শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

ধানমন্ডিতে সুন্নাতে রাসুল সা. বাস্তবায়নে সৃজনশীল ভাবনা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত: তামাদ্দুন


ইবনে সাবিল-তামাদ্দুন: গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি কনফারেন্স হলে ক্যারিয়ার বাংলাদেশ ও হোলিওয়ার্ডস২৪.কম এর যৌথ উদ্যোগে সমাজের সর্বস্তরে সুন্নাতে রাসুল সা, বাস্তবায়নে সৃজনশীল ভাবনা শীর্ষক রাউন্ডটেবিল আলোচনা ও আইডিয়া শেয়ার সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন হাফেজ সামিউল ইসলাম। হামদ-নাত পরিবেশন করেন রংধনু শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান পরিচালক মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ।

ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদের ইমাম ও প্রকল্পপ্রধান শায়খ আবদুল হাফিজ মারুফের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী।

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আজীমুদ্দীন দা.বা.। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব ইকরামুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যারিয়ার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি আফজাল হুসাইন।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুফতি উমর ফারুক মাসরুর, পরিচালক, হোলিওয়ার্ডস২৪.কম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে আলোচনা পেশ করেন ড. মাওলানা ওয়ালিউর রহমান খান আযহারী, মুহাদ্দিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মুফতি সাইফুল ইসলাম, খতীব, ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদ। মুফতি মাসুম আহমদ, খতীব, চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদ, বনানী। শায়খ মহিউদ্দীন ফারুকী, পরিচালক, আরবী মাদরাসা বাংলাদেশ। গাজী ছানাউল্লাহ রাহমানী, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। মুফতি সাইফুল কাবীর, খতীব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ।

মুফতি মাসরুরুল হাসান, পরিচালক, ইসলামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট। মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, শিক্ষক, জামিয়া নুরিয়া কামরাঙ্গীরচর। মুফতি আবুল কালাম আজিজি, পরিচালক, দারুল উলুম আশরাফিয়া। মুফতি মাসরুর তাশফিন, প্রধান পরিচালক, সুরেরতরী শিল্পী গোষ্ঠী। হাফেজ মাওলানা ইসরাফিল হুসাইন, খতীব, মাখযানুুস সুন্নাহ জামে মসজিদ সাইনবোর্ড।
মুফতি ফরহাদুদ্দীন রাহমানী, খতীব, বাইতুল মুহতারাম, যাত্রাবাড়ি।
প্রধান অতিথি বলেন, সমাজে সুন্নাত বাস্তবায়নের জন্য সর্বাগ্রে আমাদেরকে সুন্নাতের উপর আমল করতে হবে। জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুন্নত মোতাবেক চলতে হবে। কোথায় কী করা সুন্নাত, কোন কাজ কী ভাবে করা সুন্নত তা আমাদের জানতে হবে। এ জাতীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন লিফলেট-পুস্তিকা ইত্যাদির মাধ্যমেও প্রচার করা যেতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওসি ইকরাম বলেন, জীবনের সকল সমস্যার সমাধান তো ইসলামেই রয়েছে। ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু খুজে লাভ নেই। মাদক, নেশা, অশ্লীলতাসহ যত রকম অন্যায় সমাজে চলছে তা দূর করতে কুরআন হাদীসের বাণীগুলো আমাদের জানতে হবে। বিভিন্ন ফেস্টুন লিফলেটের মাধ্যমে তা মানুষকে জানাতে হবে। শুধু মসজিদে নয়, আশপাশে পার্কেও মানুষের মাঝে ভালো কথাগুলা ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা আছি আপনাদের সাথে।
তাকওয়া মসজিদের খতীব বলেন, আমরা সৃজনশীল কাজ থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। জায়গামত ক্লিক করতে পারলে সমাজ পরিবর্তন হতে বেশি সময় লাগবে না। নিজেদেরকে সুন্নাহর ধারক বাহক বানাতে হবে। সমাজের সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। এমনকি নিষিদ্ধ কাজে জড়িতদের মাঝেও দাওয়াতী কাজ করতে হবে। আর এ ধরণের আয়োজন আরো বেশি করতে হবে।
ড. মাওলানা ওয়ালিউর রহমান খান বলেন, সুন্নাতের উপকারিতাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। যেমন সিয়াম বা অটোফেজির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবীজীর প্রতিটা সুন্নাতই স্বাস্থসম্মত ও উপকারী। এ জাতীয় আয়োজনে প্রশাসনকে সাথে রেখে কাজ করলে জনগণ বেশি উপকৃত হবে।
বনানীর খতীব বলেন, আমাদেরকে এরকম ভালো ভালো কাজের ব্যবস্থাপনা করতে হবে। কারণ নবীজী কী করতেন? তিনি সকলের সহযোগিতা নিয়ে সমাজের কল্যাণকর কাজ করতেন। সুন্নতি চেতনার স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি সদর সাহেব রহ, রেফারেন্স উল্লেখ করে বলেন, আজ থেকে ৫০ বছর আগেই সদর সাহেব রহ, ইসলামি চেতনার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, বড় কাটারার মুসলিম বয়েজ স্কুল আজো সাক্ষী হয়ে আছে।
আরো আইডিয়া শেয়ার করেন জাতীয় লেখক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব খায়রুল বাশার।অনুষ্ঠান সহযোগিতায় ছিলেন হাফেজ রাকিব আলম আশরাফী, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, ক্যারিয়ার বাংলাদেশ।

এছাড়াও মতামত ব্যক্ত করেন একসময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জনাব স্বচ্ছ ভাইসহ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

অতিথিরা প্রশংসা করে বলেন, এ জাতীয় আয়োজন ঢাকার প্রত্যেকটা থানায় হওয়া দরকার।
অনুষ্ঠানশেষে নবীজীর বাণী সম্বলিত ফেস্টুন উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। আয়োজকরা বলেন, আজকের আইডিয়াগুলো বাস্তবায়নের জন্য অচিরেই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য