ আল্লামা আহমদ শফী বিহীন হেফাজত প্রমাণ করে দিলো যে, কোন প্রতিষ্ঠান, কোন সংগঠন কখনোই ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে না। তবে কখনো কখনো ব্যক্তির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সুখ্যাতি অনেক উপরে উঠে যায়। হেফাজতের ব্যানারটিকে অনেকেই অপাংক্তেয় করে তুলতে চেয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা হেফাজতকে আবার তার পূরণো সুনামের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদেরকে কর্মসূচী গ্রহনে আরো বেশি স্মার্ট হতে হবে। দায়িত্বশীল হতে হবে। যেটা বলবে, সেটা করেই ছাড়তে হবে। কথার কথা মতো কোন কর্মসূচী গ্রহন করা যাবে না। ৬এপ্রিল১৩’ এর শাপলা চত্বরে লংমার্চের দিন এমনি অষ্পষ্ট কর্মসূচী ঘোষণা করা হযেছিল। সরকারকে সময় দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। আজো সেই কাজটিই করা হলো। আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের কাজ কি শুধূই বড় বড় গ্যাদারিং করে দেখানো? নাকি আমাদের কিছু অর্জনও থাকতে হবে? রিজার্ভ ফোর্স নিয়ে আমরা বড় ধরণের গ্যাদারিং করতে পারি, কিন্তু দাবী আদায় করতে আমরা খুব দুর্বল। সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।

লেখক- সম্পাদক: নুরবিডি ডটকম
02.11.2020

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য