শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

আনুষ্ঠানিক ঐক্যের চেয়ে পারস্পরিক সহনশীলতা খুব বেশি জরুরী-সৈয়দ শামছুল হুদা

 


তামাদ্দুন ২৪ ডটকম: ঐক্য বলতে আমরা সবাইকে এক মঞ্চে উঠতে পারাকেই সাধারণত: মনে করে থাকি। একটি প্ল্যাটফর্মে, একই ব্যানারে আমরা সবাইকে দেখতে চাই।আমরা আমাদের প্রিয় মানুষগুলোকে একসাথে না দেখতে পেয়ে হতাশ হই। আশাহত হই। আমি মনে করি, ঐক্যের এ ধারণাটা ঠিক নয়। সবাইকে একমঞ্চে দেখতে পাবার আশা করাটা একটি কঠিন ও জটিল বিষয়। বাংলাদেশের মুসলমানদের একটি সৌভাগ্য যে, এদেশে বিভিন্ন মতাদর্শের আলেম-উলামা, ইসলামপন্থী গণমানুষের মধ্যে বড় ধরণের দুরত্ব নেই। দূরত্ব যে নেই তার উজ্ব্ল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব। যেই আব্বাসী সাহেব কথায় কথায় জামায়াতের অনেক প্রিয় বক্তাদের তাকফীর ঘোষণা করতেন, সেই আব্বাসী সাহেবের প্রশংসায় জামায়াতের সমর্থকরাও উল্লসিত। অনেক কওমী আলেমের সাথে আব্বাসী সাহেবের কঠিন দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন মাসআলায়। সেই কওমী জগতও আজ তার গুণকীর্তনে মুগ্ধ। কারণটা কি? কারণটা হলো, বৃহত্তর জায়গায় আমাদের মধ্যে মূলত: কোন দূরত্ব নেই। ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেবের প্রশংসায় ভাসছে গোটা ফেসবুক। এটাই উম্মাহকেন্দ্রিক চিন্তা। এটাই ইসলামিক ভ্রাতৃত্ব।

আমাদের এখন খুব বেশি প্রয়োজন সহনশীলতা। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।আমাদের ঘরোয়া আলোচনায়, আমাদের নিজস্ব পরিমন্ডলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধটা জাগিয়ে তোলা দরকার। ফেসবুকে এই যে, আমরা কাদা ছুড়াছুড়ি দেখি, তার মুল কারণ আমরা নিজস্ব পরিমন্ডলে ভিন্নমতাদর্শের আলেমদের শ্রদ্ধার চোখে দেখি না। তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করি। বিশ্রী ভাষায় সমালোচনা করি। এর প্রতিফলনই ঘটে ফেসবুকে। বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ায়। বিভিন্ন আলোচনায়। এই মুহুর্তে সব ঘরানার আলেমদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটা জাগিয়ে তুলতে আমাদের চেষ্টাটা করা উচিত। কাউকে সামান্য ভুলের জন্য একেবারে ছুঁড়ে ফেলা, কোন দলীয় মতাদর্শের সাথে ভিন্নমত পোষণ করার কারণে, অথবা সমালোচনা করার কারণে তাদেরকে তিরস্কারের বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়ার অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হযে আসতে হবে।
আমাদের তরুন প্রজন্ম মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল করীম, মাওলানা মামুুনুল হক, ড. মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মিজানুর রহমান আজহারী, মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখকে একই টেবিলে দেখতে খুব আগ্রহী। আমি মনে করি, উনাদের এক টেবিলে আসাটা খুব জরুরী নয়। সবচেয়ে বেশি জরুরী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুসারীদের মধ্যে মনস্তাত্তিক যে লড়াই চলে, সে লড়াইটা বন্ধ করা। মনে রাখতে হবে, সহনশীলতাই আমাদেরকে অনেক উচুঁ পর্যায়ে নিয়ে যাবে। আমরা কেউ কাউকে যেন পরস্পরের শত্রু মনে না করি। ভিন্নমতের, ভিন্ন দলের হলেও তিনি আমার চূড়ান্ত পর্যায়ের শত্রু না, এটা যখন ভাবতে পারবো, তখন একই মঞ্চে আসার চেয়েও বড় বেশি কাজ হবে।
সমস্যার সৃষ্টি করে অন্ধ ভক্তরা। তারা মনে করে, আমার প্রিয় মানুষটাই সবার সেরা। তার মতো আর কেউ হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, সকলেই নিজ নিজ জায়গায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। একেকজনের গুণ ও কীর্তি আলাদা। নিজ নিজ জায়গায় সকলেই অনেক গুণের অধিকারী। উনারা সকলেই ইসলামী বাগানের নানা বর্ণের ফুল। একেকজনের রং আলাদা। বৈশিষ্ট্য আলাদা। যোগ্যতা আলাদা। কাউকেই একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কারো অনুসারীই কম নয়। তাদেরকে ভালোবাসার মানুষের সংখ্যা ফেলনা নয়।
সুতরাং আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটা অন্তর থেকে জাগিয়ে তুলি। তাদের সকলের জন্য দুআ করি। কেউ কারো কোন বিষয়ে ভিন্নমত করলে তার ওপর একেবারে হামলে না পড়ি। এমনভাবে তার সমালোচনা না করি, যাতে করে সে চরম শত্রুর কাতারে চলে যায়। মনে রাখতে হয় দ্বীনি উখুওয়াত আল্লাহ তায়ালার বড় দান। এটা পয়সা দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। আল্লাহর তৌফিক না হলে এই ভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠবে না। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে এই দুআ করি, তিনি যেন সকল মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা জাগিয়ে দেন।
লেখক: সহ-সভাপতি-জাতীয় লেখক পরিষদ
26.01.2021

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য