শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

শীতকাল: ইবাদতের বসন্তকাল-মুফতী নাজমুল হাসান


তামাদ্দুন ডেস্ক: ‘আল্লাহু আকবার.. আল্লাহু আকবার’- মুআযযিনের আযান শুরু৷ সময় তখন ভোর প্রায় পাঁচটা ৷ আমার যুদ্ধ শুরু৷ কঠিন যুদ্ধ৷ প্রতিপক্ষ কনকনে শীত৷ যুদ্ধের ধরন হচ্ছে, লেপ সরিয়ে বিছানা থেকে উঠে অযু সেরে মসজিদে যাওয়া৷ না, না, এই যুদ্ধ যেনতেন যুদ্ধ নয়৷ বহু আধুনিক অস্ত্রে পারদর্শী বীরবাহাদুরও এই যুদ্ধে নিমেষেই পরাজিত হওয়ার অনেক ইতিহাস রচিত রয়েছে৷

জিহাদে বিজয় অর্জনকারী মুজাহিদের তুলনায় এই যুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী যুদ্ধার জন্যও রয়েছে অনেক উপহার-উপঢৌকনের মহা সুসংবাদ৷
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি কি তোমাদের জানাব না, কিসে তোমাদের পাপ মোচন করবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবে?’ সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অবশ্যই! হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি (রাসুল সা.) বললেন, শীতের কষ্ট সত্ত্বেও ঠিকভাবে অজু করা। (সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ২৫১)।

শীতের অযুতে মুমিনের পাপ মোচন হয় যা গোনাহগারের জন্য এক সুবর্ণ সময়৷ শীতকালে সঠিকভাবে অযু করা, অযুর অঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা, প্রতিটি অঙ্গের যতটুকু স্থানে পানি পৌঁছানো দরকার, ততটুকু স্থানে পানি পৌঁছানো- এসকল বিষয়ে খুবই সচেতন থাকা উচিত।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তিনটি আমল পাপ মোচন করে—সংকটকালীন দান, গ্রীষ্মের রোজা ও শীতের অযু।’ (আদ দোয়া লিত তাবরানি: ১৪১৪)।

শীতের সময়ের দুআ জাহান্নামের ‘জামহারী’ থেকে মুক্তি দেয়৷ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যদি কোনো তীব্র ঠান্ডার দিন আল্লাহর কোনো বান্দা বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই), আজকের দিনটি কতই না শীতল! হে আল্লাহ! জাহান্নামের জামহারি থেকে আমাকে মুক্তি দিন।” তখন আল্লাহ জাহান্নামকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমার এক বান্দা আমার কাছে তোমার জামহারি থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাকে আশ্রয় দিলাম।’

সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, জামহারি কী? নবীজি (সা.) বললেন, ‘জামহারি এমন একটি ঘর যাতে অবিশ্বাসী, অকৃতজ্ঞদের নিক্ষেপ করা হবে এবং এর ভেতরে তীব্র ঠান্ডার কারণে তারা বিবর্ণ হয়ে যাবে।’ (আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইল: ৩০৬)।

শীতকাল রোযা রাখার মোক্ষম সময়৷ নফল রোযা রাখার ক্ষেত্রে শীতকাল হচ্ছে মুমিনের জন্য গনিমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ৷ হযরত আমের ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘শীতল গনিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা।’ (তিরমিজি: হাদীস নং ৭৯৫)।

এই হাদিসটির ব্যাখ্যায় খাত্তাবি (রহ.) বলেন, শীতল গনিমত মানে সহজলভ্য গনিমত। যেহেতু শীতের রোজায় রোজাদার গরমের তৃষ্ণা অনুভব করে না।

লেখক: শিক্ষক-জামিয়া আরাবিয়া কাসিমুল উলুম, কুমিল্লা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য