শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

দরবারে রাহমানিয়ায় কিছু সময় : অধ্যাপক ডা. মাও. সৈয়দ শামছুল হুদা




তামাদ্দুন ২৪ ডটকম: বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত আলেমে দ্বীন, রাজনীতিবিদ, সংগঠক, আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আজ সকালে জামিয়া রাহমানিয়ায় হাজির হয়েছিলাম। সাথে ছিলেন মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব, মাওলানা আবুল কাশেম আদিল। তারুন্যের আইডল, আমাদের প্রিয় আগামীর জাতীয় রাহবার, আল্লামা মামুনুল হক সাহেব আমাদেরকে সাদরে উনার দরবারে রাহমানিয়া (মাসিক রাহমানী পয়গাম) কার্যালয়ে অভ্যর্থা জানান। দীর্ঘসময় পর্যন্ত চলমান পরিস্থিতি, ঘটনার আড়ালের নেপথ্য কাহিনী, করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
উনার দরবারে উপস্থিত হয়ে একটি কথা বারবার মনে হয়েছে, সেটা হলো, ঈমানদারদের দিল পাখির আত্মার মতো নরম থাকে। সত্যিকার কোন আলেম মিথ্যার আশ্রয় নেয় না। ভুল হলে তা স্বীকার করে। আর এর কারণ, আল্লাহ ভীতিতে আলেমগণই সবার উপরে। আল্লাহর এ কথাটির চেয়ে সত্য আর কী হতে পারে? আলেমদের চেয়ে বেশি আমরা আর কার কথাকে বিশ্বাস করবো? তিনি অকপটে সকল বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। কোন ধরণের সত্য লুকাবার কোন চেষ্টা আমাদের চোখে পড়েনি। কোন ধরণের মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া অথবা আমাদেরকে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে অহেতুক কাউকে দোষারূপ করার দিকে তিনি যাননি।
সংঘটিত ঘটনার ব্যাপারে তিনি সরকারকে কোনরূপ দায়ী করেননি। কিছু অতিউৎসাহি গোয়েন্দা, স্থানীয় উৎশৃংখল দলীয় কর্মী এবং কতিপয় সাংবাদিক যারা আসলে সত্যিকার অর্থে কেহই সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শ মেনে কাজ করেন না এদের কারণে এবং উনার সময় বাস্তবতার বিষয়টির গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবনে ব্যর্থতার কারণে ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে। এরপর এটা নিয়ে নানা ঘুটি চালাচালি হয়েছে। এটা যদি পুর্ব পরিকল্পিত হতো, তাহলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন থেকে উনা ছাড়া পেতেন না। পুলিশের কয়েকজন দায়িত্বশীল উনার সাথে সুন্দর আচরণ করেছেন। যে কারণে তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখিও হতে হয়েছে। সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা শক্তিটি বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় তারা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ক্ষোভও ঝেড়েছেন।
শর্তসাপেক্ষে ঘটিত বিয়ের বিষয়টি তিনি আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন। যেটা উনার জন্য কাল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এটা হয়তো পছন্দ করেননি। এ জন্য উনার ওপর দিয়ে যে অনাকাঙ্খিত ঝড় বয়ে গিয়েছে তার জন্য তিনি নিজেই অনুতপ্ত। আমরা দূর থেকে অনেকে অনেক কথা না জেনে, কেউ পক্ষে ভুল তথ্য প্রকাশ করছি। কেউ হিংসে বশত: তাকে দমিয়ে দেওয়ার জন্য নানা এ্যঙ্গেলে কথা বলে পরিবেশ ভারি করছি। মাফিয়া পাপিয়াদের বিষয় নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকতে থাকতে এক ধরণের মেজাজ আমাদের মধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। সে কারণে একজন আলেমের বিষয়টিকে আমরা খুব স্বাভাবিকভাবে সে দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছি। ফেসবুকীয় ডামাঢোলের আওয়াজে আমরা বিবেচনাবোধ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আর এক্ষেত্রে উনার অসতর্কতা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সারাদেশে এটা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শরিয়াতের দৃষ্টিতে বিয়ে, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, ইত্যাদি বিষয়ে উনার সাথে যারা বসেছেন, যারা কথা বলেছেন তাদের সকলের কাছে খুব পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। বাকী প্রচলিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইনের বিষয় অনুশীলনে কিছুটা অপরিচ্ছন্নতা থাকায় নানা দিক থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমনকি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপদে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। যেমনটা ২০১৩সালে হেফাজত ম্যাসাকারে শাপলা চত্বরে শহীদদের নিয়ে রং মাখার কথা বলে পরবর্তীতে নিজেই লজ্জিত হয়েছিলেন। এখানেও তাই ঘটেছে। অতিউৎসাহিরা ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে সরকারকে উস্কে দিতে চেয়েছে উনার ওপর পুর্ব ক্ষোভ ও রাগ থাকায়। সংঘাতটা বেজেছে যে জায়গায় সেটা হলো, শরিয়াতের মেজাজতো আমাদের দেশের মিডিয়া, প্রশাসন বা সরকার মোটেও অনুধাবন করে না। ফলে খুব দ্রুত বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে নানা রস যুগিয়েছে।
উনি উনার অবস্থানে আগাগোড়াই দৃঢ় আছেন। অবিচল আছেন। শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত কোন কথায় নড়বড়ে আচরণ করেননি। বাংলাদেশে বর্তমান সময়টায় কী পরিমান উনাকে নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে সেটার প্রতি তিনি সুবিচার করতে পারেননি। উনি নিজেই বলেন, আমি লিডার হতে চাই না। আমি আগামীর কিছু মানুষ তৈরি করতে চাই। সে জন্য আমি প্রতিনিয়ত তরুন প্রজন্মের পরিশ্রমি, মেধাবী একঝাঁক সম্ভাবনাময় তরুনের সামনে প্রেরণামূলক কথা বলি। কিন্তু বাস্তবতা আমাকে সামনে ঠেলে দিয়েছে। আমি যেখানে থাকি, সেখানে অন্য কেউ এগিয়ে আসে না। দায়িত্ব নেয় না। সবাই আমাকে সামনে ঠেলে দেয়।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে নিয়েও তিনি অনেক আশাবাদি। তিনি এ জাতীয় সংগঠনের মাধ্যমে উম্মাহর কিছু খেদমত করতে চান। নিজে সামনে থেকে রাষ্ট্রকে একেবারে পাল্টে দেওয়ার কাজটি করতে চান না। এক্ষেত্রে যে সব রাজনৈতিক বড়দলগুলো রয়েছে সেগুলোকেই উপযুক্ত মনে করেন। রাষ্ট্র কোন ভুল করলে সেটা শুধরে দেওয়া, কিছু যোগ্য মানুষ তৈরি করা এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বড় কিছু গড়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
উনাকে সামনে পেয়ে হেফাজত সম্পর্কিত অনেক বিষয় তুলে ধরলে, তিনি বলেন, হুদা ভাই, আপনার সব লেখা আমি পড়ি। খুব মনযোগের সাথেই পড়ি। এত ব্যস্ততার ভেতরেও তিনি আমার সবগুলো লেখা পড়েন জেনে ভালো লেগেছে। হেফাজতকে একটি নিয়মতান্ত্রিক সংগঠনে পরিণত করা, হেফাজতে অন্যান্য দ্বীনি অংগনের ভাইদের সম্পৃক্ত করা, বিগত হরতাল ও বিক্ষোভে শহীদ ও আহত ভাইদের বিশেষভাবে খোঁজ-খবর নেওয়া, সহযোগিতা করা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
কাছে পেয়ে উনাকে আমরা কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছি। যতদূর সম্ভব সোস্যাল মিডিয়ায় সামনে আসা থেকে দূরে থাকা, সরকারের সাথে অনাকাঙ্খিত সংঘাত তৈরি হয় এমন বক্তব্য-বিবৃতি থেকে নিভৃত থাকা, হেফাজতের মুখপাত্র হিসেবে অন্য কাউকে সামনে নিয়ে আসা, বিশেষভাবে মুফতি সাখাওয়াত সাহেবকে মিডিয়ার সামনে আসতে সহযোগিতা করা, এছাড়াও অন্যান্যদের হেফাজত বিষয়ে কথা বলতে সামনে দেওয়া, নিজে একটু দূরে থাকা এসব আবদার রেখেছি। এছাড়া উভয় স্ত্রীকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সাথে নিজের হেফাজতে রাখা। পারিবারিক বিষয়ে কোন জরুরী প্রয়োজন হলে অন্য কাউকে দিয়ে সেটা মিডিয়ায় ফেস করা ইত্যাদি বিষয় দ্বীনি ভাই হিসেবে আবেদন রেখেছি।
একটি কথা এখানে বলে রাখতে চাই, মামুনুল হক একজন রক্তে-মাংসে মানুষ, তাঁরও ভুল হতে পারে। তিনি রাজনীতি শিখছেন। তারপরও উনার মধ্যে যে সম্ভাবনা রয়েছে, উনার মধ্যে যে সম্মোহনী শক্তি রয়েছে এটা ভবিষ্যতে দেশ ও উম্মাহর কল্যাণে অনেক কাজে আসবে। উনাকে বিতর্কিত করতে যারা উঠেপড়ে লেগেছে তারা উনার চেয়ে খুব উৎকৃষ্টতর রাজনীতি এখনো উপহার দিতে পারেননি। তাই কোন সম্ভাবনাময় শক্তিকে শুরুতেই চরমভাবে বিতর্কিত করে আমাদের খুব একটা অর্জন হবে বলে মনে হয় না। আর দেশের কোটি কোটি মানুষকে খুশি করে, সকলকে সন্তুষ্ট করে কারো পক্ষেইতো রাজনীতি করা সম্ভব নয়।
পরিশেষে সকলের কাছে অনুরোধ করবো, আমরা এ বিষয়ে যত কম কথা বলবো, ততই সকলের জন্য নিরাপদ। আর কোন বিষয় পরিস্কার না জেনে ধারণাবশত: অনেকে অনেক কথা বলে গোনাহের ভাগিদার হয়েছি, এ থেকেও দূরে থাকবো। আর বর্তমানে কিছু মিডিয়া লাগামহীনভাবে যে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে সেগুলো যার যার সামর্থের ভেতর থেকে সম্ভব হলে প্রতিবাদ করা, না হলে চুপ থাকা। আমরা অনেক সময় আবেগ বশত: মূল তথ্য না জেনে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেরাই ভুলের মধ্যে ফেঁসে যাই। মিডিয়ার আক্রোশ কোথায় এবং কেন আমরা তা বুঝি। অনেক মিডিয়ায় নিজের ইচ্ছায় চলে না। প্রভুদের খুশি করতে গিয়ে একজন আলেমের চরিত্র হননকে ইবাদত মনে করে। আর সে জন্য রং-রস লাগিয়ে মিথ্যাকে বারবার প্রচার করতে থাকে। যেহেতু সেগুলো বড় মিডিয়া হাউস, তারা মনে করে একটি কথা বারবার বললে সাধারণ মানুষ তাদেরটাই বিশ্বাস করবে। আলেমদেরকে মানুষ সন্দেহের চোখে দেখবে তাই তারা বেপরোয়াভাবে মিথ্যাচার করে। বর্তমানে এক্ষেত্রে কালেরকণ্ঠ নামক মিডিয়াটি সবার শীর্ষে রয়েছে। তারা মনে করে, যেহেতু আলেমদের হাতে কোন মিডিয়া নাই সেহেতু তাদের মৃদু আওয়াজ কেউ শুনবেই না। তাদের প্রোপাগান্ডাই মানুষ বিশ্বাস করে আলেমদেরকে আস্থার জায়গা থেকে দূরে ঠেলে দিবে। এ বিষয়ে আমরা সকলে সতর্ক থাকি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হেফাজত করুন।
10.04.2021

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ