শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

মন্দিরের বাইরে মূর্তির বিকাশঃ ইতিহাস ও আধুনিক বর্ণনাঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ


মন্দিরের বাইরে মূর্তির বিকাশঃ ইতিহাস ও আধুনিক বর্ণনাঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ-মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

তামাদ্দুন ডেস্ক: মূর্তি ভাষ্কর্য পৌত্তলিকতার কঠিন শির্কের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান
বাংলার মুসলিম চেহারা।।মুছে যাচ্ছে দেড় হাজার বছরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের তওহীদি রূপ
বাংলাদেশ অতি দ্রুতগতিতে সর্বাত্মক জাহিলিয়াতের স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে। হত্যা, খুন, দুর্নীতি, ব্যাভিচার, ধর্ষণ, প্রতারণা, প্রকাশ্যে বেলেল্লাপনা, মদ, জুয়া, মিথ্যাচারসহ সকল অন্যায়কে ডিঙিয়ে জাহিলিয়াতের সবচেয়ে ভয়ানক ও চূড়ান্ত বিষয়টিকে অনায়াসে প্রহণ করতে যাচ্ছে। অতিসম্প্রতি মূর্তির এই চূড়ান্ত জাহিলিয়াতি সংস্কৃতিটিকে কেন্দ্র করে দেশে সৃষ্টি হয়েছে রক্তক্ষয়ী এক সংঘাতের পরিবেশ। বিষয়টি নিয়ে যখন প্রতিবেদন তৈরি করার কাজ শুরু হয় তখন যেন কেঁচো খুড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে ভয়ানক একগুচ্ছ বিশাক্ত সাপ। সাধারণ তাওহিদি জনতার অসচেতনতার সুযোগে পৌত্তলিকতার আশীর্বাদপুষ্ট ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির ধারক-বাহক এ দেশের সেক্যুলার গোষ্ঠী অতি সন্তর্পণে বাংলাদেশকে পরিণত করে দিয়েছে মূর্তির এক বিশাল অভয়ারণ্যে। নিম্নে এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম ও ইন্টারনেটের সূত্রে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:
বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলেও বামপন্থি রাজনীতি থেকে বিএনপিতে আসা একজন ব্যক্তি ঢাকার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ঢাকা শহরজুড়ে মূর্তি স্থাপন চরম আকার ধারণ করে এবং তা অদ্যাবধি অব্যাহত আছে। এ সময় ঢাকা শহরে অর্ধশতাধিক মূর্তি স্থাপিত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মূর্তির সংখ্যা দুইশ’র কাছাকাছি এবং ঢাকা শহরে এ সংখ্যা তিন শতাধিক। সারাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্থাপিত এসব মূর্তির সংখ্যা অর্ধহাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্ট ধর্মীয় উপাসনা ব্যতীত কোন কারণে এত মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে তা সত্যিই রহস্যজনক। এসব দেখে একজন মুসলমানের কেবল আইয়ামে জাহেলিয়াত এবং সে যুগের ৩৬০ মূর্তির কথাই মনে পড়ে। দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় প্রতিটি ডিপার্টমেন্টেই অসংখ্য মূর্তি রয়েছে। বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এত মূর্তি আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে একক শিল্পীর প্রায় গোটা পঞ্চাশেক মূর্তি রয়েছে একই জায়গায়। সদ্য সমাপ্ত বনানী ১১ নং ব্রিজ-সংলগ্ন রাস্তায় বিভিন্ন পশু-পাখির প্রায় ২০টা মূর্তি রয়েছে। এ ধরনের একটি স্থানে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কোনো বাগান কিংবা গাছ না লাগিয়ে; কোনো ফোয়ারা কিংবা সুন্দর স্থাপত্য না কর শুধু মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এ চিত্র বর্তমানে সারাদেশের। মূর্তির অভিশাপ থেকে বাদ যায়নি পুণ্যভূমি সিলেট কিংবা বারো আউলিয়ার শহর চট্টগ্রামও। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হাজী ক্যাম্পের সামনে লালন মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ ধর্মপ্রাণ মানুষের কল্যাণে ব্যর্থ হলেও আজো মাথা উঁচু করে একটি বিশালাকার মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের আগারগাঁও অফিসের সামনেই। মুসলিমবিশ্বর নেতৃবৃন্দ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভিজিটে গেলে এটি তাদেরকে স্বাগত জানায়। প্রতিটি মুসলমানই জানেন যে ইসলামের আবির্ভাবই হয়েছে মূর্তি ও শিরকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য। মুসলিমরা যদি মূর্তির বিপক্ষে কথা না বলে আর মূর্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করে এর চেয়ে ধৃষ্টতা আর কি হতে পারে?

যদিও শিল্প-সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে এসব মূর্তি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে সেসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রমনা পুলিশ কোয়ার্টারের সামনে ঘোড়সওয়ার, সেরাটন হোটেলের সামনে ঘোড়ার গাড়ি, অ্যালিফ্যান্ট রোডের জোড়া হাতি, কারওয়ান বাজার মোড়ের জোড়া বাঘ—এসব মূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ভাস্কর ও শিল্পীরা। এসব যে শুধু ইসলাম বিরোধিতার অংশ তাই নয়, বরং এগুলোর শিল্পমান নিয়ে এবং সামনে স্থাপিত বাঘের মূর্তি সম্পর্কে শিল্প-সমঝদাররা বলছেন, এটা কোনো শিল্পকর্মের মধ্যে পড়ে না। অসংখ্য খুঁত, অযত্ম আর অদক্ষ হাতে তৈরি। এমনকি বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগগুলোও ঠিকমত হয়নি। বাঘের গায়ে যেন জেব্রার চামড়া পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মূর্তিটার নাম কী তাও বলতে পারেননি স্থাপনকারী কর্তা ব্যক্তিরা। এভাবে অ্যালিফ্যান্ট রোডের জোড়াহাতির মূর্তিটায়ও আগাগোড়া অপেশাদারিত্ব। মা হাতিটিকে দেখে মনে হয় বাচ্চা আর বাচ্চাটি ছোট হলেও ধরন দেখে মনে হয় বড় হাতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষক আবদুস সাত্তার তাওফীক বলেন, এই কাজটিতে শিল্পের কোনো ছোঁয়া নেই। এটা বাজে একটা কাজ। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের ঘোড়ার গাড়ি সম্পর্কে সবাই বলছেন যে, এই গাড়ির সাথে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির কোনো মিল নেই। এটা পশ্চিমা ঘোড়ার গাড়ি। শিল্প ও ইতিহাস-চর্চার নামে এসব মূর্তিতে সংস্কৃতি ও শিল্পের ছোঁয়া যদি না থাকে, তাহলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য আসলে কী? জরুরি বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তোলার জন্য মূর্তিকেই বেছে নিতে হবে কেন? সেটা মানুষ কিংবা প্রাণীরই হতে হবে কেন? বিভিন্ন অস্ত্র, ট্যাংক, মঞ্চ বা বিমূর্ত কোনো কিছুও তো হতে পারে। এসব মূর্তি বানিয়ে এদেশের মানুষের মুসলিম পরিচয় এবং মুসলিম-মানস ধ্বংস করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা কার স্বার্থে? এ প্রশ্ন এখন সচেতন মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

এসব মূর্তির শিল্পী এবং উদ্যোক্তারা অধিকাংশই স্বঘোষিত ইসলাম-বিরোধী ব্যক্তি। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় মুসলিমপ্রধান এদেশে শিরকি মূর্তি স্থাপনে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যটা কী? ধরণা করা হচ্ছে, এটা একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ, যাতে করে ৪০-৫০ বছর পর এগুলোকে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা যায়। তখন মূর্তিপ্রথাকে এদেশের মানুষের ঐতিহ্য বলে প্রতিষ্ঠা করা যাবে। তাহলে সহজেই ইসলামি চেতনার মর্মমূলে আঘাত হানা যাবে। হাজার হাজার মসজিদ পরিবেষ্টিত এই ঢাকা শহরকে মূর্তি দিয়ে ঘিরে ফেলার যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তা এখনই রোধ করা প্রয়োজন। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ফুল দিয়ে মূর্তিকে শ্রদ্ধা জানানো অবশ্যই মূর্তিপূজার শামিল। এ ব্যাপারে বিশ্বের কোনো ইসলামি চিন্তাবিদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। এটা জানার পরও আমরা কেন এই মূর্তিপূজা চালু করছি? ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কি শিক্ষা রেখে যাচ্ছি? সব জানার পরও সরকারের ভেতরের ও বাইরের মুসলিম-সমাজ কিভাবে চুপ করে থাকেন—এটাই আজ বড় প্রশ্ন। [সূত্র: লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জুমাবার]

নিম্নে দেশব্যাপী স্থাপিত মূর্তিসমূহের অবস্থান ও নির্মাণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
★ঢাকায় ভাস্কর্য:
দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য স্থাপিত হয় গাজীপুর চৌরাস্তায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসের জেওসি মেজর জেনারেল আমিন আহমদ চৌধুরীর উদ্যোগে এ ভাস্কর্য তৈরি করেন ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক, তার সহশিল্পী ছিলেন হামিদুজ্জামান খান। ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চ এই ভাস্কর্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা বাম হাতে রাইফেল এবং ডান হাতে বোমা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। রাজধানী ঢাকায়ও বেশকিছু ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে 'অপরাজেয় বাংলা'। এর ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামিদুজ্জামান খান তৈরি করেন 'সংশপ্তক'। ভাস্কর নভেরা আহমদের উদ্যোগে কিছু ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় জাদুঘর, পররাষ্ট্র-মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় স্থান পেয়েছে। ভাস্কর শামীম আরা সিকদার নিজ উদ্যোগে ইস্কাটনে তৈরি করেছেন জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারি। এখানে শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ১৫টি ভাস্কর্য স্থান পেয়েছে। শামীম সিকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি করেছেন স্বাধীনতার সংগ্রাম ও স্বাপার্জিত স্বাধীনতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পী নিতুন কুন্ড তৈরি করেছেন সাবাস বাংলাদেশ, ভাস্কর রাসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করেছেন মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামিদুজ্জামান খান তৈরি করেছেন জয় বাংলা ইত্যাদি। ঢাকার বঙ্গবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে শিল্পী মৃণাল হক তৈরি করেছেন কিছু ভাস্কর্য। রাজু ভাস্কর্যে যুদ্ধের অস্ত্র হাতে তিন তরুণ-তরুণীর আন্দোলনে সম্মিলিত অংশগ্রহণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও এটি তৈরির পিছনে রয়েছে অন্য ইতিহাস। ছাত্র-ঐক্যের গুলিতে নিহত ছাত্র-ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি উৎসর্গ করা হয়েছিল। এটি তৈরি হয় ১৯৯২ সালে। নির্মাণ করেছিলেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে দেখা যায়, ভাস্কর শামীম সিকদার ত্রিকোণা আকৃতির বাগানে তৈরি করেছেন স্বাধীনতার সংগ্রাম ভাস্কর্য। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রধান নেতা হিসেবে সবার উপরে অবস্থান দেওয়া হয়েছে। মূল বেদির পাদদেশে স্থান পেয়েছে দেশের সেরা মানুষের আবক্ষ ভাস্কর্য। এর মধ্যে বাউল কবি লালন ফকির, শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল ইসলাম, শহীদ নুর হোসেনসহ শিল্পী-সাহিত্যক ও কাথিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। স্বাধীনতা সংগ্রাম তৈরি করা হয় ১৯৯৯ সালে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর অন্য মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক ভাস্কর্যগুলো হচ্ছে জয় বাংলা, জয় তারুণ্য, একাত্তরের গণহত্যা, বিজয় উল্লাস, লড়াই চাই-লড়াই চাই ইত্যাদি।
★চট্টগ্রামের ভাস্কর্য:
বাংলদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি (বিএমএ)-এ গড়া স্বাধীনতা-মানচিত্র, ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউটে ধরিত্রীর সঙ্গে বসবাস কিংবা চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বঙ্গবন্ধুর প্রথম ভাস্কর্য, পাহাড়তলীতে ব্রিটিশ বিরোধী-নেত্রী বীরকন্যা প্রীতিলতার ভাস্কর্য এবং বিগত বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে বন্দর এলাকাসহ কয়েকটি পয়েন্টে স্থাপিত ভাস্কর্যই যেন চট্টলা দর্শনার্থীদের চোখে ধরা পড়ে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মহুতির দীর্ঘ ৪০ বছর পর তাঁর স্মরণে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। পাহাড়তলীর তৎকালীন ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে কলকাতার শিল্পী ভাস্কর গৌতম পাল এক ভাস্কর্য গড়েছেন। চসিকের অর্থায়নে বীরকন্যার আত্মহুতির স্থানে তামার একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে।
কক্সবাজারের প্রবেশদ্বারে শোভা পাচ্ছে সামুদ্রিক জন্তুসমূহের বিশাল আকারের মূর্তি।
★খুলনায় ভাস্কর্য:
খুলনা মহানগরীর প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বীর বাঙালি। চারজন মুক্তিযোদ্ধার অবয়বে এ ভাস্কর্যটি তৈরি। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী পরিষদ ও খুলনা সিটির সাবেক মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমানের উদ্যোগে এটি নির্মিত হয় ১৯৯৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এর নকশা ও পরিকল্পনা করেন প্রয়াত অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান তরফদার।
অন্যদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিশমুখে রয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধের ভাস্কর্য অদম্য বাংলা। এর বেদির চারপাশে স্বাধীনতাযুদ্ধের নানা ইতিহাস-সংবলিত পোড়ামাটির ম্যুরাল রয়েছে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাহদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য, জাতীয় ৬ নেতার ম্যুরাল ও হানাদার বাহিনীর গণহত্যার দৃশ্য রয়েছে এতে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন ভাস্কর গোপাল চন্দ্র পাল।
★বাগেরহাটের জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্বে উপজেলার সিএন্ডবি বাজারে ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিষ্ণুপুর রণাঙ্গনের অধিনায়ক রফিকুল ইসলাম খোকনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ভাস্কর্য।
★যশোর শহরের
খয়েরতলা-পালবাড়ি মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে ভাস্কর্য বিজয় ৭১। ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন খন্দকার, উল্লাসিত জনতার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যশোর শহরে প্রবেশ এটিই এ ভাস্কর্যের মূল বিষয়। ১৯৯৯ সালে ২১ ফুট উচ্চতার এ ভাস্কর্যটি প্রথম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন যশোরের সাবেক জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক মিয়া। এর উদ্বোধন করেন ৮ নং সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী। যশোর এমএম কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক ভাস্কর্য চেতনায় চিরঞ্জীব। এ ভাস্কর্যটির নির্মাতা ভাস্কর মাহবুব শামীম। অপার শান্তির লক্ষ্যেই মুক্তি ভাস্কর্যটির মূল বক্তব্য। শহরের পুরোনো কসবা এলাকায় বিমান অফিসের সামনের সড়ক দ্বীপে আছে ভাস্কর রকিবুল ইসলাম শাহীনের তৈরি জাগ্রত বাঙালি। যশোর সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত হয়েছে উন্নত শির। যশোরের পাল বাড়ির মোড়ে ১৯৯৯ সালের ৭ ডিসেম্বর বিজয় ৭১ নামে একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। ভাস্কর খন্দকার বদরুল আলম নান্নু।
★রাজশাহীতে ভাস্কর্য:
সাবাস বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছিলেন শিল্পী নিতুন কুন্ড। ১৯৯১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়। এর ফলক উন্মোচন করেন জাহানারা ইমাম। ভাস্কর্যটি দাঁড়িয়েছে আছে ৪০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে, যেখানে রয়েছে দু’জন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি। একজন রাইফেল উঁচু করে দাঁড়িয়ে। আর তার বাঁ বাহুটি মুষ্টিবদ্ধ করে জাগানো। অন্যজন রাইফেল হাতে দৌড়ের ভঙ্গিতে। যার পরনে প্যান্ট, মাথায় এলোমেলো চুল যা কিনা আধুনিক সভ্যতার প্রতীক! এ দু’জন মুক্তিযোদ্ধার পিছনে ৩৬ ফুট উঁচু একটি দেয়াল। দেয়ালের উপরের দিক রয়েছে এক শূন্যবৃত্ত যা দেখতে সূর্যের মতো। ভাস্কর্যটির নিচের দিকে ডান ও বাম উভয় পাশে ৬ ফুট বাই ৫ ফুট উঁচু দুটি ভিন্ন চিত্র খোদাই করা হয়েছে। ডানদিকের দেয়ালে রয়েছে দু’জন যুবক-যুবতী। যুবকের কাঁধে রাইফেল, কোমরে গামছা বাঁধা যেন বাউল। আর যুবতীর হাতে একতারা। গাছের নিচে মহিলা বাউলের ডান হাত আউলের বুকে। বাম দিকের দেয়ালে রয়েছে মায়ের কোলে শিশু, দু’জন যুবতী একজনের হাতে পতাকা। পতাকার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে গেঞ্জিপরা এক কিশোর।
★সিলেটের ভাস্কর্য: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯০-৯১ ও ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ২০০৯ সালে নির্মিত হয় মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য চেতনা ৭১। অ্যাকাডেমিক ভবনের সম্মুখে এ ভাস্কর্যে একজন মুক্তিযোদ্ধার হাতে রাইফেল বিজয় উল্লাস তুলে ধরা হয়েছে। ভাস্কর্যটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১ সালের ৩০ জুলাই ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়। ভাস্কর মোবারক হোসেন নৃপল।
★ঠাকুরগাঁওয়ে ভাস্কর্য:
আদিবাসীদের অবদান নাকি অস্বীকৃত থাকায় ঠাকুরগাঁও ইএসডিও এনজিওর প্রধান কার্যালয়ের সামনে আদিবাসী এক জোড়া নারী-পুরুষের সংগ্রামী! প্রতিকৃতির ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। মুক্তির মন্দির সোপান তলে নামের এই ভাস্কর্যটি ইএসডিওর অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। মুক্তির মন্দির সোপান তলে নামে এ ভাস্কর্যটি জেলায় নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য। ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন চৌধুরী ২০ জন কর্মী নিয়ে এটির নির্মাণ শুরু করেন।
★কুষ্টিয়ায় রাজাকার ভাস্কর্য: রাজাকারদের প্রতি স্থায়ীভাবে ঘৃণা প্রদর্শনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া শহরের প্রবেশপথে নির্মিত হয়েছে ঘৃণিত রাজাকার ভাস্কর্য। কুষ্টিয়ার ভাস্কর ইতি খানের ডিজাইন ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই অভিনব ভাস্কর্যটি ইতোমধ্যে কুষ্টিয়াসহ বাংলাদেশের নানা অঞ্চলের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) সিআর দত্ত গত বছরের ১৭ এপ্রিল এ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।
ভাস্কর্যে বাংলাদেশ: ভাস্কর
গোপাল চন্দ্র পাল। যার তত্ত্বাবধানে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের মুজিবনগরে নির্মাণ হয় ৩৬০ টি ভাস্কর্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস।
লক্ষ্য করুন মক্কা নগরীর মুশরেকদের আদলে ৩৬০.....
★মুন্সিগঞ্জে ভাস্কর্য:
গত ২০ ডিসেম্বর ২০১১ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য অঙ্কুরিত যুদ্ধ ১৯৭১-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্ট তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন চিত্রশিল্প বিন্দু সরকার। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন চালিয়ে যাচ্ছে।
★জয়দেবপুরের জাগ্রত চৌরঙ্গী:
১৯৭৩ সালে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য। ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক। জয়দেবপুর চৌরাস্তায় ভাস্কর্যটি স্থাপিত।
★ময়মনসিংহের বিজয় ৭১:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০ সালের জুন মাসে তৈরি হয় এই ভাস্কর্য। ভাস্কর্য শিল্পী শ্যামল চৌধুরী।
★বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য:
দেশের অসংখ্য স্থনে নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বিশাল আকারের মূর্তি। এমনকি দেশীয় অর্থায়নে বিদেশেও নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। কক্সবাজার সাফারি পার্কের প্রবেশদ্বারে শেখ মুজিবের বৃহৎ আকারের মূর্তিটি শোভা পাচ্ছে একটি জামে মসজিদের পাশেই। আমি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর বিশাল আকারের মূর্তি তৈরির কাজ দেখে এসেছিলাম সই ২০০৯ সালে। যমুনা সেতুর নিকটবর্তী স্থানসহ দেশের অসংখ্য জায়গায় বঙ্গবন্ধুর বিশাল বিশাল মূর্তি শোভা পাচ্ছে অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক হলেও।
★মানুষের ভাস্কর্য ছাড়াও:
মানুষের প্রতিকৃতি ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে, রাস্তার মোড়ে ও পর্যটন কেন্দ্রে স্থান পাচ্ছে নানা পশু-পাখি ও জীব-জন্তুর ভাস্কর্য। যেমন দোয়েল চত্বর, বলাকা ভাস্কর্য ইত্যাদি সহ অসংখ্য ভাস্কর্য।
#লেখা প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ও প্রকাশকের সৌজন্যে।
@ দেশে দেশে মূর্তি বা ভাষ্কর্যের ভবিষ্যত পরিণতি।
#বেশি বেশি শেয়ার ও প্রচার করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য