শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য হক্কানী পীরের বাইয়াত অপরিহার্য। ড. আবু রেজা নদভী এমপি


 "তাজকিয়াতুন নাফস তথা আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য হক্কানী পীরের কাছে বাইয়াত অপরিহার্য।

নানুপুর উবাইদিয়া মাদ্রাসায় সমন্বিত ক্লাসে ড. আবু রেজা নদভী এমপি।

ইবনে সাবিল-তামাদ্দুন: চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ও গবেষক প্রফেসর ড. আল্লামা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেছেন, তাজকিয়াতুন নাফস তথা আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য হক্কানী পীরের কাছে বাইয়াত গ্রহন অপরিহার্য। ইসলামী জীবন জিজ্ঞাসার পরিপূর্ণতা ও স্থিতিশীলতার জন্য বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরীসিম। বাইয়াত হল, আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ও রেজামন্দি অর্জনের লক্ষ্যে নিজের জান ও মালকে ইসলামী জীবনযাত্রার দায়িত্বশীল ব্যক্তি তথা হক্কানী পীরের কাছে আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করার ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। বাইয়াত গ্রহণ করা, তরীক্বার সবক নেয়া, তরীক্বার সবক্ব আদায় করা, ছোহবত ইখতিয়ার এর মাধ্যমে তাজকিয়াতুন নাফস বা আত্মশুদ্ধি লাভ হয়। এর ফলে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুজুর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে নিসবত স্থাপিত হয়।
তিনি বলেন, বহুমুখী এলম অর্জনের মাধ্যমে বিশেযজ্ঞ আলেম হওয়া যায় বটে, আত্মা পরিশুদ্ধ না হলে বহুমুখী এলম অর্জনকারী আলেমদের জীবনের কোনো কিছুই সুন্দর ও সুস্থভাবে পরিচালিত হয় না। তিনি আকাবিরে দেওবন্দ ও আকাবিরে সাহরনপুর এর ইতিহাস উদ্ধৃতি করে বলেন, ১২০ থেকে ১৩০ বৎসরের ইতিহাসে যাঁরা এসব দ্বীনি মারকজ থেকে ফারেগ হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই কোন না কোন শায়খের কাছে বাইয়াত গ্রহন করেছেন। সমকাকালীন যুগে কেহ যেতেন আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী (রাহঃ) এর খানকায়, কেহ হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরফ আলী থানভী (রাহঃ) এর খানকায় গিয়ে বাইয়াত গ্রহন করতেন। তিনি বলেন, তদানীন্তন কালের যুগশ্রেষ্ঠ আলেম আল্লামা সৈয়দ সোলাইমান নদভী (রাহঃ) তরিকতের শায়খ আল্লামা আশরফ আলী থানভী (রাহঃ) এর হাতে তরিকতের বাইয়াত গ্রহনের সংবাদে উপমহাদেশের তৎকালীন উলামায়ে কেরাম, বিশেষ করে নদওয়াতুল উলামা সংশ্লিষ্ট আলেমরা বিস্ময়ান্বিত হলেও এই বাইয়াত গ্রহনের মাধ্যমে আল্লামা সৈয়দ সোলাইমান নদভী (রাহঃ) আলেমদেরকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ছাফাউল ক্বলবের মাধ্যমে ফখর-তকব্বুর বিদূরিত করে বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক আমলের জন্য বাইয়াতের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। একবাক্যে, ইনসানে কামেল হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে প্রয়োজন একজন হক্কানী পীরের হাতে বাইয়াত গ্রহনের মাধ্যমে তরবিয়ত, তালিম, তাজকিয়া, এহসান ও দাওয়াতের প্রশিক্ষণ লাভ। হক্কানী পীর বলতে এমন পীরদের বুঝানো হয়, যাঁদের রয়েছে রব্বানিয়তের পাশাপাশি কোরআন-হাদিসের উপর অগাধ এলম এবং আমল।
প্রফেসর ড. আল্লামা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী গতকাল ৯ ডিসেম্বর বুধবার ফটিকছড়ি জামেয়া উবাইদিয়া নানুপুরে ইলমে তাফসির, ইলমে হাদিস, ইলমে ফিকহ, আল আদাবুল আরবী, ইসলামের ইতিহাস, সীরতুন্নবী (সাঃ) এর উপর দাওরায়ে হাদীস ও তাখাচ্ছুস ফিল ফিকহ (ফিকহ অনার্স) ছাত্রদের উদ্দশ্যে দুপুর বারটা শুরু হওয়া ১ ঘন্টা ৪০ মিনিটের যৌথ ক্লাস ও সমসাময়িক মাসলা মাসায়েল নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে উপরোক্ত কথা গুলো বলেছেন। জামেয়া উবাইদিয়া নানুপুরের মহাপরিচালক আল্লামা ছালাহ উদ্দিন নানুপুরির বিশেষ আমন্ত্রণে ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি দাওরায়ে হাদীস ও তাখাচ্ছুস ফিল ফিকহ (ফিকহ অনার্স) এর যৌথ ক্লাসে এই লেকচার প্রদান করেন। তিনি প্রত্যেক ছাত্র ল্যাপটপ সামনে নিয়ে মনোরম পরিবেশে ক্লাসে অংশ নেয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমার শিক্ষা জীবনের পুরোটাই কওমী ঘরানার। আমার লালিত স্বপ্ন ছিল সুদীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত কওমী শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং সরকারী স্বীকৃতি আদায়। দীর্ঘদিন ধরে মহৎ এই কাজটি এগিয়ে নিতে আমার নিরলস প্রচেষ্টা ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাল্লাহ। তিনি কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের জযবাত তথা আবেগতাড়িত না হয়ে বাস্তবতার নিরিখে পরিকল্পনা মাফিক চলার এবং যোগ্যতা অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কুরআন, হাদিস, আল ফিকহুল মোকারিন তথা বিভিন্ন মাযহাবের উপর তুলনামূলক স্টাডি, বাংলা সাহিত্য, ইংরেজী সাহিত্য, উলুমে আছরিয়া (আধুনিক বিজ্ঞান), আহওয়ালে হাজেরা (সমসাময়িক জ্ঞান) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে হবে। জানতে হবে বিদগ্ধ আলেম, যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলারদের পাশাপাশি ওরিয়েন্টিস্ট তথা প্রাচ্যবিদদেরও। স্টাডি করতে হবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ও তুলনামূলক ধর্ম তত্বের উপর।

যৌথ ক্লাস শেষে এলমি-আমলি, সমসাময়িক মাসলা মাসায়েল ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ড. আল্লামা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি ছাত্রদের প্রতিটি প্রশ্নের অত্যন্ত ধৈর্য্য সহকারে শুনেন এবং জবাব প্রদান করেন। প্রতিটি প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পেয়ে ছাত্রদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় এবং কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ড. আল্লামা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি নিজেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এসময় পুরো ক্লাস জুড়ে পিনপতন নীরবতা ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দাওরায়ে হাদীস ও তাখাচ্ছুস ফিল ফিকহ (ফিকহ অনার্স) এর এই যৌথ ক্লাসে জামেয়া উবাইদিয়া নানুপুরের মোহাদ্দিস, মোফাচ্ছির, মুফতিসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকমন্ডলী উপস্থিত ছিলেন। যৌথ ক্লাস ও সমসাময়িক মাসলা মাসায়েল নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ড. আল্লামা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপিকে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও মানপত্র প্রদান করা হয়।

বার্তা প্রেরক
(স্বাক্ষরিত)
অধ্যাপক শাব্বির আহমদ
প্রেস সচিব, মাননীয় সাংসদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য